ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত গাজার হাজার হাজার তাঁবু, চরম দুর্ভোগে বাস্তুচ্যুতরা

প্রকাশিত: 8 November 2026, 6:17 pm
ফন্ট:

অনলাইন ডেস্ক:

ভারী বর্ষণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাজুড়ে আশ্রয়হীন মানুষের শেষ সম্বল হাজার হাজার তাঁবু পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রবল স্রোতে বহু তাঁবু ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি নষ্ট হয়ে গেছে তীব্র শীতে বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা কম্বল ও বিছানার তোশক। এতে করে অবরুদ্ধ এই উপত্যকার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জীবনে নতুন করে নেমে এসেছে চরম মানবিক বিপর্যয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা সামনে আসে।

হামাস পরিচালিত গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, গত ১২ ঘণ্টায় উপত্যকায় অন্তত ৭০ হাজার তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক এই দুর্যোগে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, আকস্মিক এই দুর্যোগের পর অসহায় বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের কাছ থেকে তারা জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার ৫০০টি সাহায্যের আবেদন গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার জেরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা তিনটি পুরোনো বাড়ি ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে সৌভাগ্যবশত এসব ভবন ধসের ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

দুর্যোগের এই পরিস্থিতিতে গাজা সিটির বিভিন্ন তাঁবুশিবিরে চরম ব্যস্ততা ও উদ্বেগের চিত্র দেখা গেছে। কোথাও তীব্র শীতে ভিজে যাওয়া তাঁবু নিজ উদ্যোগে মেরামত করার চেষ্টা চলছে, আবার কোথাও বালু দিয়ে তাঁবুর চারপাশ উঁচু করে ভেতরে পানি প্রবেশ থামানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে মানুষ। অন্যদিকে, বন্যার পানিতে নিমজ্জিত তাঁবুগুলোর ভেতর থেকে আতঙ্কিত শিশুদের নিরাপদে বাইরে বের করে আনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অভিভাবকরা।

গাজার বাসিন্দা ওলফাত মাগদুব নিজের মাথার ওপরের আশ্রয়স্থল থেকে পানি নিষ্কাশনের আপ্রাণ চেষ্টা করেও সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। নিজের চরম অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বৃষ্টির প্রথম দিনেই আমরা পানিতে ডুবে গেছি। পরদিন আবার বৃষ্টি হলে কী হবে? এটি মাত্র প্রথম দিন, এরই মধ্যে আমরা সামাল দিতে পারছি না।

নিজের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, দুই সপ্তাহ আগে যখন বৃষ্টি হয়েছিল, তখন বৃষ্টির পানি বিছানাপত্র ভিজিয়ে দেওয়ায় টানা চার দিন মেঝেতে বিছানো কম্বলের ওপর ঘুমিয়েছি। এবারও একই অবস্থা। তোশক ভিজে গেছে, তাই মেঝেতেই ঘুমাচ্ছি।

মন্তব্য করুন