Sunday, September 27, 2026
33 C
Dhaka
Sunday, September 27, 2026

গাজীপুরে আগুনে পুড়ে গেছে দুটি কলোনির ৫৭টি ঘর

ছবি: সংগৃহীত

জেলা প্রতিনিধি :

গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকার দুটি কলোনিতে অগ্নিকাণ্ডে ৫৭টি ঘর পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পর প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানান, রাত ১২টার দিকে কোনাবাড়ির আমবাগ এলাকায় একটি কলোনিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের আরেকটি কলোনিতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় খবর পেয়ে কোনাবাড়ি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে কাশিমপুরের সারাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিটসহ মোট চারটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় রাত দেড়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

এ ঘটনায় দুটি কলোনির ৫৭টি ঘরের মালামাল আগুনে পুড়ে যায়। তবে, আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে বলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

উল্লাপাড়ায় গমবোঝাই ট্রাক উল্টে মালিক নিহত

জেলা প্রতিনিধি :

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় গমবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে মালিক নূর মোহাম্মদ (৬০) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের উল্লাপাড়া পৌর এলাকার ফায়ার স্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নূর মোহাম্মদ চাঁদপুর জেলার জাঙ্গারচর পৌরসভার কোটারচর মহল্লার মৃত আব্দুল জলিল সরকারের ছেলে এবং ট্রাকটির মালিক ছিলেন।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ জানান, গমবোঝাই একটি ট্রাক গাইবান্ধা যাওয়ার পথে ওই স্থানে বিকল হয়ে পড়ে। পরে ট্রাকচালক ও হেলপার স্থানীয় মিস্ত্রি ডেকে মেরামত করতে গেলে জ্যাক ফসকে ট্রাকটি উল্টে যায়। ট্রাকচালক ও মিস্ত্রি দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে রক্ষা পেলেও, ট্রাক মালিক নূর মোহাম্মদ পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং ট্রাকটির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে কোনো অভিযোগ না থাকায় তার মরদেহ মঙ্গলবার সকালে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খানের পরিচয়পত্র পেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পাকিস্তানে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান আজ পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারির কাছে তার পরিচয়পত্র (লেটার অব কনফারেন্স) পেশ করেছেন।

এ অনুষ্ঠানটি ইসলামাবাদে রাষ্ট্রপতির বাসভবন ‘আইওয়ান-ই-সদর’ এ ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, এবং চিফ অফ প্রটোকল উপস্থিত ছিলেন।

হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পৌঁছালে পাকিস্তানের চিফ অফ প্রটোকল তাকে অভ্যর্থনা জানান। হাইকমিশনারের সঙ্গে তার সহধর্মিণী, হাইকমিশনের উপহাইকমিশনার ও প্রেস কাউন্সিলরও উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সার্বিক সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান জানান এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান এবং দু’দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়সহ বহুমুখী সম্পর্ক উন্নয়নে তার সদিচ্ছার কথা জানান।

হাইতিতে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক:

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতালে বন্দুকধারীদের হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই সাংবাদিক ও এক পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন, এছাড়া আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানায়, মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দেশটির সবচেয়ে বড় হাসপাতালটি পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ের সময় সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি চালায়। হামলায় নিহতদের মধ্যে সাংবাদিক, পুলিশ এবং চিকিৎসাকর্মীরা রয়েছেন।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এই ঘটনার এক প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে ভবনের ভেতরে আহত বা মৃত অবস্থায় পড়ে থাকা কয়েকজনের ছবি দেখা গেছে।

হামলার সময় সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য মন্ত্রী লর্থ ব্লেমারের আগমন প্রত্যাশা করছিলেন। এমন সময় সশস্ত্র গ্যাং সদস্যরা হামলা চালায়। এই হামলায় দুই সাংবাদিক এবং এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

হাইতিয়ান টাইমসের ফটো সাংবাদিক দিউগো আন্দ্রে বলেন, “এটি একটি ভয়ানক সিনেমার মতো দৃশ্য ছিল।” তিনি বলেন, “বেশ কয়েকজন আহত সাংবাদিকের রক্ত আমার পোশাকে লেগে ছিল।”

এই হামলার জন্য দায়ী হিসাবে ভিভ আনসানাম গ্যাংয়ের সদস্যদের নাম উঠে এসেছে।

হাইতির প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের প্রধান লেসলি ভলটেয়ার এক ভিডিও বিবৃতিতে নিহতদের পরিবার এবং হাইতি ন্যাশনাল পুলিশ ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “আমরা তাদের গ্যারান্টি দিচ্ছি যে এই কাজটির জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।”

