Tuesday, May 26, 2026
25 C
Dhaka
Tuesday, May 26, 2026

হামের উপসর্গে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু, দুই মাসে প্রাণ গেল ৫২৮ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৩৪ শিশু। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৫২৮ জনে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সোমবার (২৪ মে) প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহে দুইজন এবং রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮৬ শিশু। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৪৪২ জন। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৬২২ শিশু।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশে মোট ৬৩ হাজার ৮১৩ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৫০ হাজার ৫৫৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৬ হাজার ২১৪ শিশু।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১৬৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ২০৩ জন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে ২২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ৩৬ হাজার ১৭৬ শিশু।

 

চিকিৎসকেরা বলছেন, সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি কিংবা চোখ লাল হওয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজল ঢাকা, কমল ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কয়েকদিনের টানা ভ্যাপসা গরম আর দমবন্ধ করা আবহাওয়ার পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজেছে রাজধানী। রোববার (২৪ মে) বিকেলের ঝুম বৃষ্টিতে কিছু সময়ের জন্য হলেও হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন নগরবাসী। একই সঙ্গে ঈদ সামনে রেখে কেনাকাটা ও ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় সাময়িক ভোগান্তিও তৈরি হয়।

 

রোববার দুপুরের পর থেকেই ঢাকার আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। এর সঙ্গে বইতে থাকে ঝোড়ো বাতাস। বিকেল ৪টার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় টানা বর্ষণ দেখা যায়।

 

বাংলামোটর, মগবাজার, হাতিরঝিল, কারওয়ান বাজার, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির কারণে সড়কে যান চলাচল কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও সাময়িক জলজটও তৈরি হয়। তবে কয়েকদিনের অসহনীয় গরমের পর শীতল বাতাস আর বৃষ্টির ছোঁয়ায় স্বস্তি ফিরে আসে নগরজীবনে।

 

ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটা কিংবা বিভিন্ন কাজে বাইরে বের হওয়া মানুষদের কেউ কেউ বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে ফুটপাত ও সড়কের পাশে পসরা সাজিয়ে বসা ভাসমান দোকানিদের মালামাল সরিয়ে নিতে হিমশিম খেতে দেখা যায়। তবুও অনেক পথচারীকে বৃষ্টিতে ভিজেই গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। তাদের মুখেও ছিল স্বস্তির ছাপ।

 

এদিকে ঈদ উপলক্ষে যারা ইতোমধ্যে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন, তাদের জন্যও বৃষ্টিটি কিছুটা প্রশান্তি নিয়ে আসে। তপ্ত গরমের ক্লান্তি কাটিয়ে স্বস্তিদায়ক আবহাওয়া অনুভব করেন যাত্রীরা।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

 

একই সঙ্গে ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও পটুয়াখালীসহ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার বিচার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, রোববার (২৪ মে) মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে এবং বিশেষ আদালতের মাধ্যমে আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপ ও পৃথক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রামিসার ঘটনায় চার্জশিট আজই দেওয়া হবে। বিশেষ আদালতে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করা হবে। আদালত সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করবেন বলেই আশা করছি।”

 

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত শেষ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চূড়ান্ত অভিযোগপত্রের খসড়া প্রস্তুত শেষে বর্তমানে ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে তথ্য সংযোজনসহ শেষ পর্যায়ের কারিগরি কাজ সম্পন্ন করছে পুলিশ। চার্জশিটে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

 

গত বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। সেখানে তিনি স্বীকার করেন, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবনের পর শিশু রামিসাকে ধর্ষণ এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের সময় সোহেল তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘরের একটি কক্ষে আটকে রেখেছিলেন। পরে মরদেহ গুমের প্রস্তুতির সময় স্থানীয় লোকজন দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়লে সোহেল ও তার এক সহযোগী জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকেই স্বপ্নাকে আটক করেন স্থানীয়রা।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সরকার এসব অপরাধে কোনো ছাড় দেবে না।” তিনি দাবি করেন, আলোচিত ঘটনাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত গ্রেপ্তার ও তদন্ত নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

তিনি আরও বলেন, সামাজিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের সংকট এবং অপসংস্কৃতির বিস্তার এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের কথাও জানান তিনি।

 

