Sunday, September 27, 2026
33 C
Dhaka
Sunday, September 27, 2026

নরওয়ের হাদসেল জেলায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত, চারজন গুরুতর আহত

অনলাইন ডেস্ক:

নরওয়ের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের হাদসেল জেলায় একটি ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে (গ্রিনিচ সময় ১২টা ৩০ মিনিট) দুর্ঘটনাটি ঘটে, যার পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বিষয়টি জানায়।

খবরে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে এসে আসভাটনেট হ্রদের মধ্যে আংশিকভাবে ডুবে যায়। বাসটিতে মোট ৫৮ জন যাত্রী ছিল, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনজনকে উদ্ধার করে স্টকমার্কনেস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, অন্যদের কাছের একটি স্কুলে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাসের ভেতর থেকে সব যাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে তুষারঝড় ও প্রবল বাতাসের কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

এ দুর্ঘটনার উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে অগ্নি নির্বাপন দল, অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশ। নরওয়ের রেড ক্রস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনার স্থানে সহযোগিতা করতে একটি দল পাঠিয়েছে।

নরওয়ের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে জানিয়েছে, বাসটি নারভিক শহর থেকে লোফোটেন দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। স্থানীয় ভোগান জেলার মেয়র ভিদার থম বেঞ্জামিনসেন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য একটি স্থানীয় হোটেল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরে দুর্ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।

বক্সিং ডে-তে লেস্টারকে হারিয়ে শীর্ষস্থানে লিভারপুল

অনলাইন ডেস্ক:

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বক্সিং ডে ম্যাচে লেস্টার সিটিকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল। আর্নে স্লটের দল সহজ জয় তুলে নিয়ে তাদের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে। লিভারপুলের হয়ে গোল করেন কোডি গাকপো, কার্টিস জোনস এবং মোহাম্মদ সালাহ। লেস্টারের পক্ষে সান্ত্বনার একমাত্র গোলটি করেন জর্ডান এআও।

এই জয়ের পর লিভারপুল ১৭ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চেলসি লিভারপুলের চেয়ে ৭ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে এবং একটি ম্যাচও বেশি খেলেছে। ফলে লিভারপুল তাদের পরবর্তী ম্যাচ জিতলে পয়েন্ট ব্যবধান হবে ১০। এতে শিরোপার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে যাবে অল রেডস।

লেস্টারের বিপক্ষে গোল করে লিভারপুলের ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে নিজের গোলের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন মোহাম্মদ সালাহ। এটি তার ১০০তম গোল, যা তাকে ঘরের মাঠে লিভারপুলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

জয়ের পর সালাহ বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দল জেতা। আমরা আশা করি প্রিমিয়ার লিগ জিতবো। তবে আমরা প্রতিটি খেলায় ফোকাস করি এবং নম্র থাকার চেষ্টা করি। এটি ক্লাবের জন্য বিশেষ কিছু হবে, যা আমি সবসময় স্বপ্ন দেখেছি।”

লিভারপুলের সামনের পথ সহজ হতে পারে, কারণ তারা এখন টেবিলের শীর্ষে থেকে প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। সালাহর ফর্ম এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স তাদের শিরোপার পথে বড় আশার সঞ্চার করেছে।

লেস্টারের বিপক্ষে জয় ও সালাহর সেঞ্চুরি লিভারপুলের জন্য নতুন বছরের শুরুটা আরও আশাব্যঞ্জক করে তুলেছে।

দর্শকদের জন্য চমক: বিপিএলের ধারাভাষ্য প্যানেল প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক:

বিপিএলের এবারের আসর শুরু হতে যাচ্ছে আগামী সোমবার, আর সেই সাথে ঘোষণা করা হয়েছে চূড়ান্ত ধারাভাষ্য প্যানেলের তালিকা। মাঠের ক্রিকেটের উত্তেজনা টিভি পর্দায় পৌঁছে দিতে যারা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন, সেই ধারাভাষ্যকারদের তালিকায় এবার রয়েছে দেশি-বিদেশি তারকাদের নাম।

