অনলাইন ডেস্ক:
পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ভারতের জন্য এক মাসের জন্য আরও বন্ধ রাখবে। গতকাল (রোববার) পাকিস্তানের সূত্রের বরাতে দ্য নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান আগামী সপ্তাহে ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধ রাখার সময়সীমা আরও এক মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত মাসে ভারতের পেহেলগাম-এ সশস্ত্র হামলা হওয়ায় উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ হামলার পর ভারত ২৩ এপ্রিল পাকিস্তানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়, এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তাদের আকাশসীমা ভারতের জন্য বন্ধ করে দেয়।
পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ সূত্র দ্য নিউজকে জানিয়েছেন, যে পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানকে এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা হয়েছিল, সেখানে এখনও কোনো উন্নতি হয়নি। অতএব, পাকিস্তান এক মাসের জন্য আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আরো এক মাস বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
এছাড়া, পাকিস্তানের বিমান পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিমানকর্মীদের জন্য একটি নতুন নোটিশ জারি করা হবে। তবে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও)-এর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ এক মাসের বেশি সময় ধরে আকাশসীমা বন্ধ রাখতে পারে না।
গত মাসে পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে সামরিক সংঘর্ষের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি ২৪ এপ্রিল থেকে ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এই নিষেধাজ্ঞা ২৩ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং এটি বাণিজ্যিক ও সামরিক উভয় বিমানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
পাকিস্তান ভারতীয় আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ার কারণে, শত শত ভারতীয় ফ্লাইট ব্যাহত হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোকে দীর্ঘ দূরত্বের রুটে মাঝপথে অতিরিক্ত স্টপ করতে হচ্ছে। প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০টি ভারতীয় বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা অতিক্রম করতো, যা ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকা পর্যন্ত যাতায়াত করতো।
এদিকে, পাকিস্তানের উপর এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। কারণ পাকিস্তানে কেবল একটি পূর্বমুখী ফ্লাইটই প্রভাবিত হচ্ছে। পাকিস্তান ইতোমধ্যে দূরপ্রাচ্যের বিমান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে, ফলে পাকিস্তানের উপর এর প্রভাব কম পড়েছে।
পাকিস্তান ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করার ঘটনা নতুন নয়। ১৯৯৯ সালে কার্গিল সংঘর্ষ এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলা পরেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে উভয় ক্ষেত্রেই, ভারতের জন্য পরিণতি ছিল অনেক গুরুতর।