সংলাপে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ।

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে এবার বন্যার শঙ্কা বাড়ছে। ইতিমধ্যে অতিভারি বৃষ্টির ফলে প্রাক-মৌসুমের শুরুতেই হাওরের সাত জেলাসহ চট্টগ্রাম ও রংপুর জেলায় আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। ওসব এলাকায় জলাবদ্ধতার ফলে জনভোগান্তি ও হাওরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চলতি মে মাসের মাঝামাঝিতে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে বাংলাদেশ আবারো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আর কয়েকদিন ভারি বর্ষণ থাকলে দেখা দিতে পারে বন্যা। ইতিমধ্যে এপ্রিলে সারা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আট বিভাগের মধ্যে বরিশালে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৬৯ দশমিক ৫ শতাংশেরও বেশি। আর সিলেট বিভাগে একদিনে রেকর্ড ৬০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিভাগটির স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ২৯৫ মিলিমিটার। কৃষি বিভাগ এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, হাওর অঞ্চলে গত দুই সপ্তাহের ভারি বৃষ্টিতে তীব্র বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হাওরের সাত জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্যার ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অথচ হাওরের প্রধান ফসল বোরো ধান। বৈশাখ মাসেই হাওরে বোরো ধান কাটা হয়। কিন্তু ভারি বর্ষণের কারণে এবার কৃষকরা ধান কাটতে পারেনি। ভেসে গেছে কৃষকের বোরো ধান। ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় পানিতে তলিয়ে গেছে হাওরের হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান।

 

সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী তিন মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। মে মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তাছাড়া চলতি মাসে এক-দুটি লঘুচাপ এবং সেখান থেকে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ও হতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা কম। এছাড়া এ মাসে পাঁচ-ছয়টি কালবৈশাখী হতে পারে। তার মধ্যে দুই-তিনদিন তীব্র ঝড় হতে পারে। একই সঙ্গে এক থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হতে পারে। তার মধ্যে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। মে মাসে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম থাকলেও জুন-জুলাইয়ে বাড়তে পারে বৃষ্টির পরিমাণ। সিলেট বিভাগে মে মাসে সর্বোচ্চ ৫২০ থেকে ৫৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।

 

সূত্র আরো জানায়, দ্রুতই সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি সমতলে কোথাও কোথাও প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওরে সৃষ্টি হতে পারে বন্যা। তাছাড়া নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের ধনু-বাউলাই নদী, হবিগঞ্জের কালনি ও সুতাং, মৌলভীবাজারের জুড়ী ও মনু নদীর পানিও বাড়তে পারে। ফলে ওসব এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হবে।

 

এদিকে এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ জানান, চলতি মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে তা লম্বা সময় ধরে হবে না। জুলাইয়ের দিকে গিয়ে বৃষ্টি বাড়বে।

 

অন্যদিকে এ বিষয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর রহমান জানান, এবার প্রাক-মৌসুমে বন্যার কারণে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এ সময়ে আকস্মিক বন্যা হওয়ায় ক্ষতি বেশি হয়েছে। তবে আগামী ১৫ মে থেকে বর্ষার মৌসুম শুরু হলে বৃষ্টির পরিমাণও বেশি হবে। ফলে বন্যার শঙ্কা থাকছে।

কক্সবাজার আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে গুলি, বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে প্রাণে বাঁচলেন কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী। তবে আদালত প্রাঙ্গণে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছেন তাঁর চাচাতো ভাই ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাইনুদ্দীন (৩৭)। রোববার (২৪ মে) বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

হাজিরা শেষ করে আদালতের ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় লিয়াকত আলীকে লক্ষ্য করে হঠাৎ গুলি ছোড়া শুরু করে অস্ত্রধারীরা। খালেদ নামের একজন প্রথম গুলি ছোড়েন। লিয়াকত দ্রুত সরে যাওয়ায় গুলি তাঁকে স্পর্শ না করে লাগে তাঁর ভাই মাইনুদ্দীনের পায়ে। এরপর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। লিয়াকতের সঙ্গে থাকা লোকজন জিয়াউল হক জিয়া (৩৪) নামের এক অস্ত্রধারীকে ধরে ফেললে বাকি সন্ত্রাসীরা আরো গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে অস্ত্রধারীরা আদালতের ভেতরের রাস্তা ধরে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দিকে পালিয়ে যায়।

 

আটক জিয়াউল হকের বাড়ি ঈদগাঁওয়ে। তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া উপস্থিত জনতা আরও সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মোট তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরেই এই হামলা। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, “আদালত প্রাঙ্গণে গুলি করে পালানোর সময় জিয়াউল হককে আটক করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অপর অস্ত্রধারীদের কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।” তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার মামলার প্রস্তুতি চলছে। আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।