বাংলাদেশের ধারাভাষ্যকারদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম আতহার আলী খান। বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক সুন্দর মুহূর্তকে তার কণ্ঠেই শ্রোতারা উপভোগ করেছেন। আতহারের সাথে আরও থাকছেন শামীম আশরাফ চৌধুরী, সমন্বয় ঘোষ এবং মাজহার উদ্দিন অমি।

বিদেশি ধারাভাষ্যকারসহ এক নজরে দেখে নিন এবারের বিপিএলের ধারাভাষ্যকারদের চূড়ান্ত প্যানেল:

  • আতহার আলী খান
  • শামীম আশরাফ চৌধুরী
  • সমন্বয় ঘোষ
  • মাজহার উদ্দিন অমি
  • টিনো মায়োয়ো
  • আমির সোহেল
  • স্যার কার্টলি আমব্রোস
  • এইচডি আকারম্যান
  • ড্যানি মরিসন

বিপিএলের ধারাভাষ্য প্যানেল এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে দর্শকরা মাঠের বাইরের উত্তেজনাও উপভোগ করতে পারেন। এবার টিভি পর্দায় খেলা দেখার অভিজ্ঞতা হবে আরও রোমাঞ্চকর।

পুতিন: স্রষ্টা আমাদের সাথে আছেন, ইউক্রেন সংঘাতে রাশিয়া বিজয়ী হবে

অনলাইন ডেস্ক:

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের সাথে চলমান সংঘাতে রাশিয়া বিজয়ী হবে এবং স্রষ্টা রাশিয়ার পাশে আছেন। সেন্ট পিটার্সবার্গে সুপ্রিম ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কাউন্সিলের (এসইইসি) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

পুতিন ২০২৫ সালে রাশিয়ার বিজয়ের মধ্য দিয়ে ইউক্রেন সংঘাতের সমাপ্তি ঘটবে বলে বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, “আমি স্রষ্টায় বিশ্বাস করি এবং নিশ্চয়ই তিনি আমাদের সঙ্গে আছেন।”

এছাড়া, ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদ বিলম্বিত হওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে সংঘাত বন্ধের প্রস্তাব দিতে পারে, সে সম্পর্কে পুতিন বলেন, “২০২১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রথম ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ বিলম্বিত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা মস্কোর কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার ২০২৫ সালের ‘প্রথম লক্ষ্য’ হচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয় অর্জন করা এবং সংঘাতের অবসান ঘটানো। “আমরা বিশ্বাস করি, সামনের সারিতে সফল হবো এবং আমাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক উদ্দেশ্যগুলো অর্জন করব,” বলেন পুতিন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে, মস্কো ও কিয়েভ উভয়েই নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে, যা ভবিষ্যত সংঘাতের অবসান ঘটানোর প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মেলবোর্ন টেস্ট: স্মিথের সেঞ্চুরিতে অজিদের বড় স্কোর, চাপে ভারত

অনলাইন ডেস্ক:

স্টিভেন স্মিথের অসাধারণ সেঞ্চুরির ওপর ভর করে মেলবোর্নে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪৭৪ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে, দ্বিতীয় দিন শেষে ভারতের স্কোর ১৬৪ রান, ৫ উইকেট হারিয়ে এখনো ৩১০ রানে পিছিয়ে সফরকারী দল।

প্রথম দিনে ৬ উইকেটে ৩১১ রানে শেষ করা অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় দিনে স্মিথ ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের ব্যাটে এগিয়ে যায়। সপ্তম উইকেটে ১১২ রানের জুটি গড়েন তারা। কামিন্স ৪৯ রানে আউট হলেও স্মিথ টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩৪তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

স্মিথের ১৪০ রানের অনবদ্য ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৩টি চার ও ৩টি ছক্কায়। ভারতের সুনীল গাভাস্কার, ব্রায়ান লারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে ও ইউনিস খানের রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে জসপ্রিত বুমরাহ সর্বাধিক ৪টি উইকেট নেন। রবীন্দ্র জাদেজা শিকার করেন ৩টি, আর আকাশ দীপ দখল করেন ২টি উইকেট।

