অনলাইন ডেস্ক :
বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন যেন ‘মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ হয়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মারি মাসদুপুই। রাজধানীতে ফরাসি দূতাবাসে ফ্রান্সের জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচন কমিশন খুব ভালোভাবে কাজ করবে। এটা তাদের উদ্দেশ্য বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তাই আশা করছি, নির্বাচনটি যতটা সম্ভব অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে।” তবে নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, তা নির্ভর করছে প্রস্তুতির ধরন ও প্রয়োগের ওপর—এ কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এক প্রশ্নের উত্তরে মারি মাসদুপুই বলেন, “আমরা জানি, বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। যতক্ষণ না তারা নিজেদের সংস্কার করে, ক্ষমা চায় এবং কিছু নেতার বিচার সম্পন্ন হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ কঠিন।”
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র বড় রাজনৈতিক দল নয়, স্বতন্ত্র ও ছোট দলের অংশগ্রহণও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য জরুরি। যত বেশি দল অংশ নেবে, নির্বাচন ততই বৈচিত্র্যময় ও গণতান্ত্রিক হবে।
রাষ্ট্রদূত জানান, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ‘মুক্ত ও সুষ্ঠু’ নির্বাচন আয়োজনের জন্য কাজ করছে এবং ফ্রান্স এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে। ইউরোপীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
অবশ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, “গণতন্ত্র মানে স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব এবং সর্বোপরি অন্তর্ভুক্তি। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধান উপদেষ্টার বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ সত্যিকারের গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।”
এয়ারবাস ক্রয় নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত মাসদুপুই জানান, “আলোচনা এখনো চলছে, এটি বন্ধ হয়নি।” তিনি বলেন, “আমরা চাই, বাংলাদেশ বিমান বহরে এয়ারবাস এবং বোয়িং উভয় ধরনের উড়োজাহাজ রাখুক—এতে যাত্রীদের জন্য বৈচিত্র্যপূর্ণ সেবা নিশ্চিত হবে।”
এদিকে, এয়ারবাসের নির্বাহী সহ-সভাপতি ওয়াউটার ভ্যান ওয়ার্স সম্প্রতি লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানান, বাংলাদেশকে তারা একটি অগ্রাধিকারভুক্ত দেশ হিসেবে দেখছে। যদি বাংলাদেশ এয়ারবাস বিমান যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ইসিএ’র মাধ্যমে ৮৫ শতাংশ অর্থায়নের সুযোগ থাকবে।
ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, “বাংলাদেশের চলমান সংস্কারের প্রতি ফ্রান্সের সমর্থন রয়েছে। আমরা সরকারের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে চাই।” জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় মহাকাশ প্রযুক্তির মাধ্যমে সহায়তার কথাও তিনি জানান।
তিনি বলেন, “আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ইতিবাচক এবং নানা খাতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আমরা সেই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”











