Monday, September 28, 2026
30 C
Dhaka
Monday, September 28, 2026

গর্ভাবস্থায় মস্তিষ্কে রক্ত জমাট: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে গাল গ্যাদত

অনলাইন ডেস্ক:

হলিউডের সুপারস্টার গাল গ্যাদত, যিনি ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন, সম্প্রতি তার গর্ভাবস্থায় ঘটে যাওয়া এক ভীতিকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থার অষ্টম মাসে তার মস্তিষ্কে বড় আকারে রক্ত জমা হয়ে যায়, যা তাকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে নিয়ে যায়।

গ্যাদত জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অসহনীয় মাথাব্যথায় বিছানায় পড়েছিলেন। এমআরআই করার পর জানতে পারেন, তার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট হয়েছে, যা তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল। এ সময় তার এবং তার পরিবারের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল, এবং তারা বুঝতে পারেন জীবন কতটা নাজুক হতে পারে। গ্যাদত বলেন, “আমরা শুধু বাঁচতে চাইছিলাম।” এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। অপারেশনের পর তার কন্যা ‘ওরি’ জন্ম নেয়। গ্যাদত বলেন, “তার নামের অর্থ ‘আমার আলো’। অস্ত্রোপচারের আগে আমি আমার স্বামী জেরনকে বলেছিলাম, আমাদের মেয়ে যখন পৃথিবীতে আসবে, সে হবে সেই আলো, যা আমাকে বারবার মুগ্ধ করবে।”

অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর গ্যাদত সিডারস-সিনাই হাসপাতালের ডাক্তারদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যারা তার সুস্থতায় সহায়তা করেছেন। তিনি জানান, “আমি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছি এবং এখন পুরোপুরি সুস্থ। জীবনের জন্য কৃতজ্ঞ।”

গ্যাদত তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন যেন কেউ যদি একই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েন, তারা সচেতন হতে পারেন। তিনি বলেন, গর্ভাবস্থায় মস্তিষ্কে রক্ত জমা হওয়া একটি বিরল ঘটনা, যা প্রতি ১ লাখ গর্ভবতী মহিলার মধ্যে ৩ জনের ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। তিনি আরও বলেন, “এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে সচেতন থাকতে হবে। যদি সময়মতো শনাক্ত করা যায়, তবে এটি চিকিৎসাযোগ্য।”

গাল গ্যাদত তার স্বামী জেরন ভারসানোর সঙ্গে চারটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এবং আসন্ন বছর ডিজনির লাইভ-অ্যাকশন ‘স্নো হোয়াইট’ সিনেমায় ইভিল কুইন চরিত্রে অভিনয় করবেন।

 

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর

জেলা প্রতিনিধি :

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার বাংলাদেশের সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেয়।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মফিজুল হক ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়, কারণ এটি একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

আজ জামিন শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের নেতা অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ১১ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। তবে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “এই মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, এটি একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা এবং এর সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।” তিনি আরো বলেন, “আদালত জামিন নামঞ্জুর করেছেন, তবে কেউ উচ্চ আদালতে আবেদন করতে পারবেন।”

অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আদালতকে জানিয়েছি, জাতীয় পতাকার অবমাননা হয়নি।” তিনি জানান, “এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”

গত ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের হয়। ২৫ নভেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে হস্তান্তর করা হয় এবং কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। জামিন আবেদন করা হলেও মহানগর হাকিম আদালত তা নামঞ্জুর করে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় তার সমর্থকরা পুলিশ সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং সাইফুল ইসলাম আলিফ নামে এক আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা করে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের দ্বিতীয় জামিন শুনানির দিন ৩ ডিসেম্বর নির্ধারিত ছিল, তবে ওইদিন কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আদালত জামিন শুনানি ২ জানুয়ারি পুনঃনির্ধারণ করে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) এ এ এম হুমায়ুন কবির জানান, আজ আদালতপাড়ায় পুলিশ, বিজিবি এবং সেনা সদস্য মোতায়েন ছিল, তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

দেশবাসীকে সমাজসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘‘সমাজসেবা প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব’’ এবং ‘‘সামাজিক ব্যবসা’’ হতে পারে জনস্বার্থের কাজের একটি বড় মাধ্যম। তিনি আজ দেশবাসীকে সমাজসেবায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

আজ বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, জাতীয় সমাজসেবা দিবস-২০২৫ উপলক্ষে সমাজ সেবা অধিদপ্তর আয়োজিত ওয়াকাথন ও সমাজ সেবা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই কথা বলেন। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘‘আমরা যদি অল্প অল্প করে নিজের স্বার্থের পাশাপাশি পরের স্বার্থে কাজ করতে পারতাম এবং অপরের জন্য কিছু করার চিন্তা মাথায় ঢুকাতে পারতাম তাহলে যে সমস্যা আমাদের রয়েছে তা সমাধানে কারোর মুখাপেক্ষ হতে হতো না।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘সমাজসেবা দিবসে সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চায় আমাদের মধ্যে পরের স্বার্থে কাজ করার যে শক্তি রয়েছে, সেটাকে যেন জাগিয়ে তুলতে পারি।’’