৪৭৪ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত দ্রুতই বিপদে পড়ে। অধিনায়ক রোহিত শর্মা মাত্র ৩ রান করে আউট হন। লোকেশ রাহুলও ২৪ রানের বেশি করতে পারেননি। এরপর যশস্বী জয়সওয়াল ও বিরাট কোহলি ভারতের ইনিংস কিছুটা সামাল দেন।

যশস্বী ৮২ রানে রান আউট হন এবং কোহলি ৩৬ রানে স্কট বোল্যান্ডের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা আকাশ দীপ শূন্য রানে আউট হন।

দিনের বাকি সময় কোনো উইকেট না হারিয়ে উইকেটরক্ষক ঋষভ পান্ত (৬) ও রবীন্দ্র জাদেজা (৪) অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স ও স্কট বোল্যান্ড উভয়েই ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।

ভারতের জন্য তৃতীয় দিনটি হবে চ্যালেঞ্জিং, কারণ বড় ব্যবধান পেরোতে এখনো অনেক পথ বাকি।

সমালোচনা থাকবেই, যেহেতু আমরা পাবলিক ফিগার : জেফার

অনলাইন ডেস্ক:

বিজয় দিবসে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বাংলাদেশ কনসার্টে গানের মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন পপ গায়িকা জেফার রহমান। কনসার্টে গান গাওয়ার চেয়ে নাচে বেশি মনোযোগী হওয়া এবং গানে লিপসিং করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এই পারফরম্যান্স নিয়ে বেশ তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

এবার, সেই বিতর্কের মুখে জেফার রহমান তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “সমালোচনা থাকবেই, আমরা যেহেতু পাবলিক ফিগার, তবে আমার কাছে মনে হয় যে- আমি অনেকদিন ধরে কাজ করছি। আমাকে একজন মিউজিশিয়ান হিসেবে অনেকদিন ধরেই দেখছেন। যারা আমাকে চেনেন, আমি কী রকম গান করি- তারা জানেন। তাই সমালোচনা আমাকে তেমন প্রভাবিত করে না।”

লিপসিং প্রসঙ্গে জেফার বলেন, “আমি ইউটিউব থেকে উঠে এসেছি, ইংলিশ গান করতাম। আমার খালি গলায় অনেক গান রয়েছে। সেগুলো ইউটিউবে আছে, আমার কাছে আছে, আপনাদের কাছেও আছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি একজন পপ আর্টিস্ট, আমাদের লাইভ এবং ট্র্যাক মিক্স করেই পারফর্ম করতে হয়, কারণ আমাদের গানগুলো মানুষ ওইভাবেই চেনে। ব্যাপারটা এমন নয় যে আমি গাচ্ছি না। আমি গাচ্ছি, আমার ট্র্যাকও আছে, আমার লাইভ ব্যান্ডও আছে। এটা মানুষদের বোঝা উচিৎ।”

এছাড়াও, জেফার বলেন, “তালি দেওয়া উচিৎ, আমি লিপসিং করেই এতদূর এসেছি, তাই না?”

গান দিয়ে পরিচিত হলেও, শোবিজে একাধিক প্রতিভা দেখিয়েছেন জেফার রহমান। মডেলিং, উপস্থাপনা এবং অভিনয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। গেল ঈদে অভিনয় জগতে অভিষেক ঘটে তার।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাসের ধাক্কায় নিহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে আরও ৪ জন আহত হয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের উপ সহকারী পরিচালক সফিকুল ইসলাম জানান, মাওয়াগামী একটি প্রাইভেটকারকে পেছন থেকে বেপারী পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেল দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনায় এক শিশু ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং আহত ৮ জনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ৪ জন প্রাণ হারান।

গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার পর ঘটনাস্থলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।

দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে: ড. ইউনূস

ফাইল ছবি

ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর নির্ধারিত হওয়া উচিত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তরুণরা সংখ্যায় বেশি। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা আগ্রহী। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার মতামত নেওয়ার জন্য আমি মনে করি ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর নির্ধারিত হওয়া উচিত।

আজ শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় সংলাপ-২০২৪ এর উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এই ভাষণ দেন।

সংস্কারের বিষয়ে আমাদের মধ্যে ঐকমত্য প্রয়োজন উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, এ জন্য সর্বশেষ পর্যায়ে জাতীয় ঐকমত্য গঠন কমিশন গঠন করা হয়েছে। যেমন ধরুন-কোন বয়সে একজন নাগরিক ভোটার হতে পারবে তার জন্য নানা দেশে নানা বয়স নির্ধারণ করা আছে। নির্বাচন সংস্কার কমিশন নিশ্চয়ই এরকম একটা বয়স সুপারিশ করবে। সে বয়স আমার পছন্দ হতেও পারে না-ও হতে পারে। ধরুন আমি তরুণদের তাড়াতাড়ি ভোটার করার পক্ষে। যে যত তরুণ, পরিবর্তনের প্রতি তার আগ্রহ তত বেশি—এই হলো আমার যুক্তি। তরুণরা তাকে শক্তি যোগায়। তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে তার গভীর সখ্যতা তাকে এই শক্তি যোগায়। তরুণরা সংখ্যায়ও বেশী। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা আগ্রহী। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার মতামত নেওয়ার জন্য আমি মনে করি ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর নির্ধারিত হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, নির্বাচন সংস্কার কমিশন কি ধরনের সুপারিশ করবেন তা আমার জানা নেই। কিন্তু দেশের বেশিরভাগ মানুষ যদি কমিশনের সুপারিশ করা বয়স পছন্দ করে ঐক্যমতে পৌঁছার জন্য আমি তা মেনে নেব।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংস্কারের যে মহান দায়িত্ব ঐতিহাসিক কারণে আমাদের কাছে এসে গেছে এই দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেককে যার যার অবস্থান থেকে পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি রাজনৈতিক দল, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ব্যবসায়িক এবং ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর প্রত্যেককে দৃঢ়তার সঙ্গে সংস্কারের এই মহাযজ্ঞে আনন্দের সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল বাংলাদেশকে মুক্ত করেনি, আমাদের স্বপ্নকেও তুমুল সাহসী করে তুলেছে। বাকহীন বাংলাদেশ জোরালো কণ্ঠে আবার কথা বলার শক্তি ফিরে পেয়েছে। এই দৃঢ় কণ্ঠ ঐক্য গঠনে সোচ্চার হয়েছে। ঐক্য আমাদের মূল শক্তি।

জুলাই অভ্যুত্থান আমাদেরকে ঐতিহাসিক মাত্রায় বলিয়ান করেছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গত পাঁচ মাসে এই ঐক্য আরও শক্তিশালী হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধ শক্তি আমাদের মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি করার ক্রমাগত প্রয়াস চালাতে থাকায় আমাদের ঐক্য আরও মজবুত হচ্ছে। এই ঐক্যের জোরেই এখন আমরা অসাধ্য সাধন করতে পারি। এখনই আমাদের সর্বোচ্চ সুযোগ। এমন অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে যেটা সকল নাগরিকের জন্য সম্পদের ও সুযোগের বৈষম্যহীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করবে।

তিনি বলেন, যত নিম্ন আয়ের পরিবারেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন- প্রতিটি নাগরিকের, তিনি নারী হোক, আর পুরুষই হোক তিনি যেন বিনা বাধায় তো বটেই বরং রাষ্ট্রের আয়োজনে তার সৃজনশীলতা প্রকাশ করে যে কোনো পর্যায়ের উদ্যোক্তা হতে পারেন বা তিনি যে ধরনের কর্মজীবন চান তাই বেছে নিতে পারবেন। এমন রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবেশ থাকবে যেখানে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু এই পরিচিতি অবান্তর হয়ে পড়বে। সবার একটিই পরিচয়-আমি বাংলাদেশের নাগরিক এবং রাষ্ট্র আমাকে আমার সকল অধিকার প্রদান করতে বাধ্য।

