সকালের নাস্তায় ডিম ভাজি না দেওয়ায় ঘুমন্ত মাকে নির্মমভাবে খুন করল ছেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর ধানমন্ডিতে নাস্তায় ডিম ভাজি দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ক্ষোভের জেরে মাকে এলোপাতারি ছুরিকাঘাত করে হত্যার এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ৩০ বছর বয়সী ছেলে তাহসিন আরিফ অর্ণবের এই নির্মম হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন তার ৬৮ বছর বয়সী মা আফিয়া আক্তার।

ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির ৯/এ সড়কের নিজ ফ্ল্যাটে। আকস্মিক এই হত্যাকাড়ে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত অর্ণব মানসিকভাবে অসুস্থ এবং মাদকাসক্ত। দীর্ঘদিন ধরে রিহ্যাবে থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর মাসখানেক আগেই তিনি বাসায় ফিরেছিলেন। ঘটনার দিন শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি নাস্তা করতে চান। কিন্তু নাস্তায় ডিম ভাজি না পেয়ে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ঘুমন্ত মায়ের ওপর চড়াও হন এবং তাকে এলোপাতারি ছুরিকাঘাত করেন। মায়ের আত্মচিৎকার ও গোঙানি শুনতে পেয়ে প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অর্ণবকে আটক করে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকেই নিহত আফিয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ওসি মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর নিعدহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মাকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে ছেলেকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

ওসি আরও জানান, অর্ণব একজন মানসিক রোগী এবং একইসঙ্গে তিনি মাদকাসক্ত। দীর্ঘ দিন তিনি রিহ্যাবে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সেখান থেকে মাত্র মাসখানেক আগে বাসায় ফেরেন। আজ সকালে নাস্তায় ডিম ভাজি না পাওয়ার ক্ষোভে তিনি তার মাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। নিহত আফিয়া আক্তারের মুখ ও গলায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক গুরুতর ও গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে ওসি আরও বলেন, নিহতের মেয়েরা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। তাদের এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর দেওয়া হয়েছে। তারা দেশে ফিরে আসার পর মায়ের মরদেহ দাফন এবং পরবর্তী সকল আইনি প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করা হবে।