ড. ইউনূস বলেন, সমাজসেবা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়। ‘‘ব্যক্তির যে শক্তি আছে, সেই শক্তির কাছে সরকারের শক্তি একেবারে নস্যি। আমাদের এই প্রচণ্ড শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে হবে।’’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘সামাজিক ব্যবসা অন্যের দুঃখদুর্দশা ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’’ তিনি সমাজের নানা খাতে যে ঘাটতি বা সমস্যা রয়ে গেছে, তার সমাধানে সবাইকে সামাজিক ব্যবসায় উৎসাহিত করেন। ‘‘বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে দেখছি, তারা বুঝতে পারছে যে, ব্যবসা করা শুধু নিজের স্বার্থে নয়, পরের স্বার্থেও করা যায়,’’ বলেন অধ্যাপক ইউনূস।

সমাজসেবাকে একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে অভিহিত করে, প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘‘সমাজসেবা চাপিয়ে দেওয়ার কোন বিষয় নয়। এটা আমাদের স্বার্থ এবং পরস্বার্থ দুইটাই সম্পর্কিত।’’ তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, ‘‘পরের জন্য সেবা এবং পরস্বার্থে কাজ করা যেন ভুলে না যায়।’’

উল্লেখযোগ্য যে, এই অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ এবং জুলাই বিপ্লবের তিন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন।

কুড়িগ্রামে কুয়াশার দাপটে কাহিল জনজীবন

ফাইল ছবি

জেলা প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামে চলতি শীতে কাহিল হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেলেও শীতের তীব্রতা একটুও কমেনি। কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে শীতকষ্ট আরও বেড়ে গেছে। গত দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে শীতের তীব্রতা কাটছে না।

আজ (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন, বুধবার, তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষরা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না, কারণ দিনের বেলা সূর্যের কোনো উত্তাপ নেই এবং হিমেল বাতাসের কারণে ঠান্ডা আরও তীব্র অনুভূত হচ্ছে।

এদিকে, শীত নিবারণের জন্য জেলার ৯টি উপজেলায় ৪৯ লাখ টাকা এবং ১২ হাজার কম্বল বরাদ্দ করেছে জেলা প্রশাসন। এই কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলছে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, গত দেড় মাস ধরে এই অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এছাড়া, এই মাসের মধ্যে ২ থেকে ৩টি শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

নতুন ভোটার তালিকায় পুরুষ ভোটার বেড়েছে দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নতুন ভোটার তালিকায় মোট ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫২ জন নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটাররা নারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানায়, এবারের হালনাগাদে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪২ জন বেশি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই তথ্য জানান।

ইসি জানায়, গত বছরের ২ মার্চে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ১৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৭ জন, মহিলা ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৯৭ লাখ ০৪ হাজার ৬৪১ জন এবং হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ছিল ৯৩২ জন।

২০২৪ সালের হালনাগাদে নতুন ভোটার হিসেবে যোগ হয়েছে ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫১৬ জন, মহিলা ভোটার ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ৬২ জন।

এভাবে, আজ পর্যন্ত মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৫১২ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ১০৩ জন, মহিলা ভোটার ৬ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪১৫ জন এবং হিজড়া ভোটার ৯৯৪ জন। মোট ভোটার বৃদ্ধির হার ১.৫০ শতাংশ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির পর আগামী ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে যদি কারো কোনো দাবি বা আপত্তি থাকে, তা জানাতে পারবেন। দাবি-আপত্তি জানাতে শেষ তারিখ ১৭ জানুয়ারি।”

তিনি আরও জানান, আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

মানিকগঞ্জে প্রতি কপি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২-৩ টাকায়, লোকসানে চাষিরা

জেলা প্রতিনিধি :

মানিকগঞ্জে ফুলকপি চাষীরা এখন বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন। কৃষকরা অভিযোগ করছেন, যে কপি উৎপাদনের খরচ একেকটি পিসের ক্ষেত্রে ১০ টাকার উপরে, তারা বর্তমানে তা বিক্রি করছেন মাত্র ২ থেকে ৩ টাকায়। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, হঠাৎ বৃষ্টির কারণে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদন হয়ে যাওয়ার ফলস্বরূপ এই সংকট তৈরি হয়েছে। কৃষকরা যদি সংরক্ষণের সঠিক ব্যবস্থা করতেন, তবে তারা ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমাতে পারতেন।