হাইতির গ্যাং সহিংসতা ২০২১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোয়েসকে হত্যার পর থেকেই বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে পোর্ট-অ-প্রিন্স শহরের প্রায় ৮৫ শতাংশ অংশ গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, শুধু এই বছরেই হাইতিতে সহিংসতায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং দেশটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

বড়দিন উপলক্ষে খোলা থাকবে ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষে ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহার ২৫ ডিসেম্বর, বুধবার খোলা থাকবে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জাদুঘরের কাস্টডিয়ান শাহীন আলম।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) তিনি বলেন, “বড়দিন উপলক্ষে আমরা ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহার খোলা রেখেছি। তবে সকল দর্শনার্থীকে ৩০ মিনিট আগে টিকিট সংগ্রহের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, “বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহার বন্ধ থাকবে।”

আজ শুভ বড়দিন

প্রতীকী ছবি

আজ ২৫ ডিসেম্বর, শুভ বড়দিন। এদিন এই পৃথিবীতে আগমন করেন খ্রিষ্টান ধর্মের প্রবর্তক যিসাস ক্রাইস্ট বা যিশু খ্রিষ্ট বা ঈসা মসীহ। আজ থেকে প্রায় ২ হাজার ২৩ বছর আগে এদিনে জেরুজালেমের বেথেলহাম শহরের এক গোয়ালঘরে জন্ম হয় তাঁর।

তবে যিশুর জন্মের অনেক বছর পর খ্রিষ্টানরা এ দিনটিকে আনন্দ ও মুক্তির দিন হিসেবে পালন করতে শুরু করেন। ৪৪০ সালে পোপ এ দিবসকে স্বীকৃতি দেন। তবে উৎসবটি জনপ্রিয়তা পায় মধ্যযুগে। সে সময় এর নাম হয় ‘ক্রিসমাস ডে’।

এদিনে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ও নানা আয়োজনে আজ উদযাপন করছে তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব, যিশু খ্রিষ্টের জন্মতিথি, বড়দিন।

আজ খ্রিষ্টানদের ঘরে ঘরে উৎসবের আনন্দ। বর্ণিল আলোকের ফল্গুধারায় ভেসে যাচ্ছে গির্জা, গৃহ-দুয়ার আর অভিজাত হোটেলগুলো। সাজানো হয়েছে গোশালা, ক্রিসমাস ট্রি আর বহুবর্ণ বাতি দিয়ে।

আজ সরকারি ছুটি। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন, বেসরকারি টিভি ও রেডিও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় উৎসব ‘বড়দিন’ উপলক্ষে সম্প্রদায়ের নেতাদের জন্য আজ দুপুরে বঙ্গভবনে এক সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন। দুপুর ১২টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপ্রধান এই উপলক্ষে বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল হলে গণমাধ্যমের মাধ্যমে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে একটি শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি একটি কেক কাটবেন এবং পরে ধর্মীয় নেতাদের সাথে ফটোসেশনে অংশ নেবেন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীসহ সবার শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে বলেন, ‘একটি বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরো মজবুত করতে হবে। আমি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে একটি আধুনিক, উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় সামিল হওয়ার আহ্বান জানাই।’

গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ’ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বাণীতে সবাইকে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। হাজার বছর ধরে এদেশে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষ একসাথে মিলেমিশে বসবাস করছে। এখানে রয়েছে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা। বড়দিন দেশের খ্রিষ্টান ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যকার বিরাজমান সৌহার্দ ও সম্প্রীতিকে আরো সুদৃঢ় করবে বলে আমি আশা করি।’

বড়দিন উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

খ্রিষ্টানদের এই উৎসব ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. মাসুদ করিম।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রমনার কাকরাইলে অবস্থিত সেন্ট মেরী’স ক্যাথেড্রাল চার্চে বড়দিনের সার্বিক নিরাপত্তা মহড়া পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘নগরীর প্রতিটি চার্চে সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও এই উৎসবকে ঘিরে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল টিমসহ স্পেশালাইজড ইউনিটগুলো দায়িত্ব পালন করবে। বর্তমানে সেনাবাহিনী আমাদের সাথে আছে। তারাও মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। সকলের সহযোগিতায় অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে বড়দিন উদযাপন হবে।’

বড়দিন উপলক্ষে ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ নেই দাবি করে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত সতর্ক রয়েছি।’

বড়দিন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত রাজধানীতে আতশবাজি, পটকা ফোটানো এবং ফানুস উড়ানো নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ।

যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন স্মরণে গির্জাগুলো সেজেছে বর্ণিলভাবে। বড় হোটেলগুলোও সাজানো হয়েছে বড়দিনের আমেজে। আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠানের। সেখানে শিশুদের জন্য নানা উপহারের ডালি সাজিয়ে আসবেন ‘সান্তা ক্লজ’।

গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জায় বড় দিনের বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

রমনার কাকরাইলের সেন্ট মেরীস ক্যাথেড্রাল চার্চের গির্জাসহ সব গির্জায় ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, হোটেল সোনারগাঁও, দ্য ওয়েস্টিন, রেডিসনসহ নামিদামি তারকা হোটেলগুলোতে বড়দিন উদযাপনের নানা আনন্দমুখর আয়োজন করা হয়েছে।

কাকরাইলের রমনা সেন্ট মেরীস ক্যাথেড্রাল চার্চ ও মোহাম্মদপুরের সেন্ট ক্রিস্টিনা গির্জার ভেতরে ও বাইরে নানা রঙের বেলুন, নকশা করা ককশিট, রঙিন কাগজ, জরি ও ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে কৃত্রিম ক্রিসমাস ট্রি।

গির্জা প্রাঙ্গণে থাকা গাছে ঝোলানো হয়েছে রং-বেরঙের বাতি। গির্জার মূল ফটকের বাইরে মেলা বসেছে। মেলার দোকানগুলোতে বড়দিন ও ইংরেজি নতুন বছরের কার্ড, নানা রঙের মোমবাতি, সান্তা ক্লজের টুপি, জপমালা, ক্রিসমাস ট্রি, যিশু-মরিয়ম-যোসেফের মূর্তিসহ নানা জিনিস বিক্রি হচ্ছে।

দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে বড়দিনে আজ থাকছে শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন। সকাল ৯ টা থেকে ৩টা পর্যন্ত দ্য ওয়েস্টিন ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে থাকবে বিনোদনের হরেক রকম ব্যবস্থা। টিকিটের মূল্য পড়বে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা।

শেরাটন হোটেলে কিডস পার্টি আজ। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত হোটেলটির আলফ্রেস্কো লেভেল ১৪-এ আয়োজিত হবে এই অনুষ্ঠান।

—-বাসস

চাঁদপুরে সাত হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ইরফান গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে গত ২৪ ডিসেম্বর সংঘটিত চাঞ্চল্যকর সাতজন হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ইরফানকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১। বাগেরহাটের চিতলমারী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে কুমিল্লা র‍্যাব-১১ কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। ২৫ ডিসেম্বর বুধবার দুপুর সাড়ে ১১টায় র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এসময় র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইরফান হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়া দীর্ঘ ৮ মাস ধরে ইরফানকে বেতন দিচ্ছিলেন না এবং দুর্ব্যবহার করতেন। এই ক্ষোভ থেকেই ইরফান ও তার সহযোগী আকাশ মন্ডল চেতনানাশক ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে সবাইকে হত্যার পরিকল্পনা করে। হত্যার পর ইরফান পালিয়ে যায় এবং তাকে আটক করতে নানা তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়।

এদিকে, চাঁদপুরের হাইমচর থানায় ২৪ ডিসেম্বর রাতে সাত হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। নৌ-পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, মামলায় খুন ও ডাকাতির অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্ব চাঁদপুর সদরের হরিণাঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে দেওয়া হয়েছে।

জাহাজটি থেকে উদ্ধারকৃত রক্তমাখা চাইনিজ কুড়ালের ফিঙ্গার প্রিন্টসহ নানা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় ইরফানকে। একইসাথে, ৮ হাজার টাকা, স্মার্টফোন, মানিব্যাগ, চাকু, এবং অন্যান্য প্রমাণও উদ্ধার হয়েছে।

তবে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মেঘনা নদীর মনিপুর টেক এলাকায় এর আগে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, তবে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড আগে কখনো ঘটেনি। নদীপথে বড় পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ চলাচল করলেও, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন।

এদিকে, চাঁদপুর নৌসংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক শ. আ. মাহফুজ উল আলম মোল্লা জানিয়েছেন, অবৈধ রেজিস্ট্রেশনবিহীন কার্গো জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে এই হত্যাকাণ্ডে জাহাজটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার পর আমরা বিষয়টি তদন্ত করেছি এবং রহস্য দ্রুত উদঘাটিত হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।”

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা মো. হারুন বলেছেন, আসামী গ্রেফতার হওয়ায় তারা দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছেন। তিনি বলেন, নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন এবং প্রতিটি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

