ইরানের পারমাণবিক গোপন তথ্যের সন্ধান দিলে মিলবে ২ কোটি ডলার পুরস্কার
অনলাইন ডেস্ক:
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিভিন্ন স্থাপনা, সরঞ্জাম এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহকারীদের জন্য দুই কোটি ডলার পর্যন্ত বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি কার্যকর তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তিদের জন্য স্থানান্তরের সুযোগ থাকার কথাও জানানো হয়েছে। দীর্ঘ আট মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত অবসানে ওয়াশিংটন যখন নানা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই এমন বড় ঘোষণা সামনে এল।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় মূলত ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও কর্মীদের চলাচলের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হচ্ছে।
সেন্টকমের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, এর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং বিজ্ঞানী সমাজের মতো সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিষয়ে কিংবা এসবের চলাচলের গোপনীয় তথ্যের জন্যই রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস দুই কোটি ডলার পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কার এবং সম্ভাব্য স্থানান্তরের সুযোগ দিচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশেষ কর্মসূচিটি মূলত মার্কিন নাগরিকদের জীবন ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক তথ্যদাতাদের আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করে থাকে।
এদিকে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সেফগার্ডস-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পূরণে তেহরানের ব্যর্থতার কারণে দেশটির সামগ্রিক পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে সেন্ট্রিফিউজসহ প্রধান প্রধান পারমাণবিক উপাদানের উৎপাদন ও মজুত সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জনের ধারাবাহিকতা হারিয়েছে সংস্থাটি।
তবে ঠিক কী ধরনের বা কোন তথ্যগুলো সর্বোচ্চ দুই কোটি ডলার পুরস্কার পাওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে বর্তমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরান একটি চুক্তি করতে অত্যন্ত আগ্রহী বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি ও অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আমরা এখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং তারা একটি চুক্তি করতে খুবই মরিয়া।
সামরিক এসব হামলার পক্ষে জোরালো যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে ইসরায়েলসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জন্য একটি বড় পারমাণবিক হুমকি হয়ে ওঠা সফলভাবে ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, আমরা ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরায়েল থাকত না; তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তারা তা নির্দ্বিধায় ব্যবহার করত এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আক্ষরিক অর্থেই নিশ্চিহ্ন করে দিত।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন যে মার্কিন সামরিক বাহিনী কার্যত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। এমনকি এ সপ্তাহের শুরুর দিকে তিনি মন্তব্য করেন, মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ আরও এক-দুটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলা করা এখনও বাকি রয়েছে। যদিও ওই জায়গাটিকে একটি গোপন পারমাণবিক স্থাপনা বলে জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে, তবে তেহরান বরাবরই তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে।
অন্যদিকে, ঠিক এই স্পর্শকাতর সময়ে নতুন করে কোনো ধরনের বড় ধরনের লড়াই বা সংঘাতের বিস্তার রোধ করতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন মধ্যস্থতাকারীরা। চলমান এই সংকটের বিষয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ সপ্তাহে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমেই সংকট সমাধানে তার সরকার এখনও সমানভাবে আগ্রহী রয়েছে।
