সাভারে ড্যাফোডিল ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে শতাধিক আহত

জেলা প্রতিনিধি :

ঢাকার সাভারে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে টানা রাতভর সংঘর্ষ, ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ও একাধিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘটনায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাতভর এ সংঘর্ষে অন্তত ৮–১০টি গাড়ি পুড়ে যায় এবং ভিসি অফিস, রেজিস্ট্রার অফিস, কম্পিউটার ল্যাবসহ সিটি ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছেন সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া। বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসা ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস হোস্টেল’-এর পাশে বসেছিলেন সিটি ইউনিভার্সিটির কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় এক শিক্ষার্থীর থুতু অসতর্কতাবশত ড্যাফোডিলের এক শিক্ষার্থীর গায়ে লাগলে উভয়পক্ষে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

পরে রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস’ হোস্টেলে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মধ্যরাতে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির কয়েক হাজার শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সিটি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে হামলা চালায়। তারা প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে একাধিক অফিস ও কক্ষ ভাঙচুর করে এবং গাড়িতে আগুন লাগায়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

সংঘর্ষ চলে ভোর রাত ৪টা পর্যন্ত। উভয় পক্ষের শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন, তাদের মধ্যে অন্তত ৩০–৩৫ জনকে সাভার ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে সোমবার সাভারের আশপাশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজে ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।