অনলাইন ডেস্ক:
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঋণের বোঝা এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাঁধে, যার পরিমাণ ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। একদিকে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোর এই বিপুল ঋণ সংকট, অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন।
ইউরোপের দেশগুলোর এই অস্থিরতার পেছনে মূল কারণ তাদের ক্রমবর্ধমান ঋণ পরিশোধের ব্যয়। বছরের পর বছর ধরে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ায় ফ্রান্সের মতো দেশগুলো এখন ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে। সরকারগুলো বন্ড বিক্রির মাধ্যমে যে ঋণ নিচ্ছে, তার বিপরীতে উচ্চ হারে সুদ দিতে গিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পেনশনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের ১০ বছরের বন্ডের সুদহার এখন জার্মানির চেয়েও অনেক বেশি, যা দেশটির অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ।
বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর ঋণের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের পরিমাণ তাদের জিডিপির ১২৭ শতাংশ। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীনের ঋণের পরিমাণ ২২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এছাড়া জাপানের ঋণ জিডিপির ১৯৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের ১০২ শতাংশ এবং ফ্রান্সের ১১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ ফ্রান্সের সরকারি ঋণের বোঝা আরও বাড়বে, যা দেশটির আর্থিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
বাংলাদেশের ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশটি এখনো বড় ধরনের কোনো ঋণ সংকটের মুখে নেই। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সামগ্রিক ও বৈদেশিক ঋণ ঝুঁকির দিক থেকে মাঝারি অবস্থানে বা ৪৫তম স্থানে রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের সরকারি ও গ্যারান্টিযুক্ত ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ৪১ শতাংশ। তবে রাজস্ব আয়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধের চাপ এবং বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বৈশ্বিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। উন্নত দেশগুলো গত এক বছরে সরকারি বন্ডের সুদ বাবদ ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে, যা বিশ্বের প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতের সম্মিলিত বিনিয়োগের চেয়েও বেশি। এই বিপুল পরিমাণ সুদের দায়ভার শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করছে।








