নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, তবে তাকে অন্তত তিন মাস বিশ্রামে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবু জাফর। তিনি মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুরে সাভারের কেপিজি হাসপাতালে তামিম ইকবালকে দেখে সাংবাদিকদের এই তথ্য দেন।
অধ্যাপক আবু জাফর বলেন, “তামিম ইকবালকে নরমাল কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য অন্তত তিন মাস সময় দিতে হবে, বিশেষত খেলাধুলায় ফিরে যাওয়ার জন্য। এছাড়া, তিনি এখন বাসায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ও হাঁটাচলা করতে পারবেন, তবে তাকে বিশ্রামে থাকতে হবে।”
তিনি আরও জানান, “যদিও সব পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তামিমের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, তবে কিছু সময়ের জন্য তিনি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। প্রাথমিক ইসিজি এবং ইকো পরীক্ষায় কোনো পরিবর্তন না পাওয়া গেলেও, তার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো ঘটনা ঘটতে পারে বলে আলোচনা হয়েছে তার পরিবারের সাথে।”
তামিম ইকবালের শারীরিক অসুস্থতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর সময় অধ্যাপক আবু জাফর আরও বলেন, “গতকাল (২৪ মার্চ) তামিম সাড়ে ১০টায় অসুস্থ বোধ করেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ডাক্তাররা প্রথমে তার কার্ডিয়াক প্রবলেম সন্দেহ করে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকরা তাকে শিফট করার বিরুদ্ধে পরামর্শ দেন, কারণ তার পরিস্থিতি গুরুতর ছিল।”
অধ্যাপক আবু জাফর আরও বলেন, “তামিম একজন জাতীয় সেলিব্রেটি, তাই তার দ্রুত ঢাকায় শিফট করার জন্য হেলিকপ্টারের ব্যবস্থাও হয়েছিল। তবে, তার হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর, সিপিআর দিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তার হার্ট বন্ধ হয়ে গেলে ডাক্তাররা তা চালু করার জন্য চেষ্টা করেন।”
হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, “তামিমের অ্যাকিউট হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল, যা সাধারণত অনেক রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জীবন হারাতে বাধ্য করে। তবে তামিমের ক্ষেত্রে সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা পাওয়ায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন।” তিনি আরও বলেন, “এখন তার হার্টের ফাংশন ভালো এবং শঙ্কা অনেক কমে গেছে, তবে কিছুটা ঝুঁকি রয়ে গেছে।”
অধ্যাপক আবদুল ওয়াদুদ আরও বলেন, “তামিমের হার্টে বড় একটি আর্টারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যা হয়েছিল, তবে এখন তা খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন, তবে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত তাকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।”
তামিম ইকবালের পরিবার এবং চিকিৎসকদের যৌথ সিদ্ধান্তে তাকে এখন বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে এবং ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর তাকে আরও সুস্থ হয়ে উঠতে দেওয়ার পর পরবর্তী চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।











