নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে আয়োজিত একটি তাফসির মাহফিলের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে আমির হামজা প্রশাসনের কাছে সরাসরি জানতে চেয়েছেন, ঠিক কোন আইনি ও যৌক্তিক কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো। তিনি বলেন, যদি নিরাপত্তার কোনো বাস্তব ঝুঁকি থেকেই থাকে, তবে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত। অস্পষ্ট অজুহাতে ধর্মীয় সমাবেশের অধিকার খর্ব করা হলে তার জবাবদিহি থাকা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনীতি ও ইসলামী শিক্ষার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, ‘রাজনীতি কি কোরআনের বাইরে? রাষ্ট্র, সমাজ, সুশাসন, দুর্নীতি, জুলুম ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা কি ইসলামী শিক্ষার বাইরে?’ তিনি আরও বলেন, কোরআন মানুষকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার শিক্ষা দেয়। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রের অসংগতি নিয়ে আলোচনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে মাহফিল বন্ধ করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
সাবেক সরকারের আমলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমির হামজা বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মানুষ আশা করেছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অধিকারের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি হবে। কিন্তু রাজশাহীর এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে যে, সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রশাসনিক মানসিকতায় আদৌ কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানান, তার বক্তব্য কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নয়। বরং ধর্মীয় আলোচনা ও ন্যায়বিচার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান থাকবে কি না, তা নিশ্চিত করতেই তিনি এই প্রশ্ন তুলেছেন। পরিশেষে, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে জনগণের সামনে এর যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।











