রংপুর প্রতিনিধি:
২০ বছরের পুরোনো বাস ও মিনিবাসের ফিটনেস সনদ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে ।অন্যথায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে রংপুর বিভাগে সর্বাত্মক আন্দোলনের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে ।রংপুর বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মোটর মালিক সমিতি এই আলটিমেটাম ঘোষণা করে ।আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান না এলে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে ।শনিবার বিকেলে রংপুর নগরীর জেলা মোটর মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় ।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রংপুর বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মোটর মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো রেজাউল করিম বসুনিয়া ।বিআরটিএর নীতিমালা অনুযায়ী বাস ও মিনিবাসের অর্থনৈতিক বয়স ২০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই নিয়মের কারণে সারা দেশে নিবন্ধিত প্রায় ৫৬ হাজারের বেশি বড় বাস ও ২৮ হাজারের বেশি মিনিবাস চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে ।তবে গত বছর সারা দেশে নতুন নিবন্ধিত বাসের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত নগণ্য। এই ধীরগতিতে গাড়ি প্রতিস্থাপন করতে গেলে দেশের গণপরিবহন খাতে মারাত্মক শূন্যতা তৈরি হবে। পরিবহন নেতারা স্পষ্টভাবে দাবি করেন যে ফিটনেস সনদের মূল মাপকাঠি হওয়া উচিত বাসের বর্তমান শারীরিক অবস্থা গাড়ির বয়সের চেয়ে এর যান্ত্রিক কন্ডিশন ভালো থাকলেই তা চলাচলের সুযোগ দেওয়া উচিত। এছাড়া সড়ক পরিবহন আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী চেসিস ছাড়া অন্যান্য যন্ত্রাংশ ফি দিয়ে পরিবর্তনের আইনি সুযোগ রয়েছে।
বিআরটিএর বর্তমান সিদ্ধান্ত এই আইনের সরাসরি ব্যত্যয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় ।বিপুলসংখ্যক গাড়ি একযোগে বাতিল বা স্ক্র্যাপ করলে পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ।একই সঙ্গে হাজার হাজার নতুন বাস আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। রংপুর বিভাগ একটি কৃষিনির্ভর এলাকা হওয়ায় এখানকার পরিবহন মালিকদের পক্ষে নতুন গাড়ি কেনা অসম্ভব। একটি স্বার্থান্বেষী মহল সরকারকে বিভ্রান্ত করে এই অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।











