সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ ও স্টার্টআপ নিয়ে সিলিকন ভ্যালির শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি সিসকো, অ্যাপল, মেটা, এনভিডিয়া ও প্লাগ অ্যান্ড প্লের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে।

 

প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

 

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিলিকন ভ্যালির শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি, বিনিয়োগকারী ও উদ্ভাবনী নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সংযোগ ঘটানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এসব বৈঠকের আয়োজন করে।

 

সিসকোর সঙ্গে আলোচনায় নিরাপদ ডিজিটাল অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা, সংযোগ, এআই ও জনশক্তির দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর অ্যাপলের সঙ্গে আলোচনায় শিক্ষা, সফটওয়্যার তৈরি, ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও ডেভেলপার ইকোসিস্টেম নিয়ে আলোচনা হয়।

 

অ্যাপল পার্ক পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতি এবং শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, অ্যাপ্লিকেশন ও সফটওয়্যার তৈরি, ডিজিটাল উদ্যোক্তা এবং ডেভেলপার ইকোসিস্টেমে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করে।

 

অন্যদিকে মেটার সঙ্গে আলোচনায় এআই, ডিজিটাল অবকাঠামো, অনলাইন নিরাপত্তা ও স্থানীয়ভাবে প্রাসঙ্গিক কনটেন্টের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

এছাড়া সান্তা ক্লারায় এনভিডিয়ার সদর দপ্তরে আলোচনায় জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়নে এআইয়ের ব্যবহার, জনশক্তির দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা, কম্পিউটিং অবকাঠামো ও বাংলাদেশে এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

 

দুই পক্ষ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, সরকারি সেবা ও শিল্পে এআইয়ের সম্ভাব্য ব্যবহার এবং স্থানীয় এআই দক্ষতা, গবেষণার সক্ষমতা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করে।

 

প্রতিনিধিদলটি এনভিডিয়ার এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারও পরিদর্শন করে এবং উন্নত এআই ও কম্পিউটিং প্রযুক্তির প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করে।

 

বৈঠকগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হলো, বাংলাদেশে এক বা একাধিক এআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই করতে প্লাগ অ্যান্ড প্লে ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর।

 

বাংলাদেশি স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয় ও উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী, করপোরেশন ও উদ্ভাবনী নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার আগ্রহও প্রকাশ করেছে প্লাগ অ্যান্ড প্লে।

 

বৈঠকগুলোতে এআই, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো, দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ, ডেভেলপার ইকোসিস্টেম ও দায়িত্বশীল উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে আরও কাজের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়।

 

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল দেশের বড় অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তি দক্ষতা এবং সম্প্রসারিত ডিজিটাল অর্থনীতির কথা তুলে ধরে। একই সঙ্গে শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহের কথা জানায়।

 

অংশগ্রহণকারী কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে পরবর্তী কার্যক্রম সমন্বয় করবে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল।