দশ দিনেও ফেরেনি আটক ৭৮ বাংলাদেশি জেলে-নাবিক, উদ্বিগ্ন পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গত ৯ ডিসেম্বর ভারতের কোস্টগার্ড কর্তৃক আটক দুইটি মাছ ধরার জাহাজের ৭৮ জন বাংলাদেশি জেলে ও নাবিকের দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে আটক হওয়া এই ৭৮ জনের মধ্যে ৪১ জন ছিলেন ‘এফ ভি লায়লা-২’ জাহাজের এবং ৩৭ জন ‘এফ ভি মেঘনা-৫’ জাহাজের সদস্য। আটক জাহাজ দুটি বর্তমানে ভারতের ওড়িশা রাজ্যের প্যারাদ্বীপ বন্দরে নোঙর করা রয়েছে।

জাহাজ মালিকরা জানান, ভারতীয় কোস্টগার্ডের হাতে আটক এসব জেলে-নাবিকরা সুস্থ আছেন এবং তাদের সঙ্গে প্রতিদিন যোগাযোগ হচ্ছে। তবে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপর নির্ভরশীল এবং সরকারের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হবে। জাহাজ মালিকদের মতে, ফিরিয়ে আনার জন্য আরও ১৫-২০ দিন সময় লাগতে পারে, যার মানে ডিসেম্বরের শেষের দিকে তাদের ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, আটক জেলে-নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা প্রতিদিনই জাহাজ মালিকদের অফিসে গিয়ে খবর জানার চেষ্টা করছেন। মো. আমির হোসেন, যিনি ‘এফ ভি মেঘনা-৫’-এর এক নাবিক মো. রিয়াজের বাবা, তিনি জানান, তার ছেলে ২৪ নভেম্বর সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিল এবং এরপর থেকে তার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

জাহাজ মালিকরা আরও জানিয়েছেন যে, ভারতের কোস্টগার্ডের হাতে আটক হওয়া ‘লায়লা-২’ জাহাজের সবজি শেষ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ভারতের কোস্টগার্ড তাদের জন্য নতুন সবজি সরবরাহ করেছে। বাকী খাবার মজুত রয়েছে, যা আরও কিছুদিন চলবে।

‘এফ ভি লায়লা-২’ এর অপারেশন কোম্পানি এস আর ফিশিংয়ের সিএফও মিন্টু সাহা বলেন, তাদের জাহাজটি ২৭ নভেম্বর সাগরে মাছ ধরার জন্য বের হয়েছিল এবং ২০ ডিসেম্বর ফেরার কথা ছিল, কিন্তু ৯ ডিসেম্বর ভারতীয় কোস্টগার্ড জাহাজটি আটক করে। একইভাবে, ‘এফ ভি মেঘনা-৫’ এর মালিক সিঅ্যান্ডএ অ্যাগ্রো লিমিটেডের এমডি মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদও জানান, তারা ইতোমধ্যে সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ধরনা দিয়ে যাচ্ছেন, তবে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।

ভারতীয় কোস্টগার্ড তাদের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে জানায়, আটক দুই জাহাজের ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছে, এসব জাহাজ ভারতের জলসীমায় অননুমোদিতভাবে মাছ ধরছিল। এই বিষয়ে চট্টগ্রাম সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. আবদুস ছাত্তার বলেন, তারা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলে-নাবিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন, তবে কবে এটি সম্ভব হবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

এভাবে, ৭৮ বাংলাদেশি জেলে-নাবিকের ভাগ্য এখন ভারতের সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিনই তাদের ফিরে আসার দিন গোনছেন।