Wednesday, September 30, 2026
28 C
Dhaka
Wednesday, September 30, 2026

বাংলাদেশি রোগীদের বিদেশে চিকিৎসা খরচ বেড়েই চলেছে

ফাইল ছবি

মোঃ সাকিক হারুন ভূঁইয়া :

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে আস্থার সংকটের কারণে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে। এ কারণে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে, যার মধ্যে ভারতের দিকে চলে যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি অর্থ। প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ বাংলাদেশি রোগী ভারতে চিকিৎসা নিতে যায়, যা ৬ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছে। তবে, সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে গুরুতর রোগী ছাড়া ভারত বাংলাদেশি রোগীদের ভিসা দিচ্ছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দেশে স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। চিকিৎসা খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়েও রোগীরা অত্যধিক খরচের শিকার হচ্ছেন। ভারতে একই চিকিৎসা যা বাংলাদেশে সম্ভব, সেখানে দ্বিগুণ খরচ হয়, আর থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার খরচ বাংলাদেশের চেয়ে তিন থেকে ১০ গুণ বেশি। তবুও, আর্থিকভাবে সক্ষম মানুষের মধ্যে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়ে চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা ভারতীয় সেবা ও চিকিৎসা খাতে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারত ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশের ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৭৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছে এবং মার্চে এ পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩ কোটি টাকায়। এর বড় একটি অংশ চিকিৎসার জন্য ব্যয় হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব জানিয়েছেন, দেশের জনগণের মধ্যে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মানসিক আস্থার অভাব। তিনি বলেন, “দেশের হাসপাতালগুলোর উন্নয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাবের কারণে রোগীরা বিদেশে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।”

ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে বর্তমানে ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। গুরুতর রোগী ছাড়া ভারত এখন আর বাংলাদেশিদের ভিসা প্রদান করছে না। ক্যান্সার, কিডনি, হৃদরোগ, লিভার সমস্যার মতো রোগে আক্রান্তরা ভারত যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু এখন, এই রোগীরা ভারতে চিকিৎসা নিতে না পারায় তাদের অনেকেই থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নিচ্ছেন, যদিও সেখানে চিকিৎসা ও ভ্রমণ খরচ বহন করার ক্ষমতা অনেকেরই নেই।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এক অনুষ্ঠানে বলেন, “দেশের চিকিৎসকদের দক্ষতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু রোগ শনাক্তকরণের জন্য আরও উন্নত ডায়াগনস্টিক টেস্ট রিপোর্টের প্রয়োজন রয়েছে। মানসম্পন্ন সেবা দিলে রোগীরা আর বিদেশে যাবে না।” তিনি আরো বলেন, “চিকিৎসা ব্যবসা নয়, এটি একটি জাতির কল্যাণের বিষয়। সরকারের পাশাপাশি সকলকেই দায়িত্ব নিতে হবে, কারণ দেশে চিকিৎসা খাতে সমন্বয়হীনতা, জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে।”

বাংলাদেশে ক্যান্সার চিকিৎসায় এখনও কিছুটা পিছিয়ে থাকার কারণে রোগীরা বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। দেশে স্বাস্থ্য সেবা খাতের উন্নয়ন হলে বিদেশে চিকিৎসার প্রবণতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

“সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই”: ডা. শফিকুর রহমান

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর আমীর ডা. শফিকুর রহমান শনিবার (৪ জানুয়ারি) কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সম্মানিত নাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করবে।” এ সময় তিনি মাইনরিটি ও মেজরিটির বিভাজন প্রসঙ্গে বলেন, “বাংলাদেশে যে কেউ জন্মগ্রহণ করুক, তাদের জন্য এই দেশের সমান অধিকার থাকবে।”

ডা. শফিকুর রহমান আরো জানান, “এই দেশে কোনো ধর্মের মানুষকে ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া হবে না এবং ইসলাম ধর্ম কারো ওপর জোরপূর্বক চাপানো হবে না।” তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন অপকর্মের প্রসঙ্গে অভিযোগ করে বলেন, “পদ্মা সেতু নির্মাণে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে, তা দিয়ে কমপক্ষে চারটি পদ্মা সেতু তৈরি করা যেত, তবে সেই টাকা কোথায় গিয়েছে?”

এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিকৃত করার জন্য একাংশের সমালোচনা করেন এবং দেশের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। তিনি আরো বলেন, “আমরা সেই বাংলাদেশ চাই যেখানে কেউ কারও ওপর জুলুম করবে না এবং সকল নাগরিকের অধিকার রক্ষিত হবে।”

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে নারী অধিকারের ক্ষেত্রেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “কাউকে জোর করে বোরকা পরানো হবে না এবং অন্যান্য ধর্মের নারীরা তাদের পছন্দমতো পোশাক পরবে।”

সম্মেলনে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবুল হাশেম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোবারক হোসেন, ছাত্রশিবিরের নেতা হাফেজ সেলিম রেজাসহ জামায়াতের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, “আমরা একটি সমৃদ্ধ জাতি গড়তে চাই, যেখানে দেশের যুবকরা দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং শিক্ষা গ্রহণের পর ন্যায্য কাজের সুযোগ পাবে।”

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তৃতার শেষ অংশে মদিনার সনদে দেশ পরিচালনার কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, “মদিনার সনদে সকল নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। আমরা সেই মদিনার আদর্শে পরিচালিত বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মীয় ভিত্তিতে অধিকার বণ্টিত হবে না।”

বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নতির আশা পেট্রোবাংলা’র

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অপারেশন এন্ড মাইনস) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আশার কথা শোনিয়েছেন। শনিবার (৪ জানুয়ারি) ইউএনবিকে তিনি বলেন, আজ সন্ধ্যার মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নতি হবে বলে প্রত্যাশা করছেন। তিনি আরও জানান, সকাল ৭টা থেকে একটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য বন্ধ থাকা আরেকটি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে।

এছাড়া, দেশের দুইটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে ১১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতার বিপরীতে ৭৮০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে, ৩২০ এমএমসিএফডি গ্যাসের ঘাটতি এখনো রয়ে গেছে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা জানান, শিগগিরই গ্যাস সংকটের সমাধান সম্ভব না হলেও পরিস্থিতি উন্নতি হবে।

এদিকে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পেট্রোবাংলার শীর্ষ কর্মকর্তা আরও জানান, জানুয়ারিতে দুটি এলএনজি টার্মিনালের জন্য অন্তত ১০টি কার্গো দরকার, তবে এ পর্যন্ত ৭টি কার্গো নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে, এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কাজ চলছিল, যার কারণে গ্যাস সরবরাহের চাপ কমে গিয়েছিল।

সিলেটে কোটি টাকার চোরাচালানের মালামাল জব্দ

জেলা প্রতিনিধি :

সিলেটে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, চিনি, কম্বল, গরু, বিয়ার, টারগেট ট্যাবলেট এবং বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে রসুন, পাথর ও শিং মাছ জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকা থেকে এসব চোরাচালানের মালামাল জব্দ করা হয়।

সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) জানায়, সিলেট এবং সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকা মিনাটিলা, কালাইরাগ, বিছনাকান্দি, নোয়াকোট, দমদমিয়া, কালাসাদেক, শ্রীপুর, বাংলাবাজার, লাফার্জ, প্রতাপপুর, পান্থুমাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় শাড়ী, চিনি, কম্বল, গরু, বিয়ার, টারগেট ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে রসুন, পাথর ও শিং মাছ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি চোরাচালানের মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ও ট্রাক আটক করা হয়েছে।

জব্দ হওয়া এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০ টাকা।

সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন সদরের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকার অভিযান পরিচালনা করে চোরাচালানী মালামাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা চোরাচালানের মালামাল সমূহের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

চীনের উত্তরাঞ্চলে সবজির বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহত ৮

অনলাইন ডেস্ক:

চীনের উত্তরাঞ্চলের ঝাংজিয়াকু শহরের একটি সবজির বাজারে গতকাল শনিবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছেন এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঝাংজিয়াকু শহরের ছিয়াওশি জেলার প্রশাসন জানায়, “আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের জীবন বর্তমানে ঝুঁকিমুক্ত।” আগুনটি স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে লিগুয়াং বাজারে লাগে এবং সকাল ১০টার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত করা হচ্ছে, তবে চীনে এ ধরনের মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। এসব ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে শিথিল ভবন নির্মাণ বিধি এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থার অবহেলাকে দায়ী করা হয়।

এটি ছিল চীনে কিছু মাস আগের একটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, যেখানে গত অক্টোবরে চেংডু শহরে ২৪ জন শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হন। এর আগেও জুলাই মাসে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিগংয়ের একটি শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়।

চীনের তিব্বতে বাঁধ নির্মাণে উদ্বেগ ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

অনলাইন ডেস্ক:

চীনের তিব্বতে ইয়ারলুং জাংবো নদ (ভারত-বাংলাদেশে পরিচিত ব্রহ্মপুত্র) পাড়ে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। গতকাল শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানান, ভারতের মতামত ও উদ্বেগ চীনকে জানানো হয়েছে।

এ বাঁধ নির্মাণে চীনের আনুমানিক খরচ হবে ১৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। এটি চীনের ‘থ্রি গর্জেস’ বাঁধের চেয়ে বড় এবং পৃথিবীর বৃহত্তম বাঁধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এই বাঁধ নির্মিত হলে তা ভারত ও বাংলাদেশের নদীপ্রবাহে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। দুই দেশই এই প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

রণধীর জয়সোয়াল বলেন, “অভিন্ন নদীর ক্ষেত্রে ভাটির দেশগুলোরও কিছু অধিকার রয়েছে এবং সেই অধিকার ও স্বার্থের বিষয়ে ভারতের পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের আগে ভাটির দেশের সঙ্গে আলোচনা জরুরি, এবং ভারত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তবে, চীন এ ধরনের প্রতিবাদে বিশেষ মনোযোগ দেয় না। ২০২০ সালের লাদাখ সীমান্ত সংঘর্ষের পর, পূর্ব লাদাখে ভারতের দাবির প্রতি চীনের অবজ্ঞা রয়েছে, এবং বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা খুব কম।

ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রচেষ্টা নিয়ে এখনও কোনও সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ দেখা যায়নি। এর পাশাপাশি, চীন সম্প্রতি লাদাখের কিছু এলাকায় নতুন প্রশাসনিক অঞ্চল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, যা ভারত অস্বীকার করেছে। রণধীর জয়সোয়াল বলেন, “এই এলাকা ভারতেরই ছিল, ভারতেরই থাকবে। চীনের ওই ঘোষণা ভারতের সার্বভৌমত্বে কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রতিবাদ জানানো হবে।”

তামিলনাড়ুতে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ৬

অনলাইন ডেস্ক:

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ভিরুধুনগর জেলায় গতকাল শনিবার সকালে এক আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় পুলিশ। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর এবং আশঙ্কাজনক, খবর আইএএনএস এর।

তামিলনাড়ু পুলিশ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ ধারণা করছে, আতশবাজি তৈরির সময় বিস্ফোরকের সঙ্গে সংঘর্ষ বা বিদ্যুৎ লিকের কারণে বিস্ফোরণটি ঘটতে পারে।

এ ঘটনায় তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিন শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারকে চার লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে স্টালিন ভিরুধুনগর সফর করেছিলেন এবং আতশবাজি কারখানাগুলোর মালিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন।

আল নাসরে আরও শিরোপা জয় করতে ক্ষুধার্ত রোনাল্ডো

অনলাইন ডেস্ক:

সৌদি পেশাদার লিগে দুই বছর পার করার পর, পর্তুগীজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো জানিয়েছেন, তিনি এখনও আল নাসরের হয়ে আরো বেশি শিরোপা জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত। ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল কিংবদন্তি, ২০২৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে সৌদি ক্লাব আল নাসরে যোগ দেয়ার পর এখন পর্যন্ত সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ৮৩ ম্যাচে ৭৪ গোল করেছেন।

গ recently গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর, রোনাল্ডো সৌদি ক্লাবটির সাথে তার সময় নিয়ে কথা বলেন। তিনি স্থানীয় একটি মিডিয়া চ্যানেলে বলেন, “আমি এখানে এসে অত্যন্ত খুশী, আমার পরিবারও খুশী। আমরা এখানে একটি নতুন জীবন শুরু করেছি। ফুটবলও সুন্দর, জীবনও সুন্দর।”

রোনাল্ডো আরও বলেন, সৌদি পেশাদার লিগে আসার পর থেকে ফুটবল অনেকটা সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। “এটা সম্মানের যে, আমি সৌদি লিগে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এসেছি, এবং ভবিষ্যতে এই লিগ আরও উন্নত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তবে শুধু এখানকার পেশাদার খেলোয়াড়দের নয়, একাডেমির দলগুলোও উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের স্বপ্ন, বিশ্বের অন্যান্য লিগের সঙ্গে সমান তালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা,” তিনি মন্তব্য করেন।

এছাড়া, রোনাল্ডো ২০২৩ সালে আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়ন্স কাপ জয়ের মাধ্যমে আল নাসরের হয়ে একটি শিরোপা জিতেছেন। গত মৌসুমে লিগ শিরোপা না জিতলেও তিনি সৌদি পেশাদার লিগে ৩৫ গোল করে একটি রেকর্ড গড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, “প্রথম শিরোপা জয়ের অনুভূতি সত্যিই বিশেষ ছিল। কিন্তু আমি আরো চাই। ধারাবাহিকভাবে ক্লাবকে আরও শিরোপা উপহার দিতে চাই।” যদিও আল নাসর বর্তমানে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আল ইত্তিহাদের থেকে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে, রোনাল্ডো দাবি করেন, “আমরা এখনও লড়াইয়ে আছি। আল হিলাল এবং আল ইত্তিহাদের মতো দলের বিপক্ষে লড়াই করা কঠিন, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি আমরা সঠিক পথে আছি।”

এছাড়া, রোনাল্ডো বলেছেন, “আমি এই ক্লাবের হয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিততে চাই। তবে তার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পেশাদার মনোভাব বজায় রাখা এবং ক্লাবের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা।”

লিভারপুলের সাথে শেষ বছরে বিশেষ কিছু করার আশায় সালাহ

অনলাইন ডেস্ক:

মিশরীয় তারকা মোহাম্মদ সালাহ বিশ্বাস করেন, লিভারপুলের সাথে তার বর্তমান চুক্তির শেষ বছরে তিনি বিশেষ কিছু অর্জন করতে পারবেন। ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের লিভারপুলের সাথে চুক্তি শেষ হতে চলেছে এ মৌসুমে। তবে, এই মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন সালাহ, যিনি ইতোমধ্যে ১৮টি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে ১৭ গোল এবং ১৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন। আর্নে স্লটের অধীনে লিভারপুল বর্তমানে ৬ পয়েন্টের ব্যবধানে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থানে রয়েছে।

এদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যম দাবি করেছে যে, সালাহ লিভারপুলের সাথে নতুন চুক্তি করার কাছাকাছি পৌঁছেছেন। তবে, গত সপ্তাহে ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে ৫-০ গোলের জয়ের পর সালাহ জানিয়েছেন যে, চুক্তি বিষয়ক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