 

লিয়াকত আলী জানান, এটি তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বড় হামলা। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ায় নিজ বাড়িতে গিয়ে তাঁকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, রোববারের হামলাতেও একই বাহিনীর সন্ত্রাসী খালেদ, শাহাবুদ্দীন ও কুতুবউদ্দিনসহ কয়েকজন অংশ নেয়। ঘটনার পর লিয়াকত আলীকে নিরাপত্তাজনিত কারণে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গুলিবিদ্ধদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে চলছে গভীর কূপ খননের কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে গভীর কূপ খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওসব কূপে দেড় থেকে দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত থাকতে পারে। যা দেশের জ্বালানি সংকটের মধ্যে নতুন আশা দেখাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে দেশের চারটি গ্যাসক্ষেত্রের চারটি কূপে এই খনন কাজ চালানোর। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস, কুমিল্লার বাখরাবাদ ও শ্রীকাইল এবং পাবনার সাঁথিয়ার মোবারকপুরে ওই গভীর কূপ খনন করা হবে। ইতিমধ্যে তিতাসে কূপ খনন শুরু হয়ে পুরোদমে কাজ চলছে। ওই পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি (বিজিএফসিএল) দুটি এবং বাপেঙ্ দুটি কূপ গভীর খনন করবে। ওই চারটি কূপ হচ্ছে বিজিএফসিএলের তিতাস-৩১ ও বাখরাবাদ-১১ নম্বর এবং বাপেঙ্রে শ্রীকাইল ও মোবারকপুর কূপ। পেট্রোবাংলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সাধারণত দেশে ২ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার মিটার গভীরতা থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হয়। যদিও কিছু ক্ষেত্রে প্রায় ৪ হাজার ৯০০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। কিন্তু এর নিচে শক্ত শিলা স্তর থাকলেও তারও নিচে গ্যাস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাপেঙ্রে ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) জরিপে মিলেছে ওই আশার ইঙ্গিত। সেজন্য এবার ৬ হাজার মিটার পর্যন্ত কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

 

সূত্র জানায়, সামপ্রতিক বাপেঙ্রে সিসমিক জরিপে বড় ধরনের গ্যাস সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। ওই কারণেই তিতাস-৩১ ও বাখরাবাদ-১১ কূপে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। জরিপের তথ্যমতে শ্রীকাইল এলাকায় প্রায় ৯২৬ বিলিয়ন ঘনফুট এবং তিতাসে প্রায় ১ হাজার ৫৮৩ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত থাকতে পারে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য মজুত দেড় থেকে দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি হতে পারে। বিজিএফসিএল গত বছর প্রথমবারের মতো গভীর কূপ খনন করতে চীনা প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুংগিংগ ড্রিলিং ইঞ্চিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে চুক্তি সই করে। চুক্তির আওতায় তিতাস-৩১ কূপটি ৫ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত এবং বাখরাবাদ-১১ কূপটি ৪ হাজার ৩০০মিটার পর্যন্ত খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর ওই দুই কূপ খননে ৭৯৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। তার মধ্যে সরকারি ঋণ ৫৫৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং বিজিএফসিএলের নিজস্ব অর্থায়ন ২৩৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদকাল ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

 

সূত্র আরো জানায়, তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে ২০১১-২০১২ সালে বাপেঙ্রে মাধ্যমে পরিচালিত ৩ডি সিসমিক জরিপ করা ডাটার ওপর ভিত্তি করে সম্ভাবনাময় কূপ দুইটি খননের পরিকল্পনা করা হয়েছে। জিওলোজিক্যাল এবং জিওফিজিক্যাল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা জিওটেকনিক্যাল অর্ডার অনুযায়ী তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের অনাবিষ্কৃত উচ্চচাপ জোনের নিচে ৪টি স্তরকে এবং বাখরাবাদ ফিল্ডের অনাবিষ্কৃত উচ্চচাপ জোনের নিচে ২টি স্তরকে লক্ষ্য করে খনন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। কূপ দুটিতে চাপ প্রায় ১৫ হাজার পিএসআই (পাউন্ড পার স্কয়ার ইঞ্চি) এবং তাপমাত্রা প্রায় ৩৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। যা বাংলাদেশে প্রথম উচ্চচাপ ও উচ্চ তাপমাত্রার কূপ হবে। নতুন স্তরে সফলভাবে খনন সম্পন্ন হলে দেশের গ্যাস খাতে নতুন দিগন- উন্মোচিত হবে এবং গ্যাসের মজুত বৃদ্ধি পাবে।

