নিয়োগকালীন এলাকা বহাল রাখার দাবিতে কাজীদের মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিয়োগকালীন এলাকা বহাল রাখা এবং এলাকা বিভক্তির ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবিতে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে তৃণমূল নিকাহ রেজিস্ট্রারদের চারটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় নিকাহ নিবন্ধক ঐক্যজোট। শনিবার (৭ নভেম্বর) আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নিকাহ রেজিস্ট্রাররা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা চরম ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সারা জীবনের শ্রম, মেধা ও সম্মান দিয়ে গড়ে তোলা কাজীদের কর্মক্ষেত্র কেড়ে নেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বহু এলাকা বিভক্ত করে একই এলাকায় একাধিক কাজী নিয়োগ করায় বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন অধিকাংশ নিকাহ রেজিস্ট্রার। এখন যদি আবারও নিয়োগকালীন এলাকা বিভক্ত করে একই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে একাধিক নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা হয়, তবে হাজারো কাজী পরিবারের জীবনে চরম দুর্দশা নেমে আসবে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগ নেতা ও পল্টনের কাজী ইকবাল আওয়ামী লীগের ইন্ধনে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আঁতাত করে ভিন্ন ব্যানারে কর্মসূচি ও তৎপরতার মাধ্যমে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব তৈরি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ধরনের তৎপরতা বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের যোগ্য সন্তানকে সরাসরি নিয়োগের বিধান চালু করা, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ানো এবং অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিশেষ বিধান বাতিলের জোর দাবি জানান কাজী সমাজের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় নিকাহ নিবন্ধক ঐক্যজোটের আহ্বায়ক, বাংলাদেশ কাজী সমিতির সভাপতি ও পল্লবী থানা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজী এ এস এম কাদের কিবরীয়া বলেন, কাজীরা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; তারাও এ দেশের নাগরিক। আমরা আমাদের কর্মক্ষেত্র ও জীবিকার নিরাপত্তা চাই। নিয়োগের সময় কাজীদের যে এলাকা নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই এলাকা অবসর পর্যন্ত বহাল রাখতে হবে। একজন কাজীর কর্মক্ষেত্র কেড়ে নেওয়া মানে একটি পরিবারকে অনিশ্চয়তা ও অনাহারের মুখে ঠেলে দেওয়া। কাজীদের সঙ্গে বিএনপি সরকার এ ধরনের ফ্যাসিবাদী আচরণ করবে না বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শূন্য অধিক্ষেত্রগুলোতে নতুন কাজী নিয়োগ দিয়ে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব। কিন্তু কর্মরত কাজীদের অধিক্ষেত্র বিভক্ত করে একাধিক কাজী নিয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মানববন্ধন থেকে সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়ে বলা হয়, কাজীদের জীবিকা নিয়ে ছিনিমিনি না খেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন। বর্তমান কাজীদের জীবিকার শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নেবেন না। নিয়োগকালীন অধিক্ষেত্র অবসর পর্যন্ত বহাল রাখতেই হবে।
মানববন্ধনে সংগঠনের মুখপাত্র সাবেক ছাত্রনেতা কাজী ছাব্বীর, সদস্যসচিব কাজী মোজাম্মেল হোসাইন, যুগ্ম-আহবায়ক কাজী ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাঈদ, কাজী মো. শামসুল হক, মোহাম্মদ আব্দুর রব, কাজী মাছিহুর রহমান, কাজী হাবিবুল্লাহ সাচ্চু, কাজী মহিউদ্দিন সাদেক, কাজী মেহেদী হাসান নোমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
