হুথিদের মোকাবিলায় সৌদি আরবের পাশে মিশরীয় সেনাবাহিনী

অনলাইন ডেস্ক:

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষায় পূর্ণ সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে মিশর। রবিবার মিশরের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষায় প্রয়োজনে মিশরীয় সামরিক বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এ বিষয়ে পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছেন। সৌদি আরবের অনুরোধ সাপেক্ষে মিশরীয় বাহিনীকে দেশটিতে পাঠানোর আইনি অনুমোদন নিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনপ্রণেতা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক সহায়তার এই প্রস্তাবটি নিয়ে পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হওয়ার কথা থাকলেও তা সোমবার পর্যন্ত গড়াতে পারে।

সম্প্রতি হুথি বিদ্রোহীরা রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’-র স্থাপনায় একের পর এক হামলা চালিয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মিশরের জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। সিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্ট স্পিকার এবং সেনাপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সৌদি আরবের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং তাদের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষায় মিশর সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বদ্ধপরিকর।” এর আগে শনিবার এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট সিসি জানান, সৌদি বাদশাহ সালমান এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে পরামর্শ করেই মিশর তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সিসির বৈঠকের পর থেকেই এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরালো হয়েছে।

উল্লেখ্য, মিশর ও সৌদি আরব দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক মিত্র। ২০১৩ সালে মিশরে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো মিশরকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তা ও বিনিয়োগ দিয়ে আসছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে।