অনলাইন ডেস্ক:
ভারতের অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল রোববার তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বিজেপি যুব মোর্চার এক নেতার অভিযোগের পর, পুলিশ মাহমুদাবাদকে গ্রেফতার করে। তার মন্তব্যে তিনি কর্নেল সোফিয়া কুরেশি’র প্রশংসা করার পাশাপাশি, গণপিটুনি, বুলডোজার অভিযান এবং ঘৃণার রাজনীতির শিকার নাগরিকদের রক্ষা করার দাবি জানানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেন, “এটি যদি বাস্তবতার প্রতিফলন না হয়, তবে তা কেবলই ভ-ামি ছাড়া আর কিছু নয়।”
ভারতের হরিয়ানা রাজ্য মহিলা কমিশনও এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠায়। তাদের দাবি, অধ্যাপক মাহমুদাবাদের মন্তব্য ভারতের সেনাবাহিনীর নারী কর্মকর্তাদের অবমাননা করেছে এবং সাম্প্রদায়িক বিভেদ ছড়িয়েছে। মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান রেনু ভাটিয়া বলেন, “তার মন্তব্য ইউনিফর্ম পরা নারীদের অবমাননা করেছে, বিশেষ করে কর্নেল কুরেশি ও উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং’র অবদানের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়েছে।”
অশোকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং মাহমুদাবাদের গ্রেফতারের বিষয়টি জানে। বিশ্ববিদ্যালয় তদন্তের জন্য সুষ্ঠু পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মাহমুদাবাদ তার মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে দাবি করে বলেন, তিনি শুধু সংবিধানপ্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রয়োগ করে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা দিতে চেয়েছিলেন।
২২ এপ্রিল, ভারত শাসিত কাশ্মীরে পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যার পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মে অপারেশন সিঁদুর এর মাধ্যমে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামোতে হামলা চালায়। ওই অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কর্নেল কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং।
সূত্র: এনডিটিভি











