আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের অন্য হাসপাতালে প্রশিক্ষণের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি চিঠি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

 

রোববার (১৪ জুন) চিঠিটি পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না, তবে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখতে বিকল্প হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে।

 

এর আগে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এমবিবিএস কারিকুলাম অনুযায়ী তৃতীয় বর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ এবং স্নাতক শেষে এক বছরের ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক। ফলে হাসপাতাল না থাকায় বাস্তব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

 

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, “হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হলেও মেডিকেল কলেজ বন্ধ হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য অন্য হাসপাতালে সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে। কলেজকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ করতে হবে।”

 

তিনি আরও জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষকে নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে আনা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে কোন হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করা হবে তা জানাতে হবে।

 

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত সরকারি বা বেসরকারি জেনারেল হাসপাতাল কিংবা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকলেও এবার আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজকে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গেই চুক্তি করতে হবে।

 

প্রসঙ্গত, ২৭ মে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একাধিক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। পরে তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়ার পর ১১ জুন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার।