কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের ইনানী পাটোয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। তিনতলা ওই কাঠের ভবনটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ এবং ওপরের তলাগুলোতে পর্যটকদের আবাসন ব্যবস্থা ছিল ।কিন্তু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুমোদনহীন এই প্রতিষ্ঠানটি চালুর বিষয়ে আগেই সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও কর্ণপাত করা হয়নি ।ফলে এই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার অন্তত তিন মাস আগেই ওই রিসোর্টটিকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং এর লাইসেন্স নবায়ন না করার পাশাপাশি সতর্ক করে নোটিশও পাঠানো হয়েছিল ।তা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও তদারকির অভাবে অবৈধভাবে রিসোর্টটির কার্যক্রম চালু রাখা হয় ,এমনকি প্রতিষ্ঠানটির অগ্নি নিরাপত্তার কোনো বৈধ সনদ বা ছাড়পত্রও ছিল না। শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন থেকে কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পরে ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, সুনির্দিষ্ট তদন্ত ছাড়া কেবল অনুমানের ভিত্তিতে আগুনের সঠিক সূত্রপাত বলা সম্ভব নয় পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই অগ্নিকাণ্ডের আসল কারণ উদঘাটিত হবে ।তবে শুষ্ক মৌসুমের প্রাক্কালে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় কাঠ ও দাহ্য পদার্থ দিয়ে নির্মিত অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের মারাত্মক প্রাণহানি রোধ করতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় ব্যবসায়িক অ্যাসোসিয়েশনের সাথে যৌথভাবে কঠোর তদারকি ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।