ড.ইউনূস আরও বলেন, রাষ্ট্রের কাছে এবং অন্য নাগরিকের কাছে আমার আর কোনো পরিচয় দেবার প্রয়োজন হবে না। যেখানে ব্যক্তি বন্দনার কোনো সুযোগ থাকবে না। দেশের ভেতরে বা বাইরে প্রভু-ভৃত্যের কোনো সম্পর্কের সুযোগ থাকবে না। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার সুবাদে হবো বিশ্ব নাগরিক। দেশের মঙ্গল সাধন করা যেমন হবে আমাদের নাগরিক দায়িত্ব, তেমনি বিশ্বের মঙ্গল সাধন করাও আমাদের কর্তব্য, এ দায়িত্বও আমরা সমানভাবে পালন করব। আমাদের তরুণ-তরুণীরা দ্রুত এই দুই দায়িত্ব সমানভাবে পালন করার জন্য প্রস্তুতি নেবে।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের যোদ্ধাদের স্মরণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের সকল যোদ্ধাদের। বিশেষ করে অভিবাদন জানাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ছাত্রজনতাকে। যারা আহত হয়েছেন, চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন, যাদের অঙ্গহানি হয়েছে তাদের প্রতি আমাদের ঋণ শোধ হওয়ার নয়। নতুন বাংলাদেশ গঠনে তাদের প্রেরণা ও অবদান জাতি কখনো ভুলতে পারবে না।’

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের রূপান্তর পর্বে প্রবেশ করার অধিকার অর্জন করেছি। এই রূপান্তর দ্রুত সফলভাবে কার্যকর করার জন্য আমাদেরকে সকল শক্তি নিয়োজিত করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে। পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ আমাদের নেই। আমাদের এই কাঙ্ক্ষিত রূপান্তরের লক্ষ্য হবে সকল ধরনের বৈষম্য অবসানের রাজনৈতিক আয়োজন নিশ্চিত করা, এদেশে গণতান্ত্রিক ও নাগরিক সমতা ভিত্তিক একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ নির্মাণ ছাড়া জুলাইয়ের শহীদদের আত্মদান অর্থবহ হতে পারে না।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশকে আদর্শভিত্তিক সকল রকমের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করে গভীর অন্ধকারের দিকে আমাদেরকে নিয়ে গিয়েছিল। আমরা আবার প্রিয় বাংলাদেশকে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের পথে ফেরানোর লক্ষ্যে কাজ করছি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ড. ইউনূস বলেন, ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন- এই তিন লক্ষ্যের কোনোটিকে ছাড়া কোনোটি সফল হতে পারবে না। ঐক্যবিহীন সংস্কার কিংবা সংস্কারবিহীন নির্বাচন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারবে না। পাশাপাশি আমরা ভুলতে পারি না যে, আমাদের ছাত্র-জনতা অটুট সাহসে শিশুহত্যাকারী ও পৈশাচিক ঘাতকদের মোকাবিলা করেছে। মানবতার বিরুদ্ধে এমন নিষ্ঠুরতাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

সংস্কার ও নির্বাচনের প্রস্তুতি একই সঙ্গে চলতে থাকবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ মূলত নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু সংস্কারের কাজে সকল নাগরিককে অংশগ্রহণ করতে হবে। যারা ভোটার তারা তো অংশগ্রহণ করবেনই, তার সঙ্গে যারা ভবিষ্যতে ভোটার হবেন তারাও সর্বাত্মকভাবে সংস্কারের কাজে নিজেদেরকে নিয়োজিত করুন।

