অনলাইন ডেস্ক:
কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানী সৈকতের ‘টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয়’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে দুই শিশু সন্তান ও স্ত্রীসহ নিখোঁজ রয়েছেন বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা নাহিদুর রহমান তুহিন। ঘটনার দুই দিন পার হলেও তাদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় গ্রামের বাড়ি যশোরের মনিরামপুরে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো অজ্ঞাত ব্যক্তিদের মধ্যে তারা রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিতে নিখোঁজ তুহিনের বড় ভাইয়ের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার শ্যামলীতে ‘গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড’ নামের একটি সংস্থায় কর্মরত তুহিন পরিবার নিয়ে রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন। গত ১১ অক্টোবর তিনি উখিয়ার টুপটুপ রিসোর্টে একটি কক্ষ বুকিং দেন এবং ১৬ অক্টোবর সাত ও তিন বছরের দুই কন্যাসন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে ওঠেন। পরিকল্পনা ছিল ১৮ অক্টোবর দুপুরে রিসোর্ট ছেড়ে ঢাকায় ফেরার। তবে ওই দিন সকালে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার পর থেকেই তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো আশঙ্কাজনকভাবে দগ্ধ হওয়ায় তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজ তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই ভাই, ভাতিজি ও ভাইয়ের স্ত্রীর ফোন বন্ধ পান তারা। পরে তিনি সিলেট থেকে সরাসরি কক্সবাজারে ছুটে যান। দগ্ধ মরদেহগুলোর মধ্যে শিশু ও নারী থাকায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই চূড়ান্ত পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আহতদের তালিকায়ও তাদের নাম পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
এদিকে যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর কারিকরপাড়ায় তুহিনের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। কিছুদিন আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়া বৃদ্ধ বাবা মতিয়ার রহমান বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের আগের দিন শুক্রবার রাতেও ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তিনি জানান, ছেলে তাকে নাতনিদের সমুদ্র সৈকতে খেলার কথা জানিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছিল এবং ঢাকায় ফিরে দ্রুত দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, নিখোঁজ তুহিনের ভাই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। ডিএনএ পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উখিয়া থানায় ২৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে রিসোর্টের মালিক মো. তানভীরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগুনে নিহত ১০ জনের মধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ছয়জনের নাম পাওয়া গেলেও কোন মরদেহটি কার, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজদের পরিচয় বের করতেই স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
একই পরিবারের চার সদস্যের এমন মর্মান্তিক নিখোঁজের খবরে মনিরামপুরের স্থানীয় বাসিন্দা ও তুহিনের সহকর্মীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গভীর শোক ও সমবেদনার আবহাওয়া তৈরি হয়েছে।