চাঁদপুরে সাত হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ইরফান গ্রেফতার

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে গত ২৪ ডিসেম্বর সংঘটিত চাঞ্চল্যকর সাতজন হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ইরফানকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১। বাগেরহাটের চিতলমারী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে কুমিল্লা র‍্যাব-১১ কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। ২৫ ডিসেম্বর বুধবার দুপুর সাড়ে ১১টায় র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এসময় র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইরফান হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়া দীর্ঘ ৮ মাস ধরে ইরফানকে বেতন দিচ্ছিলেন না এবং দুর্ব্যবহার করতেন। এই ক্ষোভ থেকেই ইরফান ও তার সহযোগী আকাশ মন্ডল চেতনানাশক ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে সবাইকে হত্যার পরিকল্পনা করে। হত্যার পর ইরফান পালিয়ে যায় এবং তাকে আটক করতে নানা তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়।

এদিকে, চাঁদপুরের হাইমচর থানায় ২৪ ডিসেম্বর রাতে সাত হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। নৌ-পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, মামলায় খুন ও ডাকাতির অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্ব চাঁদপুর সদরের হরিণাঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে দেওয়া হয়েছে।

জাহাজটি থেকে উদ্ধারকৃত রক্তমাখা চাইনিজ কুড়ালের ফিঙ্গার প্রিন্টসহ নানা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় ইরফানকে। একইসাথে, ৮ হাজার টাকা, স্মার্টফোন, মানিব্যাগ, চাকু, এবং অন্যান্য প্রমাণও উদ্ধার হয়েছে।

তবে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মেঘনা নদীর মনিপুর টেক এলাকায় এর আগে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, তবে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড আগে কখনো ঘটেনি। নদীপথে বড় পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ চলাচল করলেও, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন।

এদিকে, চাঁদপুর নৌসংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক শ. আ. মাহফুজ উল আলম মোল্লা জানিয়েছেন, অবৈধ রেজিস্ট্রেশনবিহীন কার্গো জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে এই হত্যাকাণ্ডে জাহাজটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার পর আমরা বিষয়টি তদন্ত করেছি এবং রহস্য দ্রুত উদঘাটিত হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।”

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা মো. হারুন বলেছেন, আসামী গ্রেফতার হওয়ায় তারা দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছেন। তিনি বলেন, নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন এবং প্রতিটি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, যদিও বিশ্বজুড়ে পরিবর্তন ঘটছে, তবে ভারত ও বাংলাদেশ সত্যিই একে অপরকে এমন কিছু দিতে পারে যা পেতে তাদের অন্য কোথাও যাওয়ার দরকার নেই। তিনি আরো বলেন, ভারত এই সম্পর্ককে এক ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও গঠনমূলক সম্পর্ক হিসেবে দেখতে চায়, যা উভয়ের জন্য লাভজনক।

২৪ ডিসেম্বর, সোমবার, নয়া দিল্লিতে দুই ধাপের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে হাইকমিশনে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে এ মন্তব্য করেন প্রণয় ভার্মা। তিনি ভারতের গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ এবং প্রগতিশীল বাংলাদেশের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভার্মা বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা এই সম্পর্কের দিকে তাকাচ্ছি। আমাদের একে অপরকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে, বিশেষত প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দু দেশের সম্পর্ককে পরস্পরের স্বার্থ, উদ্বেগ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি সংবেদনশীল হয়ে বিবেচনা করতে হবে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা সত্যিই বাংলাদেশে একটি ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও গঠনমূলক সম্পর্ক চাই, যা উভয়ের জন্য লাভজনক। তবে, এই সম্পর্ক অবশ্যই পরস্পরের জন্য লাভজনক হতে হবে। জনগণই এই সম্পর্কের মূল অংশীজন।’

ভার্মা বলেন, ‘সম্পর্কের অগ্রগতি ধীর হয়েছে- এমন ধারণা ঠিক নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসকে পাঠানো বার্তা, ফোনালাপ এবং ভয়েস অব গ্লোবাল সাউথ সামিটে অধ্যাপক ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানানো- এসবই ইঙ্গিত দেয় যে, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. এস জয়শঙ্কর এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তৌহিদ হোসেনের বৈঠক এবং সম্প্রতি পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক সম্পর্কের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রমাণ।

ভার্মা বলেন, ‘ভারত থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাংলাদেশে আসছে এবং ভিসা অনুমোদনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। আমাদের সম্পর্কের মূল বিষয়গুলোকে এগিয়ে নিতে যা যা করা প্রয়োজন, দিল্লির পক্ষ থেকে সেসব করা হচ্ছে।’

