ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

নির্বাচনী রোডম্যাপ না থাকায় জনমনে সন্দেহ: জামায়াত আমীর

প্রকাশিত: 24 May 2025, 7:06 pm
ফন্ট:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে সংস্কার এবং আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ষান্মাসিক অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা সরকারের কাছে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করেছি। এই রোডম্যাপ ছাড়া জাতির আস্থা ফিরবে না।”

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিচার দাবির পাশাপাশি আমরা বিশ্বাসযোগ্য ও দ্রুতবিচার প্রত্যাশা করি, যা জাতিকে আশ্বস্ত করবে।”

জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন নির্বাচন ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ এর মধ্যে হতে পারে। আমরা সরকারের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব পোষণ করি।”

সম্প্রতি সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতা ও অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সংঘর্ষ নয়, সংলাপই হতে পারে সংকট উত্তরণের পথ। জাতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া সমীচীন নয়।”

তিনি বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে সর্বদলীয় বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছি। সকল পক্ষের সন্তোষজনক আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান সম্ভব।”

জামায়াত আমির আরও বলেন, “২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন, ২০১৮ সালের ‘নিশিরাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের প্রহসনের নির্বাচনের কারণে জনগণের আস্থা চরমভাবে নষ্ট হয়েছে। আগামী নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও আস্থাবহ।”

স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে ‘মানবিক করিডোর’ এবং ‘চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনা’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সেনাবাহিনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী জাতির গর্ব। তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করা উচিত নয়।”

আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও আরাকান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনে মানবতাবিরোধী যুদ্ধ চলছে। আমরা যুদ্ধবিরতির নয়, স্থায়ী যুদ্ধ-সমাপ্তির দাবি জানাই। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।”

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “সত্য বলুন, কালোকে কালো বলুন, সাদাকে সাদা বলুন। শান্তিপূর্ণ, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে দলের নায়েবে আমির, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন