অনলাইন ডেস্ক:
কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহ। গত শনিবার উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লায় দলীয় কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার কাশ্মীর সমস্যার কথা তুলে ধরে পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের পক্ষে কথা বলছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে উপত্যকার মানুষের সমস্যা ও অধিকার নিয়ে সম্পূর্ণ নীরব থাকার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
ফারুকের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার কঠোর নিন্দা করেছে বিজেপি। তার এই অবস্থানকে দেশবিরোধী আখ্যা দিয়ে জনসমক্ষে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লায় দলের কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন ফারুক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবেশী দেশটি বারবার কাশ্মীর সমস্যার কথা আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরছে এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে গিয়ে জানাচ্ছিলেন যে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান এখনো হয়নি।
ফারুকের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, এভাবে পাকিস্তান কাশ্মীরের মানুষের বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন যে, উপত্যকার মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে দিল্লি যথাযথ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। জম্মু ও কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ কেন্দ্রের কাছ থেকে আদৌ কোনো ন্যায়বিচার পাবেন কি না, তা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নিজেদের মৌলিক অধিকার ও নিজস্ব পরিচয় রক্ষার্থে উপত্যকার মানুষের এখন যথেষ্ট সাহস নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসা উচিত।
এ সময় নিজের বক্তব্যে একটি কড়া হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন তিনি। ফারুক বলেন, নিজেদের অধিকার আদায় নিয়ে সময়মতো লড়াই না করলে একসময়ে তাদের নিজস্ব অস্তিত্ব ও পরিচয় চিরতরে মুছে যাওয়ার বড় ধরনের আশঙ্কা রয়েছে।
ফারুকের এই বিতর্কিত বক্তব্য প্রকাশ্যে আসবামাত্রই রাজনৈতিক মহলে চরম তোলপাড় ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতারা তার এই বক্তব্যের তীব্র ও কড়া সমালোচনা করেছেন। জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্য বিজেপির সভাপতি সত শর্মা ফারুক আবদুল্লাহর কাছে অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়েই কেবল ফারুক এ ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য করার সাহস পাচ্ছেন।
সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সত শর্মা আরও বলেন, পাকিস্তানে এ ধরনের মন্তব্য করার দুঃসাহস দেখালে ফারুক আবদুল্লাহ হয়তো বিন্দুমাত্র একই ধরনের গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা পেতেন না। একই সঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে ফারুককে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরম পরামর্শ দেন। সামগ্রিকভাবে বিজেপির পক্ষ থেকে তার এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ দেশবিরোধী বলে আক্রমণ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সরাসরি দেশদ্রোহের গুরুতর অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের শীর্ষ নেতা বিনোদ বনসলও ফারুক আবদুল্লাহর এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেছেন। তিনি জোরালো ভাষায় বলেন, কাশ্মীর সবসময় ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও ভারতের সঙ্গেই থাকবে। কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে, এমন কোনো ধারণার সরাসরি বিরোধিতা করেন তিনি। বনসলের দৃঢ় দাবি, একমাত্র ভারতের নিজস্ব সামরিক শক্তি ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থাই এই সংবেদনশীল অঞ্চলের প্রকৃত সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই কাশ্মীরের মানুষের অধিকার, নিজস্ব পরিচয় ও নিরাপত্তা নিয়ে নানামুখী রাজনৈতিক বিতর্ক চলে আসছে। ফারুক আবদুল্লাহর এই সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই পুরনো বিতর্ককে আরও বহুগুণে উসকে দিয়েছে। একদিকে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে উপত্যকার মানুষের সংকট ও সমস্যাকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলেছেন, অন্যদিকে বিজেপি তার এই বক্তব্যকে সরাসরি পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন ও অবস্থান হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে আগামী দিনে কাশ্মীর ইস্যু কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যকার এই রাজনৈতিক সংঘাত আরও অনেক বেশি তীব্র আকার ধারণ করার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।











