Wednesday, September 30, 2026
27 C
Dhaka
Wednesday, September 30, 2026

নওগাঁয় সরিষা ও মধু চাষে সাফল্যের ঢেউ

জেলা প্রতিনিধি :

নওগাঁর বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে সরিষা খেতে ফুল আসার সঙ্গে সঙ্গে মৌচাষিদের মৌ বাক্স স্থাপন শুরু হয়েছে। সরিষার ফুলে মৌমাছির পরাগায়নের মাধ্যমে একদিকে উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে মধু সংগ্রহ করে বাড়তি আয় করছেন চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬০ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৩০০টি মৌ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এতে ২৭০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

নওগাঁ সদর, মান্দা, রাণীনগর, আত্রাইসহ ১১টি উপজেলায় সরিষা চাষের পাশাপাশি মৌচাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষত মান্দা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মৌ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলন স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০-৩৫ শতাংশ বেশি হচ্ছে।

মান্দা উপজেলার সাটইল গ্রামের মৌচাষি আবু বক্কর সুজন জানান, তিনি ৩০০টি বাক্স থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৯ হাজার কেজি মধু সংগ্রহ করেছেন। সরিষার ফুল ফুরিয়ে গেলে অন্য মাঠে চলে যাবেন তিনি। আরেক মৌচাষি হুমায়ুন কবির জানান, গত বছর ১০০টি বাক্স থেকে ১৩ লাখ টাকার মধু বিক্রি করেছেন। এবার তিনি ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছেন।

কৃষকদের মতে, ভোজ্যতেলের উচ্চমূল্য ও সরিষার ভালো বাজারদরের কারণে তারা সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করায় সরিষার আবাদে উৎসাহ বেড়েছে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “নওগাঁতে সমন্বিতভাবে সরিষা ও মৌচাষের মাধ্যমে কৃষক ও মৌচাষিরা লাভবান হচ্ছেন। মধু সংগ্রহ ও সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি, উভয় দিক থেকেই এ পদ্ধতি সফলতা পেয়েছে। সরিষা খেতের পাশে মৌ বাক্স স্থাপন ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।”

সরিষা ও মধু চাষের এই সমন্বিত পদ্ধতি নওগাঁর কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ আশা করছে, আগামী মৌসুমগুলোতে এই পদ্ধতি আরও বিস্তৃত হবে।

লন্ডনগামী ফ্লাইট থেকে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নিপুণকে অফলোড

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনগামী ফ্লাইটে উঠার সময় বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী ও শিল্পী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসরিন আক্তার নিপুণকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০১ ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সময় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) আপত্তিতে তাকে ইমিগ্রেশন থেকে ফেরানো হয়।

ইমিগ্রেশন পুলিশ জানিয়েছে, এনএসআই নিপুণের যাত্রার ওপর আপত্তি জানালে তার পাসপোর্ট ও নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এরপর ফ্লাইট বাতিল করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “সকাল ৯টা ২০ মিনিটে লন্ডনগামী ফ্লাইটে ওঠার আগে নিপুণকে ইমিগ্রেশন থেকে অফলোড করা হয়। তবে তিনি আটক বা গ্রেপ্তার নন। এনএসআইয়ের নির্দেশে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

এনএসআই আপত্তির কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পঞ্চগড়ে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

জেলা প্রতিনিধি :

পঞ্চগড়ে তীব্র শীতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) জেলার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

হিমালয়ের হিমেল বাতাসের কারণে তাপমাত্রা এক অঙ্কে নেমে এসেছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি ঘনকুয়াশা বিরাজ করায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। গত তিন দিন ধরে দিনভর কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল পঞ্চগড়।

শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষ, দিনমজুর, কৃষি ও পাথর শ্রমিকরা। কাজকর্ম বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগার কমে গেছে। গরম কাপড়ের অভাবে এসব মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

শহরের অটোচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “সকালে ঘনকুয়াশা আর হিমেল বাতাসে গাড়ি চালানো যায় না। যাত্রীও কম পাওয়া যায়। আয় কমে যাওয়ায় পরিবার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”

দিনমজুর লুৎফর মিয়া জানান, “শীতের সময় কাজ পাওয়া যায় না। কাজ না করলে আয় হয় না, আর আয় না হলে খেয়ে না খেয়ে থাকতে হয়।”

চা শ্রমিক আলেয়া খাতুনের কথায় উঠে এসেছে তাদের কষ্টের চিত্র। তিনি বলেন, “সকাল বেলায় চা গাছের পাতা তুলতে গেলে ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে যায়। কাজ করতেও খুব কষ্ট হয়।”

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, হিমালয়ের হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় তাপমাত্রা দ্রুত কমছে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘনকুয়াশা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, শীতবস্ত্রের অভাবে ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তাদের সহায়তায় দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পঞ্চগড়ে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

জাজিরা থানার ওসি আল-আমিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি :

শরীয়তপুরের জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-আমিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে তার নিজ বাসভবনের জানালার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সহকর্মীরা তার মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

ওসি আল-আমিনের বাড়ি বরিশালের মুলাদি থানার কাচির চর এলাকায়। তিনি দুই মেয়ে ও স্ত্রীসহ একটি ছোট পরিবার রেখে গেছেন। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাজিরা থানায় যোগদান করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আল-আমিন কিছুদিন ধরে মানসিক চাপ এবং ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। দুপুরে তার সহকর্মীরা বাসভবনে এসে জানালার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। দ্রুত খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ইউএনও এবং সিআইডির টিম।

পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যা হতে পারে। তবে সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ শরীফুজ্জামান বলেন, “ওসি আল-আমিন দীর্ঘদিন ধরে ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। দুপুরে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। সিআইডির টিম তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার আসল কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।”

কক্সবাজারের ঝাউবাগানে সাবেক কাউন্সিলরকে গুলি করে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি :

কক্সবাজারের ঝাউবাগানে খুলনার দৌলতপুর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রব্বানি টিপুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে কাঠের সেতুর পাশে হাঁটার সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, গোলাম রব্বানি সিগাল হোটেলের সামনে ঝাউবাগানের ভেতর হাঁটছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তার মাথায় গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইজিবাইক চালক আবদুস সালাম জানান, গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন এক ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় বালুতে পড়ে আছেন। দ্রুত তাকে নিজের টমটমে করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াছ খান বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, হত্যার কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সৈকতের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

চালু হচ্ছে চট্টগ্রাম-ঢাকা তেলের পাইপলাইন, বছরে সাশ্রয় ২৩৬ কোটি টাকা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম থেনিজস্ব প্রতিবেদক:কে ঢাকায় ডিজেল পরিবহন পাইপলাইনের মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষামূলক এবং মার্চে বাণিজ্যিকভাবে এটি চালু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান। পাইপলাইন চালু হলে বছরে প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে, যা পরিবহন খরচ, অপচয় এবং চুরি কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য ২৩৭ কিলোমিটার। এতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সরাসরি ডিজেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে এই তেল পরিবহন নদীপথ ও সড়কপথে করা হয়, যেখানে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়। এছাড়া পরিবহন প্রক্রিয়ায় তেল চুরি ও অপচয়ও হয়ে থাকে। নতুন পাইপলাইন চালু হলে এ সমস্যাগুলোর সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের ব্যয় ৩ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। পাইপলাইন চালু হলে সড়ক ও নদীপথে জ্বালানি পরিবহনের উপর নির্ভরতা কমে যাবে। পরিবহন খরচের পরিবর্তে বছরে প্রায় ৯০ কোটি টাকা পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ব্যয় হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন পাইপলাইন শুধু পরিবহন খরচ সাশ্রয়ই করবে না, পরিবেশ দূষণও কমাবে। তাছাড়া শুষ্ক মৌসুমে নদীপথে নাব্যতা সংকটের কারণে তেল সরবরাহে যে বিঘ্ন ঘটে, সেটিও আর থাকবে না।

এদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। এই পাইপলাইন দেশের ১৬ জেলায় দ্রুত ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করছে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার ৫৯ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ ডিজেল ঢাকায় ব্যবহৃত হয়। পাইপলাইন চালুর মাধ্যমে ঢাকার ডিজেল সরবরাহে সময় এবং খরচ দুই-ই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরের কুখ্যাত মাদক সম্রাট ‘চোরা সেলিম’ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের কুখ্যাত মাদক সম্রাট মোহাম্মদ সেলিম আশরাফি, যিনি ‘চোরা সেলিম’ নামে পরিচিত, গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সকালে র‌্যাব-২ এর একটি বিশেষ দল দীর্ঘ গোয়েন্দা নজরদারির পর তাকে গ্রেপ্তার করে।

৪৪ বছর বয়সী সেলিম জেনেভা ক্যাম্পে বছরের পর বছর ধরে একটি মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার অপরাধ কর্মকাণ্ডে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি হত্যা, চাঁদাবাজি, চুরি এবং সহিংস সংঘর্ষের মতো গুরুতর অপরাধ অন্তর্ভুক্ত। তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় মাদক এবং হত্যাসহ ৩৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

র‌্যাব-২ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার খান আসিফ তপু জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এটি জেনেভা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় মাদক এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ নির্মূলের চলমান প্রচেষ্টার অংশ।

র‌্যাব জানিয়েছে, সেলিমের গ্রেপ্তার জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই অভিযান জেনেভা ক্যাম্পের অপরাধ জগতে টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে নতুন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ সদস্য ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে নতুন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এর আগে, ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং কসোভোতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, তিনি ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, অ্যাড ইন্টেরিম হিসেবে কাজ করেছেন।

বিদেশে উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি, তিনি প্রথমে স্কুল অব প্রফেশনাল অ্যান্ড এরিয়া স্টাডিজের ডিন এবং পরবর্তীতে ন্যাশনাল ফরেন অ্যাফেয়ার্স ট্রেনিং সেন্টারের উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের উপ-নির্বাহী সেক্রেটারি এবং প্রশাসনিক জ্যেষ্ঠ পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। লাটভিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন।

ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে সেক্রেটারির ডিস্টিংগুইশড সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড, দুইটি প্রেসিডেন্সিয়াল র‌্যাংক অ্যাওয়ার্ড এবং ‘ইব্রাহিম রুগোভা’ শিরোনামের অর্ডার ফর পিস, ডেমোক্রেসি অ্যান্ড হিউম্যানিজম।

দেশকে বাঁচাতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঐক্য : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশকে রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য ঐক্য অপরিহার্য, তবে কিছু মহল জাতিকে বিভক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তিনি সবাইকে বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে ‘রাজবন্দীর জবানবন্দি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “দেশকে বাঁচাতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঐক্য।”

বইটিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘মিথ্যা’ মামলায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দী সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। ফখরুল বলেন, “সংস্কারের প্রয়োজন অবশ্যই রয়েছে, তবে এসব সংস্কারের পেছনে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার থাকতে হবে। এটি ছাড়া আমরা কখনোই সংস্কারকে বৈধতা দিতে পারব না। আমি এখন এ নিয়ে বিতর্কে জড়াতে চাই না।”

তিনি বলেন, “আমি দেশের সকল গণতন্ত্রকামী ও স্বাধীনতাকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। বিভক্ত হবেন না। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, কিছু মানুষ দেশ ও দেশের মানুষকে বিভক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।”

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “জাতিকে বিভক্ত করার উদ্দেশে কিছু লোক উসকানিমূলক বক্তব্যও দিচ্ছেন।”

এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং দেশে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানান ফখরুল।

পুঁজিবাজার থেকে ৮ বছরে মুখ ফিরিয়েছে ১২ লাখ বিনিয়োগকারী

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গত আট বছরে দেশের পুঁজিবাজার থেকে ১২ লাখের বেশি বিনিয়োগকারী মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ২০১৬ সাল থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে চলতি বছরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ২৯ লাখ ২৯ হাজার ১৮৯টি, যা ২০২৪ সালে এসে কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫২-এ। অর্থাৎ, আট বছরে ১২ লাখ ৬৪ হাজার ২৩৭ জন বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজার থেকে চলে গেছেন। ২০২৩ সালে বিও অ্যাকাউন্টধারী ছিলেন ১৭ লাখ ৫৬ হাজার ১০৪ জন, যা এক বছরে কমে ৯০ হাজার।

বিনিয়োগকারীরা জানাচ্ছেন, পুঁজিবাজারের অস্থিতিশীলতা ও মার্জিন ঋণের চাপের কারণে তারা বিনিয়োগে আস্থা হারিয়েছেন। অনেকে ফোর্স সেলের শিকার হয়ে তাদের সম্পদ হারিয়েছেন। সাধারণ বিনিয়োগকারী তারেক মাহমুদ বলেন, “পুঁজিবাজারে প্রতিনিয়ত লোকসান হচ্ছে, ফলে আর কেউ এখানে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছেন না।”

এছাড়া, বিনিয়োগকারী আলতাফ হোসেন বলেন, “মার্জিন ঋণের কারণে অনেকেই শেয়ার কিনেছেন, কিন্তু দাম কমে যাওয়ার ফলে তাদের ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। একদিকে শেয়ারের দাম কমায় ঋণের টাকা পূর্ণ হচ্ছে না, অন্যদিকে ফোর্স সেল হওয়ার কারণে ভালো শেয়ারও বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।”

ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে এখন আর সেই পুরনো কর্মচাঞ্চল্য নেই। গ্লোবাল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের শাখা ব্যবস্থাপক আসাদ লিটন বলেন, “নতুন বিনিয়োগকারী কেউ আসছেন না, বরং বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী এখন টাকা তুলে নিচ্ছেন। যারা একবার পুঁজিবাজার ছাড়ছেন, তাদের আর ফিরে আসার সম্ভাবনা খুব কম।”

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) যদি যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়, তবে বাজারে স্থায়ী ধস হতে পারে, এমন শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএসইসির টাস্কফোর্সের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “বিনিয়োগকারীরা বাজারে লেনদেনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। অনেক বিও অ্যাকাউন্ট দীর্ঘদিন অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং অনেকেই তাদের টাকা তুলে বাজার থেকে চলে গেছেন।”

বিএসইসি গত আগস্টে শেয়ার কারসাজির কারণে ১২টি কোম্পানির বিরুদ্ধে ৭২০ কোটি টাকার জরিমানা আরোপ করেছে। হেলাল বলেন, “বর্তমানে জরিমানা করা হচ্ছে, তবে এর বেশিরভাগই আগের কমিশনের সময়কার। কারসাজির অপরাধীদের সঠিক বিচার না হলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে না।”

ডিএসইর লেনদেন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কমার পাশাপাশি গত এক বছরে ডিএসইর প্রধান সূচক ১ হাজার পয়েন্টের বেশি কমেছে। ঢাকার বাজার মূলধন হারিয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা।

সর্বশেষ খবর

৭ বছর পর ফিরেও বক্স অফিস কাঁপাচ্ছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’

0
অনলাইন ডেস্ক: মুক্তির সাত বছর পর বাড়তি দৃশ্য নিয়ে আবারও প্রেক্ষাগৃহে ফিরেছে মার্ভেল ও ডিজনির জনপ্রিয় সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’। নতুন সিনেমার ভিড়েও বক্স অফিসে দাপট...