 

এদিকে এ বিষয়ে পেট্রো বাংলার চেয়ারম্যান এরফানুল হক জানান, গভীর কূপ খনন খুব ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ওসব কূপে যে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে তাতে গ্যাস নিশ্চিত হলে এখনকার যে জ্বালানি সংকট, তার অনেকটাই কেটে যাবে। সংকট কাটাতে ইতোমধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিলো। তার মধ্যে ২৫টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কাজ শেষ হয়েছে। সেসব কূপ থেকে সম্ভাব্য প্রতিদিন ২৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে এবং বর্তমানে প্রতিদিন ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। তাছাড়া ভোলায় আরো ৫টি নতুন কূপ খননের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমারের পেতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। কলাবাগানে কাজ করতে গিয়ে একের পর এক বিস্ফোরণে প্রাণ হারান তারা। ঘটনাটি ঘিরে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

 

রোববার (২৪ মে) দুপুরে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু নোম্যান্সল্যান্ড সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, ৪১ ও ৪২ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি এলাকায় কলাবাগানে কাজ করতে গিয়েছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। এ সময় হঠাৎ স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে।

 

নিহতরা হলেন, অক্যমং তংচঙ্গ্যা (৪০), চিক্যং তংচঙ্গ্যা (৩৪) এবং শৈফুচিং তংচঙ্গ্যা (৩২)। তারা সবাই ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বালুক্যা পাড়ার বাসিন্দা।

 

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম বিস্ফোরণে অক্যমং তংচঙ্গ্যা নিহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করতে গেলে আরও দুটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চিক্যং তংচঙ্গ্যা ও শৈফুচিং তংচঙ্গ্যা।

 

ঘটনার খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাবুল চাকমা বলেন, “সকালে তারা কলাবাগানে কাজ করতে গিয়েছিল। ফেরার সময় মাইন বিস্ফোরণে একজন মারা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। পুরো এলাকায় শোক নেমে এসেছে।”

 

বিজিবির রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, “ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, মিয়ানমার সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই স্থলমাইনের ঝুঁকি রয়েছে। তারপরও জীবিকার তাগিদে অনেকেই সেখানে কাজ করতে যান। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়।

মেহেরপুরে ২৯ কার্যদিবসে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামীর ফাঁসির আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মেহেরপুরে ৯ বছরের এক শিশু কে ধর্ষনের ঘটনায় মোঃ শাকিল হোসেন (২৪) নামের এক ধর্ষককে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে জেলা শিশু সহিংসতা আদালত। রবিবার (২ মে) দুপুর দুইটার দিকে মেহেরপুর জেলা শিশু সহিংসতা আদালতের বিচারক মোঃ তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষনা করেন। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ২৯ কার্ষদিবসের মধ্য স্ব-শরীর ও ভার্চুয়াল ভিডিও কলের মাধ্যমে তিন দিনে স্বাক্ষী গ্রহন করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হাসানের পুত্র।ফাঁসি রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মেহেরপুর নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালে পাবলিক প্রসিকিটর এ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

 

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ই জুন গাংনী উপজেলা চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে তার পিতাকে বাড়ির পাশের মাঠে খাবার দিতে যাওয়ার সময় ধর্ষক শাকিল হোসেন শিশুটিকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পাট খেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে মেয়েটির বাড়ি ফিরে তার পরিবারকে ধর্ষণের বিষয়টি জানালে মেয়েটির পিতা মোঃ ইসানুল হক গাংনী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের পর পুলিশ ধর্ষককে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করে। আদালত ২৯ কার্য দিবসের মধ্যে ধর্ষণ মামলায় ১১ জন সাক্ষীর ভার্চুয়ালি ভিডিও কলে ও সশরীরে সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষীগনের সাক্ষ্যতে প্রমাণিত হওয়ায় ধর্ষক শাকিব হোসেনকে আদালত মৃত্যুদণ্ডর আদেশ দেন। প্রায় সময় আদালতে আসামী পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসাবে অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ড রায়ে ধর্ষিত শিশুর পরিবার খুশি বলে সাংবাদিকদের জানান। অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেনের আইনজীবী মারুফ আহমেদ বিজন উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা বলেন।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে মহাসড়কে ৬ দিন বন্ধ থাকবে ট্রাক-লরি চলাচল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে মহাসড়কে ছয় দিন ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ডিএমপি। একই সঙ্গে কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে যানজট নিয়ন্ত্রণেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা।

