নিজস্ব প্রতিবেদক:
পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দেশের ১২টি শিল্পগ্রুপ ও গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট সব পরিচালকসহ মোট ২০৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ পোশাক খাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির নেপথ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ভরযোগ্য সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত এসব প্রভাবশালী ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব দ্রুত শনাক্ত ও অবরুদ্ধ করার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়ে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে এনবিআরের দুটি গোয়েন্দা ইউনিট। একই সঙ্গে আলোচিত এই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিগত দিনগুলোর সব ধরনের লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণও তলব করেছে সংস্থাটি।
এনবিআরের তৈরি করা এই দীর্ঘ তালিকায় অতীতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালনকারী প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য ও পরিচিত মুখগুলোর মধ্যে রয়েছেন সালমান এফ রহমান (বেক্সিমকো গ্রুপ), আবদুস সালাম মুর্শেদী (এনভয় গ্রুপ), টিপু মুনশি (সেপাল গ্রুপ), শাহরিয়ার আলম (রেনেসাঁ গ্রুপ), নসরুল হামিদ (হামিদ গ্রুপ) এবং তাজুল ইসলাম (ফেবিয়ান গ্রুপ)।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে যাঁদের ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দের তালিকায় রাখা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন টুসুকা গ্রুপের ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের আবদুস সালাম, নিপা গ্রুপের মো. খসরু চৌধুরী, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের এ কে এম মোশাররফ হুসাইন, অ্যাক্সিস নিটওয়্যার্স লিমিটেডের জাহিদ আহমেদ টুলু, গিভেন্সি গ্রুপের মাসুমা খাতুন লিপা এবং তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচি।
এর বাইরেও বর্তমানের আলোচিত ব্যাংক হিসাব জব্দ করার এই বিস্তৃত তালিকায় যুক্ত রয়েছে জাতীয় দলের প্রখ্যাত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের ভগ্নিপতি আলিফ মোল্লার নামও।











