অনলাইন ডেস্ক:
হলিউড অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্সের অভিনয়জীবনে ঘনিষ্ঠ ও নগ্ন দৃশ্যে কাজ করার অভিজ্ঞতা নতুন নয় হলেও, একবার এমন একটি দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে বেশ অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে, যেখানে সেটে উপস্থিত হন এমন কিছু কর্মী যাদের সেখানে থাকার কোনো অনুমতির বা বৈধতা ছিল না এবং বিষয়টি অভিনেত্রীর নজরে আসামাত্রই তিনি কড়া প্রতিবাদ জানান।
সম্প্রতি ‘কল হার ড্যাডি’ নামের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার বিস্তারিত কথা শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেছেন জেনিফার, যেখানে তার মতে নিজের ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষার পাশাপাশি চলচ্চিত্রশিল্পে কাজের সন্ধানে আসা নতুন ও তরুণ অভিনেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেও এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে জোরালো প্রতিবাদ করা অত্যন্ত জরুরি।
জেনিফারের সুনির্দিষ্ট বিশ্বাস অনুযায়ী, একজন ১৮ বছর বয়সী নবীন অভিনেত্রী হয়তো সেটে কোনো অনিয়ম দেখলে প্রতিবাদ করতে ভয় পাবেন এবং তার মনে এই আশঙ্কা কাজ করতে পারে যে আপত্তি জানালে তাকে ইন্ডাস্ট্রিতে ‘কঠিন স্বভাবের’ মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে, যার ফলে নিজের প্রচণ্ড অস্বস্তি সত্ত্বেও অনেক সময় তরুণ শিল্পীরা মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন এবং এই মানসিকতা চিরতরে বদলাতেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
এদিকে ঠিক এর বাইরে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘ডাই মাই লাভ’ সিনেমায় সহশিল্পী রবার্ট প্যাটিনসনের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়ের পেছনের অভিজ্ঞতাও গণমাধ্যমের সামনে খোলামেলাভাবে শেয়ার করেছেন জেনিফার, যেখানে তিনি জানান যে ছবিটির শুটিং চলাকালীন সেটে কোনো ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্য পরিচালক না থাকলেও সহশিল্পী রবার্টের দারুণ পেশাদার ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণের কারণে তিনি শুটিংজুড়ে যথেষ্ট স্বস্তি ও নিরাপত্তা বোধ করেছিলেন।
নগ্ন দৃশ্যে ক্যামেরার সামনে অভিনয় করা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তার বিশেষ কোনো ধরনের অস্বস্তি বা দ্বিধা কাজ করে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন জেনিফার, এবং পরিচালকের শৈল্পিক স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই তিনি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ওই দৃশ্যগুলোতে অভিনয়ের জন্য নিজের সম্মতি প্রদান করেছিলেন, এমনকি শুটিংয়ের পুরো সময়জুড়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা থাকা সত্ত্বেও নিজের শারীরিক গঠন বা পরিবর্তন নিয়ে বাড়তি কোনো মানসিক দুশ্চিন্তা বা ভীতি রাখেননি।
সবশেষ আলোচিত ছবির একটি বিশেষ দৃশ্যের ক্লোজআপ শটে তার শরীরের ত্বকের স্বাভাবিক ভাঁজ ও সেলুলাইট আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়ার একটি প্রস্তাব রাখা হয়েছিল তার সামনে, কিন্তু অভিনেত্রী তাতে এক বিন্দুও রাজি হননি বরং নিজের শরীরের প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক গঠন পর্দার সামনে অক্ষুণ্ন রাখার পক্ষেই দৃঢ় অবস্থান নেন তিনি।