ফুলকপি চাষিরা জানান, গত বছর ফুলকপি চাষে তারা লাভবান হয়েছেন, তাই এবছর তারা ব্যাপক আবাদ করেছেন। শীতের শুরুতে আগাম ফুলকপি বিক্রি করে ভালো লাভও করেছিলেন, যেখানে একেকটি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তবে বর্তমানে উৎপাদন বেশি হওয়ায় এবং পাইকারদের কাছে অতিরিক্ত সরবরাহ পৌঁছানোর ফলে দাম কমে গেছে। ফলে তারা তাদের উৎপাদিত কপি বিক্রি করতে পারছেন না।

তারা আরও জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে, এর মধ্যে চারা, হালচাষ, সার, কীটনাশক, দিনমজুর ও জমির ভাড়া সব মিলিয়ে বিপুল খরচ হয়। কিন্তু যখন তাদের কপি মাত্র ২ থেকে ৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তখন তারা ব্যাপক লোকসানে পড়ছেন।

সাটুরিয়া উপজেলার আইরমারা গ্রামের কৃষক বশির আহমেদ জানান, তিনি গত বছর ফুলকপি চাষে ভালো লাভ করেছিলেন, তাই এবছর ১৮ বিঘা জমিতে কপি চাষ করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে ১০ বিঘা জমির আগাম কপি বিক্রি করে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আয় করেছেন। তবে বাকি ৮ বিঘা জমির কপি এখন খেতে নষ্ট হচ্ছে, বিক্রি করতে পারছেন না। কিছু কপি তিনি গরুকে খাওয়াচ্ছেন।

অন্যদিকে, সদর উপজেলার ঢাকুলি গ্রামের আবদুর রশিদ জানান, তিনি ৫০ বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। বর্তমানে তাকে প্রতি পিস কপি ২ থেকে ৩ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে, অথচ এক বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। তিনি জানান, এখন তিনি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার লোকসানে পড়েছেন।

মেঘশিমুল গ্রামের নকিম উদ্দিন বেপারি বলেন, তার দুই বিঘা জমির কপি বিক্রির উপযোগী হলেও বিক্রি করতে পারছেন না। কামলা খরচ ও ভ্যান ভাড়া দিয়ে আড়ত পর্যন্ত কপি নেওয়ার খরচও মিলিয়ে লাভ তো দূরের কথা, কপি বিক্রি করা যাচ্ছে না।

এছাড়া, অনেক বেপারি যারা আগাম ফুলকপি কিনে রেখেছিলেন, তারাও এখন ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উদাহরণ হিসেবে, ইদ্রিস আলী নামক এক বেপারি জানান, তিনি কৃষকদের কাছ থেকে ৭৮ হাজার ২০০ পিস কপি কিনেছিলেন, কিন্তু এখন তা মাত্র ২ থেকে ৩ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, এবারের অস্বাভাবিক শীত এবং বৃষ্টির কারণে কৃষকরা সময়মতো কপি চাষ শুরু করতে পারেননি। এর ফলে সারা দেশে একসঙ্গে ফুলকপি চাষ হওয়ায় উৎপাদন বেড়ে গেছে এবং দাম কমে গেছে।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. রবিআহ নূর জানান, “এমন পরিস্থিতি এড়াতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয় যে, একসঙ্গে একটি ফসলের চাষ না করে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করতে। তবে, ফুলকপির দাম বেশি পাওয়ায় সবাই একসঙ্গে এটি চাষ করেছেন।”

নওগাঁয় হিমেল বাতাসের দাপটে বিপর্যস্ত জনজীবন

জেলা প্রতিনিধি :

নওগাঁয় কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসের দাপটে জনজীবন আবারও থমকে গেছে। ঠান্ডার তীব্রতায় দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষরা পড়েছে চরম কষ্টে। ঠান্ডার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে এবং শ্রমজীবী মানুষদের রাস্তা-ঘাটে দেখা যাচ্ছে কম।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সকালে নওগাঁয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। স্থানীয়রা জানান, গত দুই দিন ধরে শীতের দাপট বেড়ে গেছে। সকালে কুয়াশা কমলেও, হিমশীতল বাতাসের কারণে ঠান্ডা আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে।

রাস্তাঘাটে শ্রমজীবী মানুষের উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে। সদর উপজেলার বরুনকান্দি এলাকার রিকশাচালক লিটন হোসেন বলেন, “গত দুই দিন ধরে শীত বেড়ে গেছে। এত বেশি বাতাস হচ্ছে, যে সবাই কাবু হয়ে গেছে। গাড়ি চালাতেও কষ্ট হচ্ছে এবং যাত্রীও পাওয়া যাচ্ছে না।”

নওগাঁ বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, “বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় নওগাঁর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বুধবার ছিল ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে।”

যুক্তরাষ্ট্রে পিকআপ ট্রাক চালিয়ে অন্তত ১৫ জনকে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক:

