অনলাইন ডেস্ক:
অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী জিনাত সানু স্বাগতা তার লিভ টুগেদার প্রসঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্যের জন্য আইনি নোটিশ পেয়েছেন। মুহম্মদ আরিফুল খবির নামের একজন ব্যক্তি তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে স্বাগতার কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গত শনিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহম্মদ মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরীর মাধ্যমে মুহম্মদ আরিফুল খবির স্বাগতাকে এই নোটিশ পাঠান। সেখানে বলা হয়েছে, স্বাগতা তার সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, তিনি হাসান আজাদের সঙ্গে এক বছর লিভ টুগেদার করেছেন এবং এই জীবনযাপনকে উৎসাহিত করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, এটি ইসলামী মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই বক্তব্য মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। স্বাগতাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে সাত দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনি নোটিশের বিষয়ে অভিনেত্রী স্বাগতা বলেছেন, “আমি কাউকে লিভ টুগেদারে উৎসাহ দিইনি। এটি যার যার ব্যক্তিগত রুচি ও পছন্দের বিষয়। আমার কথায় কেউ লিভ টুগেদার করবে, এমনটা ভাবা ভুল।”
তিনি আরও বলেন, “যার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে, তাকে বলবো, নিজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিয়ম মেনে চলুন। আমার নিয়ম আপনাকে মানতে হবে না। আমি কোন বাস্তবতায় কী করেছি, সেটা অন্য কেউ বুঝতে পারবেন না।”
স্বাগতা একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমি আর হাসান এক বছর লিভ টুগেদার করেছি। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিয়ে করার। আমাদের পরিবারও এতে সম্মতি দিয়েছে। আমার ভাই-বোনও বলেছে, বিয়ের আগে একসঙ্গে থাকা ভালো, যাতে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সমাজ প্রথমে আমাদের বিষয়টি মানতে সময় নিয়েছিল। তবে পরে এটি স্বাভাবিক হয়ে যায়। আমি মনে করি, সমাজে অনেক পরিবর্তন আসছে। ডিভোর্স যেমন নরমালাইজ হচ্ছে, তেমনি লিভ টুগেদারও একদিন নরমালাইজ হবে।”
চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি স্বাগতা তার প্রেমিক হাসান আজাদকে বিয়ে করেন। হাসানের জন্ম এবং পড়াশোনা যুক্তরাজ্যে। তিনি সংগীতের সঙ্গে যুক্ত আছেন।
এই ঘটনা লিভ টুগেদার প্রসঙ্গে সমাজে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাগতার অবস্থান এবং এই ইস্যুর ভবিষ্যৎ ফলাফল এখন নজর কাড়ছে সবার।