২০২০ সালে, ৩০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে লিভারপুল লিগ শিরোপা জিতেছিল এবং সালাহ ছিলেন সেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তবে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সেদিন এ্যানফিল্ডে দর্শকবিহীন স্টেডিয়ামে শিরোপা উদযাপন করতে হয়েছিল, যা লিভারপুলের জন্য ছিল হতাশাজনক।

শুক্রবার স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে সালাহ বলেন, “এটাই আমার এই ক্লাবে শেষ বছর। তাই আমি এবার বিশেষ কিছু করে দেখাতে চাই। দীর্ঘ ৩০ বছর আমরা শিরোপার জন্য অপেক্ষা করেছি, কিন্তু করোনার কারণে সেভাবে উদযাপন করতে পারিনি। এবার আশা করছি, সবকিছু ঠিকভাবে উদযাপন করতে পারবো।”

এছাড়া, সালাহ ছাড়াও লিভারপুলের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে দলের অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক এবং রাইট-ব্যাক ট্রেন্ট আলেক্সান্দার-আর্নল্ডের। তারা সবাই আগামী মৌসুমে বিদেশী কোনো ক্লাবের সাথে আলোচনা করতে প্রস্তুত। এই তিনজন মিলে লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ, এফএ কাপ ও লিগ কাপের শিরোপা জয়ে সহায়তা করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পঞ্চম টেস্টে না খেলার কারণ জানালেন রোহিত শর্মা

অনলাইন ডেস্ক:

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চলমান পঞ্চম টেস্টে না খেলার সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা জানিয়েছেন, তিনি ফর্মে ছিলেন না। তবে, টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলার সময় এখনো আসেনি, এমন মন্তব্য করেছেন ৩৭ বছর বয়সী এই ওপেনার। তিনি আরও বলেন, “আমি কোথাও যাচ্ছিনা, এই টেস্টে না খেলার সিদ্ধান্ত মানে এই নয় যে আমি অবসরে যাচ্ছি।”

চলমান পাঁচ ম্যাচের সিরিজে রোহিত নিজের ফর্মে উন্নতি করতে না পারায় সমালোচকরা তাকে টেস্ট দলের বাইরে সরিয়ে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শেষ টেস্টের আগে ভারতীয় দল ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল। এ পরিস্থিতিতে রোহিতের বাদ পড়া নিয়ে গুঞ্জন উঠেছিল যে, হয়তো লাল বলের ক্রিকেটে তার যাত্রা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু রোহিত তা অস্বীকার করে বলেন, “আমি শুধুমাত্র এই ম্যাচে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে পার্থে প্রথম টেস্টে রোহিতের না খেলার কারণ ছিল তার দ্বিতীয় সন্তান জন্ম। এরপর থেকে তিনি ফর্মে খুব একটা মনোযোগী হতে পারেননি এবং পাঁচ ইনিংসে ১০ রানও করতে পারেননি। নিজের ফর্মহীনতার ব্যাপারে রোহিত কোচ এবং নির্বাচকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং এমন একজন খেলোয়াড়কে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছেন যিনি ফর্মে আছেন।

এর আগে, ভারত নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অক্টোবর-নভেম্বরে ঘরের মাঠে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হারে, যেখানে রোহিতের ফর্ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। গত বছর বিশ্বকাপ জয়ের পর তিনি টি২০ ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। শুক্রবার রোহিতের পরিবর্তে অধিনায়ক হিসেবে টস করেন জাসপ্রিত বুমরাহ।

সর্বশেষ খবর

৭ বছর পর ফিরেও বক্স অফিস কাঁপাচ্ছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’

0
অনলাইন ডেস্ক: মুক্তির সাত বছর পর বাড়তি দৃশ্য নিয়ে আবারও প্রেক্ষাগৃহে ফিরেছে মার্ভেল ও ডিজনির জনপ্রিয় সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’। নতুন সিনেমার ভিড়েও বক্স অফিসে দাপট...