নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী অভিযোগ করেছেন, পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনা সেখান থেকে উসকানি দিয়ে তার রেখে যাওয়া সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে পোশাক শিল্পে আগুন দিচ্ছেন এবং মানুষ হত্যার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোশাক খাতের সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে রিজভী বলেন, সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে কথা বলেছে এবং ওয়েজ বোর্ডের ব্যাপারে আশ্বাস প্রদান করেছে। বর্তমানে মূল শ্রমিকরা আন্দোলনের পথে নেই। যারা পুলিশের গাড়িতে আগুন দিচ্ছে এবং আন্দোলনকারীদের পিটিয়ে মারছে, তারা মূলত শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া গুণ্ডা ও সন্ত্রাসী। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক নেতাও রয়েছেন, যিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে, এই মদদ ও উসকানি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আসছে।
বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বেসিক ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা লুট ও পাচার করা হয়েছে। চট্টগ্রামের একজন সাবেক মন্ত্রী ও এমপির ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বাড়ি ইংল্যান্ড সরকার বাজেয়াপ্ত করেছে। এই লুটের রাজত্ব পুনরায় কায়েম করতেই শেখ হাসিনা এখন সন্ত্রাস ও উসকানির পথ বেছে নিয়েছেন, তবে দেশের মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে রিজভী বলেন, এই দিনটি দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা, রাজনীতি করার অধিকার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিল। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন কায়েম করে গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেছিল। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর খন্দকার মোশতাকসহ আওয়ামী লীগের নেতারাই ক্ষমতায় এসেছিলেন। পরবর্তীতে খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের পর জনজীবনে যে রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার মিলিত স্রোত গণতন্ত্রের মুক্ত বাতাস ফিরিয়ে আনে এবং জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়েই ছাত্র-জনতা শেখ হাসিনার ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দেশের সব মানুষ মেনে নিয়েছিল। কারণ তিনি একজন গুণী মানুষ, যাকে শেখ হাসিনা বারবার মিথ্যা মামলা দিয়ে অপমানিত করেছিলেন। পরবর্তীতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরুসহ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।











