সব শ্রেণির করদাতার জন্য বাধ্যতামূলক হলো অনলাইন আয়কর রিটার্ন
অনলাইন ডেস্ক:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করতে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। চলতি সপ্তাহের প্রথমদিন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। ২০২৫-২৬ করবর্ষ থেকেই এ বাধ্যবাধকতা কার্যকর হবে।
এই নির্দেশনা অনুসারে, দেশের সব সাধারণ করদাতাকে নির্ধারিত ওয়েবসাইট বঃধীহনৎ.মড়া.নফ-এর মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে চারটি শ্রেণির করদাতাকে এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ছাড়প্রাপ্ত চার শ্রেণি হলেন –
৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা (যথাযথ সনদসহ), বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক এবং মৃত করদাতার পক্ষ থেকে দায়িত্বরত আইনগত প্রতিনিধি। যদিও তারা ইচ্ছা করলে অনলাইন পদ্ধতিতেই রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব ব্যতিক্রম ছাড়া অন্য কেউ অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে অক্ষম হলে যুক্তিসহ আবেদন করে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের মাধ্যমে অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে পেপার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা, করদাতার হয়রানি কমানো এবং কর সংগ্রহ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল মাধ্যমে আরও সহজ ও কার্যকর করে তোলা।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১ কোটি ১২ লাখের বেশি টিআইএনধারী করদাতা রয়েছেন। তবে প্রতিবছর রিটার্ন দাখিল করেন মাত্র ৪০ লাখের মতো। অথচ আয়কর আইনের ৮৭ ধারায় বলা আছে, টিআইএনধারী যেকোনো ব্যক্তি যদি বছরজুড়ে কোনো আয়কর প্রদান করে থাকেন, তবে তার জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
গত বছর নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির জন্য রিটার্ন দাখিল অনলাইনে বাধ্যতামূলক করা হলে ১৭ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দেন। এতে করদাতাদের ব্যাংকে যাওয়ার ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসেই কর পরিশোধ করার সুবিধা তৈরি হয়। তারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট কিংবা নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধ করতে পেরেছেন।
অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় কোনো কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে এনবিআরের কল সেন্টার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সেবা পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেও অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারা যেন এ নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রচার করে এবং তাদের কর্মীদের এ বিষয়ে সচেতন করে।
এনবিআরের এ উদ্যোগ দেশের কর সংস্কৃতিতে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা। কর সংগ্রহ পদ্ধতির এই আধুনিকায়নের ফলে একদিকে করদাতার ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায়ও হবে আরও নির্ভরযোগ্য ও বিস্তৃত।