এই মতবিনিময় সভায় ডিক্যাব (ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ) এর সভাপতি নুরুল ইসলাম হাসিব ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অপু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ডিক্যাবের সাবেক সভাপতি ও ডেইলি সান সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, ভিউজ বাংলাদেশের সম্পাদক মেহেদী হাসান রাশেদ এবং নিউ এজের চিফ অফ করেসপন্ডেন্টস মোস্তাফিজুর রহমান তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

কারামুক্ত পি কে হালদার

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার হালদার, ওরফে পি কে হালদার, দীর্ঘ আড়াই বছর পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কলকাতার আলিপুরের প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

কারাগার থেকে বের হয়ে পি কে হালদার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি এখন কিছু বলব না। আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে পরে সবকিছু জানাব।” এরপর তিনি একটি সাদা প্রাইভেটকারে চেপে কারাগার ত্যাগ করেন, তবে কোথায় যাচ্ছেন সে বিষয়ে কিছু জানাতে চাননি।

গত শুক্রবার কলকাতার নগরদায়রা আদালত পি কে হালদারের জামিন মঞ্জুর করে। আদালত তাকে ১০ লাখ রুপি ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন প্রদান করে। সোমবার আদালতে সেই বন্ড জমা পড়লে, পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পি কে হালদারকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এই মামলায় তার সঙ্গে জামিন পান আরও দুই সহযোগী, স্বপন মিস্ত্রি ও উত্তম মিস্ত্রি। তবে নথি এবং বন্ড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে স্বপন মিস্ত্রি কারাগার থেকে মুক্তি পাননি। এ মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

বড়দিন উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের ধর্মীয় সংহতির আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমরা সবাই মানুষ, আমাদের প্রথম পরিচয় মানুষ, তার পর ধর্ম। প্রত্যেক ধর্মে শান্তির বাণী রয়েছে। এই শান্তির বাণী আমাদের নিজেদের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাহলেই বিভেদ দূর হবে।”

বড়দিন উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, “আজকের দিনটি আমার জন্য আনন্দের, কারণ আমি আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছি। আমরা ধর্মীয় সংহতি চাই। সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগরিষ্ঠ—এই শব্দগুলো আমাদের জন্য নয়। আমরা সবাই এক পরিবার, একত্রে শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে চাই, এবং এটি আমাদের স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “যদি আমরা নিজের ধর্মের শান্তির বাণী নিজেদের মধ্যে স্থাপন করি, তবে অন্য ধর্মের মধ্যে সেই শান্তি খুঁজে পাব। তখন আর ধর্মীয় বিভেদ থাকবে না, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম সুন্দর শৈশব উপভোগ করবে।”

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় খ্রিস্টান ধর্মের নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের প্রধান ধর্মগুরু আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ, দ্য ন্যাশনাল ক্রিশ্চিয়ান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের সভাপতি বিশপ ফিলিপ পি অধিকারী, বাংলাদেশ ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও, অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ইগ্লাসিওস হেমন্ত কোড়াইয়া, এবং বাংলাদেশ খ্রিস্টান মহাজোটের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নির্মল ডি’কস্তা।

বক্তারা প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে বাংলাদেশে উদারতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ যিশু খ্রিষ্টের জীবনী, আদর্শ এবং শান্তির বাণী উল্লেখ করে বলেন, “বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। অধ্যাপক ইউনূস দেশের কঠিন দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন। তিনি একজন জ্ঞানী, সৎ এবং সর্বজনীন আস্থাভাজন ব্যক্তি। আমরা প্রার্থনা করি যে, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, মমত্ববোধ, মানবপ্রেম, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ক্ষমাশীলতা গড়ে উঠবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ আপনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে। খ্রিস্টান সম্প্রদায় সবসময় আপনার পাশে রয়েছে।”

বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে আড়াই কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার জন্য বক্তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তাঁরা জানান, এই অনুদান দেশের বিভিন্ন চার্চে বিতরণ করা হয়েছে।

অতিথিরা প্রধান উপদেষ্টাকে একটি বাইবেল উপহার দেন।

শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রমুখ।

সর্বশেষ খবর

হঠাৎ কৃতির ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাস, রহস্য ঘনীভূত!

0
অনলাইন ডেস্ক: কিছুদিন আগেই পোশাক নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। এবার নারীর স্বাধীনতা, পোশাক এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অবস্থান...