অনলাইন ডেস্ক:
রেকর্ড হারে জন্মহার কমে যাওয়া এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে চীন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশটির স্টেট কাউন্সিলের এক বৈঠকে বিয়ে, সন্তান জন্মদান ও শিশুর লালনপালন সহজ করতে নতুন নীতিমালার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
চীনের মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি ‘জন্মহারবান্ধব সমাজ’ গড়ে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এর আওতায় কর সুবিধা, আবাসন সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মূলত সন্তান লালনপালনের ক্ষেত্রে পরিবারগুলোর ওপর যে আর্থিক ও সামাজিক চাপ রয়েছে, তা কমিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেইজিং।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টানা চতুর্থ বছরের মতো চীনের জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এর পাশাপাশি চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিয়ে নিবন্ধনের হার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে, যা নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক বিমাব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।
জনসংখ্যাকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বৈঠকে কর্মকর্তারা বলেন, জনসংখ্যার গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারগুলোকে সন্তান গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে। এর অংশ হিসেবে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তুকি প্রদান এবং প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার ব্যয় কমানোর মতো কর্মসূচিগুলো আরও জোরদার করা হবে।
এছাড়া দীর্ঘদিনের বিতর্কিত পারিবারিক নিবন্ধন বা ‘হুকৌ’ ব্যবস্থা সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। এই সংস্কার কার্যকর হলে গ্রাম থেকে শহরে আসা কর্মীরা তাদের সন্তানদের স্থানীয় স্কুলে ভর্তি করানোসহ সরকারি বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা সহজে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। মূলত দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই চীন সরকার এই বহুমুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।