তিনি বলেন, সংস্কারের কাজটা নাগরিকদের জন্য সহজ করতে আমরা ১৫টি সংস্কার কমিশন গঠন করে দিয়েছি। তাদের প্রতিবেদন আমরা জানুয়ারি মাসে পেয়ে যাব। প্রত্যেক সংস্কার কমিশনের দায়িত্ব হলো প্রধান বিকল্পগুলো চিহ্নিত করে তার মধ্য থেকে একটি বিকল্পকে জাতির জন্য সুপারিশ করা। যার যার ক্ষেত্রে সংস্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কিভাবে রচিত হবে তা বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে সুপারিশমালা তৈরি করে দেয়া। এতে নাগরিকদের পক্ষে মতামত স্থির করা অনেকটা সহজ হবে। তবে কমিশনের প্রতিবেদনে সুপারিশ করলেই আমাকে-আপনাকে তা মেনে নিতে হবে এমন কোনো কথা নেই।

সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করতে চাই উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, সব ক’টা কমিশন মিলে আমাদের সামনে বহু সুপারিশ তুলে ধরবে। আমরা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছি যে যার যাই মতামত হোক না কেন আমরা দ্রুত একটা ঐক্যমতে পৌঁছে সংস্কারের কাজগুলো করে ফেলতে চাই। নির্বাচনের পথে যেন এগিয়ে যেতে পারি সেই ব্যবস্থা করতে চাই। আপনাদের আজকের সংলাপ সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য এমন একটি প্রক্রিয়া তুলে ধরে আমাদের এই দায়িত্বকে সহজ এবং গতিময় করে দেবে আশা করছি।

উপদেষ্টা সংলাপের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

—–বাসস

থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে আতশবাজি নিষিদ্ধ

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইংরেজি নববর্ষ বা থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনকে কেন্দ্র করে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয় একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সবার সহযোগিতা কামনা করে জানিয়েছে, আতশবাজি ও পটকা ব্যবহার ক্ষতিকর এবং বেআইনি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে আতশবাজি এবং পটকা ব্যবহার একটি ঐতিহ্য হলেও, এই জাতীয় কার্যকলাপ শব্দ এবং বায়ু দূষণ বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। অতীতে নববর্ষ উদযাপনের সময় আতশবাজির বিকট শব্দে ভয় পেয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়াও, অতিরিক্ত শব্দের কারণে শ্রবণশক্তি ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস, ঘুমের ব্যাঘাত, উদ্বেগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং অন্যান্য মানসিক ও শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নববর্ষ উদযাপনের সময় অননুমোদিত আতশবাজি এবং পটকা বিস্ফোরণ শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ এর বিধি ৭ লঙ্ঘন করে। এই ধরনের কার্যকলাপ বিধি ১৮ এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

আইন অনুযায়ী, এই বিধি লঙ্ঘন করলে প্রথম অপরাধের জন্য এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পরবর্তী লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় ১৬ নারী-পুরুষ আটক

জেলা প্রতিনিধি :

বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে বেনাপোলের ধান্যখোলা সীমান্তে ১৬ জন বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে ভারত থেকে দেশে অনুপ্রবেশের সময় আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪ জন নারী, ১১ জন পুরুষ এবং ১ জন শিশু রয়েছে। তারা পিরোজপুর, নড়াইল এবং খুলনা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন মিন্টু (৩৭), রনি (২৮), জনি (৩২), কমল প্রমানিক (২২), আসলাম (৩২), আবু সালেক (৩৬), বেল্লাল হোসেন (৪১), রফিকুল ইসলাম (২৯), সাকিবুল হাসান (১৭), রাশিদা বেগম (৩৭), রিনা খাতুন (২৭), রাকিবুল ইসলাম (৭), নাজমা খাতুন (৩০), বনানী শিকদার (৩৫), শাহিনুর রহমান (৩৫) এবং জিহাদ (২৭)।

৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ্ সিদ্দিকী জানান, আটককৃতরা চলতি বছরের ১৮ এবং ২১ মার্চ সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। পরে, তারা দালালদের মাধ্যমে ধান্যখোলা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিল।

ধান্যখোলা ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর

মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার ৯

0
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুরে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর)...