নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর বাজারে আমদানি করা মাল্টা ও আপেলের দাম সাধারণ ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। গত ১৭ অক্টোবর মিরপুরের বিভিন্ন ফলের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি মাল্টা ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা এবং বিভিন্ন জাতের আপেল ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পুষ্টির প্রয়োজনে এসব ফল কেনা এখন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মিরপুর ১, ২ ও ১০ নম্বর এলাকার বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু মাল্টা বা আপেল নয়, কমলা, আঙুর ও বেদানার মতো ফলের দামও এখন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বাজারে প্রতি কেজি কমলা ৪৫০ টাকা, সবুজ আঙুর ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা এবং বেদানা ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনায় দেশি ফলের দাম কিছুটা কম হলেও আমদানি করা ফলের উচ্চমূল্য নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
ফলের আকার ও ওজনের হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতিটি মাল্টার দাম পড়ছে ৭০ থেকে ৮৪ টাকা এবং একটি আপেলের দাম পড়ছে ৪৪ থেকে ৫৬ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতাদের দাবি, ভারত থেকে আমদানি করা এসব ফলের উচ্চ শুল্ক এবং ক্যারেটে থাকা নষ্ট ফলের লোকসান পুষিয়ে নিতেই খুচরা বাজারে দাম বেশি রাখা হচ্ছে। বাদামতলী থেকে ফল সংগ্রহ করার সময় নষ্ট ফলের যে আর্থিক ক্ষতি হয়, তার দায়ভার শেষ পর্যন্ত ক্রেতাকেই বহন করতে হচ্ছে।
বাজারে আসা ক্রেতা মহসিন রেজা বলেন, জ্বর-ঠান্ডা বা অসুস্থতায় চিকিৎসকরা ভিটামিন সি জাতীয় ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু মাল্টা বা কমলার যে দাম, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে কেনা অসম্ভব। তিনি ফলের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর নজরদারি দাবি করেন। আরেক ক্রেতা আফজাল হোসেনের মতে, এখনই যদি ফলের দাম এমন থাকে, তবে সামনে রোজা বা উৎসবের সময় সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হবে তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ফলের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গত ৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, শুল্ক পরিশোধের পরও মাল্টা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, ফলের প্রকৃত শুল্কহার ১২১ শতাংশ থেকে কমিয়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া খেজুরের শুল্ক কমানোর বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি পাঠানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার সাধারণ মানুষের জন্য ফলের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে কাজ করছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।











