অব্যবস্থাপনায় নরসিংদীর বিসিক শিল্পনগরীতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে না

জেলা প্রতিনিধি :

নানা অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে নরসিংদীর বিসিক শিল্পনগরীতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে না। প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্প্রসারিত দেড় শতাধিক প্লট কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত উদ্যোক্তারা প্লট বরাদ্দ পাননি। বিগত সরকারের লুটপাট ও স্বজনপ্রীতির কারণে অযোগ্যদের হাতে প্লট চলে গেছে, যা শিল্পের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৯৮৬ সালে ১৫ দশমিক ৩৯ একর জমির ওপর নরসিংদীর শিবপুরে বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে শিল্প সম্প্রসারণের উদ্যোগ হিসেবে ২০১৫ সালে সৈয়দনগরে ৮৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করে নতুন প্লট বরাদ্দের কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও আজ পর্যন্ত সেখানে কার্যত কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো বিসিক শিল্পনগরীতে মাত্র দুটি শেড ও একটি ব্যক্তিগত বসতবাড়ি রয়েছে, যা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, ভুল নীতি ও অনিয়মের কারণে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের প্লট বরাদ্দ না দেওয়ার কারণে শিল্প-কারখানা স্থাপন সম্ভব হচ্ছে না। তাই তারা পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের হাতে প্লট হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন। শিপন টেক্সটাইলের স্বত্বাধিকারী সুবল সাহা বলেন, “আমি প্লট পেয়েছি, কিন্তু নিরাপত্তার অভাবে কাজ শুরু করতে পারছি না।”

নরসিংদীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, প্লট বরাদ্দ পাওয়ার পরও যারা শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেননি, তাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। উপযুক্ত জবাব না পেলে প্লট বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুরাতন বিসিকে ৯৫টি ও সম্প্রসারিত অঞ্চলে ১৬৮টি প্লটসহ মোট ২৬৩টি প্লট যথাযথ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা গেলে নরসিংদীর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার ঘটবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে লাখো মানুষের। তাই স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।