নিউ অরলিন্সে বর্ষবরণ উৎসবে পিকআপ ট্রাক চালিয়ে অন্তত ১৫ জনকে হত্যা করেছে এক সাবেক মার্কিন সেনা সদস্য। বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে যখন মানুষ উৎসবে মেতে উঠেছিল, তখন ওই ব্যক্তি পিকআপ ট্রাক চালিয়ে তাদের ওপর উঠে যায়। গাড়িটিতে ইসলামিক স্টেটের পতাকা দেখা যায়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন। পরে পুলিশের গুলিতে হামলাকারী নিহত হন।

এটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, এবং তদন্তের পর এটা নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই হামলা এককভাবে ঘটানো হয়নি। মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই বলেছে, হামলাকারীর নাম ৪২ বছর বয়সী শামসুদ্দিন জাব্বার, যিনি টেক্সাসের বাসিন্দা। হামলার পেছনে তার সহযোগীদেরও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা গাড়িটিতে বন্দুক ও হাতে তৈরি বোমা উদ্ধার করেছেন।

এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছেন, হামলাকারী সামাজিক মাধ্যমে ইসলামিক স্টেটের প্রতি অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা প্রকাশ করেছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের সংকল্পও ব্যক্ত করেছিলেন।

নিউ অরলিন্সের পুলিশ সুপারইনটেনডেন্ট অ্যান্নে কার্কপ্যাট্রিক একে ভয়ঙ্কর দানবীয় ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, গাড়িটি যখন উৎসবমুখর মানুষের ওপর চলে আসে, তখন তারা পালানোর চেষ্টা করলেও অনেকেই হতাহত হন।

এফবিআইয়ের একজন বিশেষ কর্মকর্তা জানান, তারা মনে করছেন না যে, শামসুদ্দিন একা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় ১২ ফিলিস্তিনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক:

নতুন বছরের প্রথম দিনেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার (২ জানুয়ারি) এই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনটি পৃথক হামলায় নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকা, যেখানে একাধিক হামলা চালানো হয়।

ইসরাইলি বাহিনীর প্রথম হামলা ঘটে জাবালিয়ার একটি বাড়িতে, যেখানে অন্তত সাতজন নিহত হন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নিহতদের মধ্যে এক নারী ও চারটি শিশু রয়েছে। গত ১৫ মাস ধরে চলমান গাজা যুদ্ধের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত জাবালিয়া, যেখানে অক্টোবরের শুরু থেকেই ব্যাপক সামরিক অভিযান চলছে। ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে, তারা হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালাচ্ছে।

একই দিন, মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে আরেকটি হামলায় এক নারী ও একটি শিশু নিহত হন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। শিবিরের এক ফিলিস্তিনি নাগরিক বলেন, “আপনারা কী নতুন বছর উদযাপন করছেন? উপভোগ করুন, যখন আমরা হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছি। গত দেড় বছর ধরে আমাদের ওপর দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে।”

তৃতীয় হামলাটি ঘটে খান ইউনিসে, যেখানে অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন। তাদের মরদেহ নাসের ও ইউরোপীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস একটি বড় আক্রমণ চালিয়ে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে এক হাজার ২০০ অবৈধ বসতিস্থাপনকারী ইসরাইলিকে হত্যা করেছিল এবং আরও ২৫০ জনকে অপহরণ করেছিল। এখনও গাজায় বন্দি প্রায় ১০০ ইসরাইলি নাগরিক, এবং তিনজন নিহত হয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু।

পল্লীকবি জসীম উদদীনের ১২২তম জন্মবার্ষিকী পালিত

জেলা প্রতিনিধি :

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরে পল্লীকবি জসীম উদদীনের ১২২তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। ‘জসীম ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

বুধবার (১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় ফরিদপুর শহরের অম্বিকাপুরে কবির পারিবারিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর কবির বাড়ি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, কবির কবিতা থেকে পাঠ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসক ও জসীম ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল, এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতা-কর্মীরা।

জন্মসূত্রে ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে ১৯০৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন জসীম উদদীন। তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিশালী আধুনিক কবি হিসেবে পরিচিত। গ্রাম-বাংলার মাটি ও মানুষের জীবনযাত্রা ফুটে উঠেছে তার কবিতা, গান, গল্প ও উপন্যাসে, যার কারণে তাকে পল্লীকবি বলা হয়।

কবির বিখ্যাত রচনা ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ ও ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ বাংলা ভাষার গীতিময় কবিতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইয়াছিন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল, কবির ছেলে খুরশিদ আনোয়ার, ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি শেখ সামাদ, অধ্যাপক আলতাফ হোসেন প্রমুখ।

সর্বশেষ খবর

নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট কেন বাধ্যতামূলক নয়, হাইকোর্টের রুল

0
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদসহ দেশের সব ধরনের নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হবে না কেন, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই...