নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন আগামী ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে যেকোনো সময় অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি বুধবার জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লিগের সভাপতি তারো আসোকের সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনূস নির্বাচন সম্পর্কে স্পষ্ট করেছেন যে, ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হবে এবং জুনের পর একদিনও তিনি ক্ষমতায় থাকবেন না।’
তিনি আরও জানান, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে নির্দিষ্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন প্রধান উপদেষ্টা। পাশাপাশি জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ হিসেবেও কাজ করবে।
অন্তর্বর্তী সরকার বর্তমানে অর্থনীতি স্থিতিশীলকরণ, প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কার এবং নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য ও মতপার্থক্য চিহ্নিত করছেন। আগামী জুনের শুরুতে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু হবে, আশা করা হচ্ছে জুলাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক সংস্কারের গতি বৃদ্ধি পাবে।
প্রেস সচিব বলেন, ‘সরকার কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা অনুভব করছে না, রাজনৈতিক দলগুলো প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আস্থা প্রকাশ করেছে।’
প্রধান উপদেষ্টা বুধবার টোকিও পৌঁছে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকেও বাংলাদেশের সংস্কার অগ্রগতি তুলে ধরেন। তারো আসো বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ব্যাংক খাত সক্রিয় করা, বৈদেশিক মুদ্রা বাজার স্থিতিশীল করা এবং বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পরিশোধের ফলে দেশের অর্থনীতি অনেক ভালো অবস্থায় রয়েছে।
রোহিঙ্গা বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গা তরুণ প্রজন্ম হতাশার মধ্যে বড় হচ্ছে এবং তাদের স্বদেশে ফিরে উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি জাপানের সহায়তায় মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী ও এসডিজি প্রধান সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।











