অনলাইন ডেস্ক:
অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন এবং যত্রতত্র শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় দেশে প্রতি বছর উদ্বেগজনক হারে কমছে কৃষিজমি। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বাড়তি চাহিদার বিপরীতে চাষযোগ্য জমি দ্রুত সংকুচিত হতে থাকায় দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন কৃষি অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।
বিভিন্ন গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যে দেখা যায়, অবকাঠামো উন্নয়ন, ইটভাটা স্থাপন ও বসতবাড়ি নির্মাণের কারণে প্রতি বছর দেশে গড়ে বিপুল পরিমাণ তিন ফসলি ও দুই ফসলি জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষযোগ্য জমির সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। ফলে ভবিষ্যতে ১৭ কোটির বেশি মানুষের খাদ্যের ধারাবাহিক জোগান নিশ্চিত করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চফলনশীল জাত ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলেও ভূমির ক্ষতি দীর্ঘ মেয়াদে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এভাবে উর্বর জমি কমতে থাকলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং দেশকে খাদ্যশস্য আমদানির ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হতে হবে, যা সামষ্টিক অর্থনীতিতেও বড় চাপ তৈরি করবে।
এই সংকট মোকাবিলায় অনতিবিলম্বে জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ এবং কার্যকর জোনিং আইনের তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কৃষিজমি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা ছাড়া অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করা না গেলে খাদ্য স্বয়ম্ভরতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।











