জেলা প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শহীদ মিনারে রংপুর বিভাগীয় শিক্ষার্থীদের আয়োজনে রোববার সন্ধ্যায় তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য অংশ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে র্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান এবং প্ল্যাকার্ডে নানা স্লোগান প্রদর্শন করেন—“ভারত যদি বন্ধু হও, পানির ন্যায্য হিস্যা দাও”, “তিস্তা পাড়ের কান্না, আর না আর না”, “উত্তরের এই বৈষম্য, মানি না মানবো না”, “জাগো বাহে কোনঠে সবাই, আইসো মিলে তিস্তা বাঁচাই” ইত্যাদি।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্স ছাত্র মুক্তাদির রহমান মুনিম বলেন, তিস্তার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, সমগ্র বাংলাদেশের কৃষি-বান্ধব উন্নয়ন সম্ভব হবে এবং জাতীয় অর্থনীতির অবদান বাড়বে—এজন্য দ্রুত কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। একই অপশক্তিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) রাসেল আহমেদ অভিযোগ করেন, তিস্তার তীরবর্তী জনগণ বছরের পর বছর নদী ভাঙন ও ক্ষতির শিকার; তিনি বলছেন, অতীত কোনো সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষম হয়নি কারণ তারা বিরূপ পররাষ্ট্র প্রক্রিয়ায় বাধা পেয়েছে এবং এই তাবেদারি আর বরদাশত করা হবে না।
চাকসু নবনির্বাচিত সহ-ছাত্রীকল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা বলেন, প্রতিবেশী দেশ যখনই পানির কারণে ক্ষতি করে, তা গ্রহনযোগ্য নয়; দেশের মানুষ শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কষ্ট ভোগ করবে আর বর্ষায় ঘরবাড়ি ডুববে—এ অবিচারের অবসান চাই। সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত রোডম্যাপ প্রকাশ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় জনবল দেশীয়ভাবে নিয়োগ ও দক্ষতা গড়ে তুলবে; পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে স্বার্থবিরোধী যে কোনো চুক্তি বাতিল করে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য তৎপর হতে হবে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা আগামীতে আরও সংগঠিত উদ্যোগের হুঁশিয়ারি দান করেছেন, এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা সোচ্চার থাকার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছেন।











