দেশে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, দেশজুড়ে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক:

গবাদিপশুর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি অ্যানথ্রাক্স নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংক্রামক এই রোগটি সাধারণত আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শে এলে বা অসাবধানতাবশত সংক্রমিত পশুর মাংস নাড়াচাড়া ও গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ও সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব রোধে রাজধানীসহ সারাদেশে মাঠপর্যায়ে বিশেষ নজরদারি ও সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যানথ্রাক্স একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা মূলত ‘ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস’ নামক জীবাণুর মাধ্যমে গবাদিপশুতে ছড়ায়। বর্ষা বা ঋতু পরিবর্তনের সময় গ্রামীণ অঞ্চলে গবাদিপশুর মধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। আক্রান্ত পশুর মাংস সঠিকভাবে সেদ্ধ না করে খেলে কিংবা পশুর চামড়া ও রক্ত প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় মানুষের ত্বকে, ফুসফুসে বা পরিপাকতন্ত্রে এই রোগের সংক্রমণ হতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না নিলে এটি মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে ইতোমধ্যেই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় অতীতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল, সেসব স্থানে গবাদিপশুর ভ্যাক্সিনেশন বা টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত বা হঠাৎ মারা যাওয়া কোনো গবাদিপশু কাটাকাটি না করে অন্তত ছয় ফুট গভীর গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়ার জন্য খামারি ও সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে অসুস্থ বা অস্বাভাবিক লক্ষণযুক্ত পশুর মাংস কেনাবেচা ও গ্রহণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি পশুর মাংস কাটার সময় গ্লাভস ব্যবহার এবং ভালো করে সেদ্ধ করে রান্নার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তির শরীরে কালো রঙের জখম বা ফোস্কার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।