নিজস্ব প্রতিবেদক :
দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন জটিলতা ও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার ঘটনার পর ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) সম্মেলনে অংশ না নিয়েই দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সোমবার (১৫ জুন) তিনি কলম্বো হয়ে ঢাকায় পৌঁছান। এ ঘটনায় কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং কী কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখছে সরকার।
জানা গেছে, ১৫ ও ১৬ জুন ভারতে অনুষ্ঠিত আইওআরএর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। এ সফর উপলক্ষে শুক্রবার (১৩ জুন) দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছিল। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সফর নিয়ে প্রয়োজনীয় যোগাযোগও সম্পন্ন করা হয়েছিল।
রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য আটকে রাখে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং ভারতে প্রবেশের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। পরে পরিস্থিতিকে আত্মসম্মানের প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করে তিনি সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮ সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি নজরদারি তালিকায় নাম থাকার কারণে ইমিগ্রেশন পর্যায়ে অতিরিক্ত যাচাই করা হয়। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, তথ্য হালনাগাদ না হওয়ার কারণে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাকে প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল। তবে ততক্ষণে ডা. জাহেদ উর রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রোববার রাতে দিল্লি থেকে সরাসরি ঢাকার ফ্লাইট না থাকায় তিনি প্রথমে কলম্বোর উদ্দেশে রওনা দেন। সোমবার (১৫ জুন) সেখান থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালেও তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।
এদিকে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজনে কূটনৈতিক পর্যায়েও বিষয়টি উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে আগাম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের পরও একজন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিনিধির বিমানবন্দরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয়। ফলে ঠিক কোথায় প্রশাসনিক বা যোগাযোগগত ত্রুটি ঘটেছে, সেটিই এখন প্রধান প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।











