একনেকে ৮ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকার ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ মঙ্গলবার ৮ হাজার ৯৭৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভায় অন্যান্য উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন।

এই ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ১১টি নতুন প্রকল্প, পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি (যার ব্যয় বাড়ানো হয়নি)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারি অর্থায়ন হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ১৮০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ৫৬৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ২৩০ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

আজকের একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধিত) এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় জনসমাজের জন্য সেবা ও জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাতটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাশক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নবনির্মিত চারটি মেরিন একাডেমিতে আধুনিক সিমুলেটর ও প্রয়োজনীয় সুবিধাদি স্থাপন করে সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প ‘অ্যাক্সেস টু জাস্টিস ফর উইমেন’ শীর্ষক উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের জন্য স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি ও মামলা ব্যবস্থাপনার উন্নয়নকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যা দেশের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে সার সংরক্ষণের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩টি নতুন বাফার গোডাউন নির্মাণের তৃতীয় সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যার মেয়াদও চতুর্থ দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন’ প্রকল্প এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সমন্বিত সেবা ও কুইক রেসপন্স টিম গঠনের প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘টিটিএফ’ বা টিভিইটি টিচারস ফর দ্য ফিউচার প্রোগ্রাম এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনও অনুমোদন পেয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে চারটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে উন্নয়ন বাজেট ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ডেটাবেইজ স্থাপন, আইপিআইএমএস বা পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের উন্নয়ন, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিসংখ্যানগত সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, একটি হলো সরকারি অডিট ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর এবং অপরটি অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প।

সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা কর্তৃক ইতিপূর্বে অনুমোদিত আরও ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সদস্যদের অবহিত করা হয়।