 

রোববার (২৪ মে) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৫ থেকে ২৭ মে এবং ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মোট ছয় দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে।

 

 

 

তবে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে পশুবাহী যানবাহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, সার ও জ্বালানি বহনকারী যানবাহন। ডিএমপি বলছে, ঈদের সময় আনুমানিক এক কোটির বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়েন এবং প্রায় ৩০ লাখ মানুষ রাজধানীতে প্রবেশ করেন। এ কারণে সড়কে অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রুট পারমিট ছাড়া কোনো বাস চলাচল করতে পারবে না। আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে বাসগুলোকে সরাসরি গন্তব্যে যেতে হবে। পথে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো কিংবা অনুমোদিত কাউন্টার ছাড়া যাত্রী তোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

ঈদযাত্রার চাপ কমাতে ২৫, ২৬ ও ২৭ মে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া হয়ে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক একমুখী করা হবে। এই সময়ে ওই পথে শুধু ঢাকা থেকে বের হওয়া যানবাহন চলাচল করতে পারবে। ঢাকায় প্রবেশকারী যানবাহনকে বিকল্প পথ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

একইভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিআরটি প্রকল্পের এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুরমুখী লেনও নির্দিষ্ট সময়ে একমুখীভাবে পরিচালিত হবে। ঢাকামুখী যানবাহনকে অন্য লেন ব্যবহার করতে হবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

 

যানজট এড়াতে বনানী থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, যাত্রাবাড়ী থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, শ্যামলী থেকে গাবতলী পর্যন্ত মিরপুর রোড এবং ফুলবাড়িয়া থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়ক জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

ডিএমপি আরও জানিয়েছে, ঢাকা মহানগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সড়কে কোনো ধরনের যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। ফিটনেসবিহীন, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

কোরবানির পশুর হাট ঘিরেও থাকছে কড়াকড়ি। হাটের নির্ধারিত সীমানার বাইরে পশু কেনাবেচা, লোড-আনলোড কিংবা সড়কে গাড়ি পার্কিং করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ডিএমপি।

রামিসা হত্যা মামলা: সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিল পুলিশ। মিরপুর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় রোববার (২৪ মে) দুপুরে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে এই অভিযোগপত্র জমা দেন।

 

চার্জশিটে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, শনিবার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পরই অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হয়। অভিযোগপত্রটি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে প্রসিকিউশন বিভাগ জানিয়েছে।

 

গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবন থেকে বের হয় রামিসা। স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে সোহেলের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে খুঁজতে গিয়ে রামিসার মা আসামির রুমের সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান। বারবার ডেকেও সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের নিয়ে দরজা ভেঙে ঢুকে দেখেন মেঝেতে পড়ে আছে মাথাবিহীন মরদেহ, বালতির মধ্যে কাটা মাথা। স্বপ্না তখনো ঘরেই ছিলেন।

 

জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গত বুধবার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন সোহেল। সেখানে তিনি জানান, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন এবং বাথরুমে নিয়ে রামিসাকে ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি জ্ঞান হারালে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। সেই মুহূর্তে গলা কেটে হত্যা করেন তিনি। মরদেহ গুম করতে মাথা বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে যান জানালার গ্রিল কেটে।

 

এর আগে আসামি সোহেল রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার সময় মাদক গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে তদন্ত সূত্রে জানা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, স্বপ্না আক্তার ঘটনাটিতে সহায়তার ভূমিকা পালন করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয়রা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

 

মামলা পরিচালনায় শনিবার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্যরাও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এ মামলায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনি সেবা দেবেন না তাঁরা।

 

এদিকে অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবে বলে সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র জানিয়েছে।

সর্বশেষ খবর

শাহরুখের কিং সিনেমায় দেখা যাবে রণবীরকে!

0
অনলাইন ডেস্ক: বলিউডে এখন নতুন গুঞ্জন শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘কিং’ এ বিশেষ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে রণবীর সিংকে। যদিও...