ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণে এডিবির ১৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা

প্রকাশিত: 4 August 2025, 9:27 pm
ফন্ট:

অনলাইন ডেস্ক:

বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) খাতে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এই অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের কর্মসংস্থানের সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
গত রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী ও এডিবির বাংলাদেশ প্রতিনিধি হোয়ে ইউন জিয়ং নিজ নিজ পক্ষে ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হোয়ে ইউন জিয়ং জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এ কর্মসূচি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাত-যান্ত্রিক, ইলেকট্রনিক্স ও বৈদ্যুতিক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সিভিল এবং খাদ্য ও কৃষি-কে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে।
এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি শিক্ষার সম্প্রসারণ নয়, বরং এর মাধ্যমে মর্যাদাসম্পন্ন ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে প্রশিক্ষণের প্রসার ঘটবে, যেখানে নতুন ও বর্তমান টিভিইটি শিক্ষকরা আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।
এডিবি জানায়, ‘টিভিইটি টিচার্স ফর দ্য ফিউচার’ নামে নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে অন্তত ১০ হাজার শিক্ষককে উদীয়মান প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে শিক্ষক উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও প্রতিবেদন ব্যবস্থা হবে আরও শক্তিশালী। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী উপকৃত হবে, যাদের অনেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে দক্ষ জনবল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

এই সহায়তা সরকারের টিভিইটি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারের লক্ষ্য, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে টেকসই ও কর্মসংস্থানমুখী করে তোলা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও জোরদার করা।
উল্লেখ্য, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবকাঠামো, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এবারের ঋণ সহায়তাও সেই ধারাবাহিক অংশীদারিত্বেরই আরেকটি উদাহরণ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত শিক্ষক তৈরি ছাড়া টেকনিক্যাল শিক্ষার কাক্সিক্ষত মান অর্জন সম্ভব নয়। এ কর্মসূচি সেই ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেই তাদের আশা।

মন্তব্য করুন