ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

বিদেশি ঋণের বোঝায় চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতি

প্রকাশিত: 6 October 2025, 12:33 pm
ফন্ট:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিদেশি ঋণের চাপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে যেখানে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১২ বিলিয়ন ডলারে। এই ঋণ বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পরিশোধের দায়। চলতি অর্থবছরেই প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যা পাঁচ বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণ নেওয়া নিজে সমস্যা নয়, বরং সমস্যা তখনই তৈরি হয় যখন সে ঋণের বিনিময়ে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক আয় আসে না বা সময়মতো আসে না। বাংলাদেশের অবস্থা এখন অনেকটা সে রকমই। মেগা প্রকল্প— যেমন পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কর্ণফুলী টানেল—যেখানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি ঋণ ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলোর সুফল পেতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। অথচ ঋণ পরিশোধ শুরু হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ১০৪.৮ বিলিয়ন ডলার, যা তিন মাসের ব্যবধানে বেড়ে হয়েছে ১১২ বিলিয়ন ডলার—বৃদ্ধি প্রায় ৭৩৬ কোটি ডলার। গত সাড়ে ১৫ বছরে এই ঋণ বেড়েছে প্রায় ৮১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৮২% সরকারি খাতে এবং ১৮% বেসরকারি খাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি, জাইকা, এআইআইবি সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছে। তবে সমস্যা হলো, রপ্তানি আয় ও রাজস্ব আহরণ সেই হারে বাড়ছে না। এতে করে ঋণ-রপ্তানি অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৬২% এবং ঋণ-রাজস্ব অনুপাতও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

আইএমএফ এর সাম্প্রতিক শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৮.৪৪ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ নিতে পারবে। সংস্থাটির ঋণ বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে ঋণ পরিশোধে সক্ষমতা নিয়ে বাংলাদেশকে এখনই সতর্ক হতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন ও ড. সেলিম রায়হান মনে করছেন, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, রপ্তানি আয়ের সীমাবদ্ধতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে ভবিষ্যতে বাংলাদেশও ঋণ সংকটে পড়তে পারে—যেমনটি হয়েছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান কিংবা ঘানার ক্ষেত্রে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্য, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে ঋণ নির্ভরতা কমানো, এবং ঋণ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য করুন