Tuesday, October 6, 2026
31 C
Dhaka
Tuesday, October 6, 2026

কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৩ শান্তিরক্ষী নিহত

অনলাইন ডেস্ক:

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) এর গোমা শহরে বিদ্রোহী এম ২৩ গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ১৩ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জন দক্ষিণ আফ্রিকার, তিনজন মালাউইয়ের এবং একজন উরুগুয়ের নাগরিক ছিলেন। গত রবিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর প্রকাশ করেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা গোমা শহরে বিদ্রোহীদের আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে এই হতাহত হয়েছে। এই সংঘর্ষের পর জাতিসংঘ গোমা থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে। এম ২৩ গোষ্ঠী শহরটি দখলের জন্য কঙ্গোলিজ সেনাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতা বন্ধ করার জন্য বিশ্বব্যাপী আহ্বান জানিয়ে ডিআর কঙ্গো এবং রুয়ান্ডা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এম ২৩ গ্রুপ গোমায় কঙ্গোলিজ সৈন্যদের আত্মসমর্পণ করতে বলছে, যাতে রক্তপাত এড়ানো যায়।

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো রুয়ান্ডাকে অভিযুক্ত করেছে যে, এম ২৩ বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে। কঙ্গোর এই অভিযোগের পরও রুয়ান্ডার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার করেনি।

এম ২৩ গোষ্ঠী ২০২১ সাল থেকে ডিআর কঙ্গোর খনিজসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই ঘটনার পর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান কাজা ক্যালাস এম ২৩ গোষ্ঠীকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং রুয়ান্ডার সমর্থনের নিন্দা করেছেন।

 

 

গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার দাবি ট্রাম্পের, তবে বিপক্ষে স্থানীয় জনগণ ও ডেনমার্ক

অনলাইন ডেস্ক:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, তিনি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ পাবেন। সম্প্রতি এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “আমি মনে করি, এটি আমাদের হবে। গ্রিনল্যান্ডের ৫৭ হাজার জনগণ আমাদের সাথে থাকতে চায়।” ২০১৯ সালে তিনি দ্বীপটি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং বর্তমানে তিনি মনে করছেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।

গ্রিনল্যান্ড একটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ, যা উত্তর আমেরিকা থেকে ইউরোপ যাওয়ার সবচেয়ে কম পথের ওপর অবস্থিত। এর প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে বিরল খনিজ, ইউরেনিয়াম এবং লোহা আহরণের কারণে দ্বীপটির প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গ্রিনল্যান্ড এখনো ডেনমার্কের রাজত্বের অংশ, যদিও এটি বিস্তৃত স্বায়ত্তশাসন উপভোগ করে।

এই দাবি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন সম্প্রতি ফোনে কথা বলেছেন। ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মুট এগেডে বলেন, “দ্বীপটির ভূমির ব্যবহার কেবল গ্রিনল্যান্ডের বিষয়।” তবে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা এবং খনিসম্পদ খাতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে ইচ্ছুক।

এদিকে, ট্রাম্পের দাবির প্রতি গ্রিনল্যান্ডের জনগণও একমত নয়। কাপিসিলিট এলাকার এক মৎস্যজীবী বিবিসিকে বলেন, “যদি ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড পরিদর্শন করতে চান, তবে স্বাগত, তবে গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডারদেরই।” স্থানীয় গির্জার এক প্রবীণ নেতা কালেয়েরাক রিংস্টেডও জানান, “ট্রাম্পের ভাষা গ্রহণযোগ্য নয় এবং গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।”

এই বিতর্কের মধ্যে, গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতা অর্জন এবং তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ঐকমত্য রয়েছে। তবে, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের শীর্ষ নেতাদের মতে, দ্বীপটির ভবিষ্যত শুধুমাত্র স্থানীয় জনগণই নির্ধারণ করবে।

 

 

ইউএসএআইডির সব প্রকল্প ও সহায়তা বন্ধের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) বাংলাদেশে তাদের সব প্রকল্প এবং কর্মসূচির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। ২৬ জানুয়ারি, রোববার ইউএসএআইডির বাংলাদেশ কার্যালয় থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে এই নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সব অংশীদার সংস্থাকে পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, চলমান সব চুক্তি, কার্যাদেশ, অনুদান, সমন্বিত চুক্তি বা অন্যান্য সহায়তার অধীনে করা কোনো কাজ এখন থেকে স্থগিত বা বন্ধ রাখতে হবে। অংশীদার সংস্থাগুলোকে তাদের ব্যয় সঞ্চয় করার জন্য সব যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউএসএআইডির অধীনে বাস্তবায়িত সকল প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে।

এদিকে, ইউএসএআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর নেওয়া হয়েছে, যা বিদেশি সহায়তার পুনর্মূল্যায়ন এবং পুনঃসামঞ্জস্যকরণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে, জরুরি খাদ্য সহায়তা এবং ইসরায়েল ও মিসরের জন্য সামরিক অর্থায়ন এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে না।

গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে ইউএসএআইডি ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা প্রদান করেছে, যার মধ্যে জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি, পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহায়তা অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৪ সালে বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সহায়তা বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, ২৪ জানুয়ারি মার্কিন প্রশাসন বিদেশি সহায়তার তহবিল স্থগিত করার ঘোষণা দেয় এবং চলতি সহায়তাগুলোর পর্যালোচনার পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত নতুন কোনো অর্থ ছাড় করা হবে না।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে রয়েছে। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহকদের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে এবং এই প্রস্তাব শিগগিরই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কাছে পাঠানো হবে। এছাড়া, গ্যাস সঞ্চালন খাতে হুইলিং চার্জ বাড়ানোরও প্রস্তাব রয়েছে।

বর্তমানে দেশে ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় কোম্পানি তিতাস গ্যাস। এই কোম্পানির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক গ্যাস ব্যবহার করেন। সূত্র অনুযায়ী, মিটারবিহীন গ্রাহকরা বর্তমানে প্রায় ১০০ ঘনমিটার গ্যাস পর্যন্ত ব্যবহার করছেন, যা সাধারণত ৫৫ বা ৬০ ঘনমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকেরা অনেকটা মিতব্যয়ী হয়ে থাকে, তবে মিটারবিহীন গ্রাহকরা অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার করছেন।

এছাড়া, পেট্রোবাংলা গত জানুয়ারি মাসে শিল্পখাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু আইনগত বাধার কারণে পেট্রোবাংলার দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরাসরি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, ফলে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো সেই প্রস্তাবনা নিয়ে এগোচ্ছে।

তিতাস গ্যাসসহ অন্যান্য বিতরণ কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই দাম বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব জমা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিতাস গ্যাসের দাবি, গ্যাসের ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ফলে কোম্পানি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং এর জন্য দাম বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।

গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে হুইলিং চার্জও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে, কারণ বর্তমানে তাদের লোকসান হচ্ছে। তবে, এই দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে ব্যবসায়ী নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং তারা দ্রুত এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। ব্যবসায়ী নেতাদের আশঙ্কা, দাম বাড়ানোর কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং শিল্পায়ন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি প্রক্রিয়া নিয়ে বিইআরসি একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে, যাদের রিপোর্টের পর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর: প্রেস উইং

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস উইং ভারতের সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ এনেছে। সরকার দাবি করেছে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকা গত শুক্রবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে কয়েকটি মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা এবং গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে।

প্রেস উইং জানিয়েছে, এসব প্রতিবেদন পরিকল্পিত প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে এবং এসব প্রতিবেদন গঠনে সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিগুলি উপেক্ষা করা হয়েছে। বিশেষ করে, “গোপনে বাংলা আওয়ামী শীর্ষ নেতারা হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তারা ‘আইনের শাসন’ ফিরে আসার অপেক্ষায়” শীর্ষক প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রেস উইং দাবি করেছে, এটি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।

তারা আরও বলেছে যে, বাংলাদেশের আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে, যেমন সাবেক আওয়ামী লীগ মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী এবং এম এ মান্নানসহ কয়েকজন নেতাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে দেশে ফিরে আসার ঘোষণার পরও সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ দায়ের করেছে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে আইনের শাসন ছিল না, যার ফলে হাজার হাজার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছিল। শ্বেতপত্রে এই ভয়াবহ দুর্নীতির দলিল উল্লেখ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গণআন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকারের নৃশংস হামলায় এক হাজারেরও বেশি তরুণ প্রতিবাদকারী নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই আন্দোলন সরকার পতনের দিকে নিয়ে যায়, এবং এতে যুক্ত সাবেক এমপিদের মধ্যে কয়েকজন শামিল ছিলেন।

এছাড়াও, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকা কোনো বাংলাদেশের সরকারি মন্তব্য ছাড়াই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব প্রতিবেদন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রচারণার একটি অংশ।

সাবেক র‍্যাব ডিজি হারুন উর রশিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জুলাই-আগস্টে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে গণহত্যার অভিযোগে সাবেক র‍্যাব ডিজি হারুন উর রশিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রবিবার (২৬ জানুয়ারি) প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে এই আদেশ দেন।

হারুন উর রশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি র‍্যাবের ডিজি হিসেবে ২০২২ সালে আন্দোলনকারীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন এবং নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড ঘটান। প্রসিকিউশন জানায়, তাদের তদন্তে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার ভিত্তিতে সাবেক র‍্যাব ডিজির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এছাড়া, আশুলিয়ায় ৬ জনের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার এসআই মালেক ও কনস্টেবল মুকুলের বিষয়ে তদন্ত সংস্থাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তারা উভয়ে ঘটনাটির সাথে জড়িত ছিলেন। আদালত তাদের একদিন করে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন। এসআই মালেককে ৩০ জানুয়ারি এবং কনস্টেবল মুকুলকে ২৮ জানুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, “হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর প্রমাণ আমাদের তদন্ত সংস্থা পেয়েছে। হারুন উর রশিদ তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের দিয়ে এইসব ঘটনা বাস্তবায়ন করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “হারুন উর রশিদের বিরুদ্ধে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।”

তিনি জানান, বর্তমানে তদন্ত চলছে এবং হারুন উর রশিদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত ৯৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই পুলিশ বাহিনীর সদস্য এবং কিছু বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছে।

পরবর্তী শুনানি আগামী ২৩ মার্চ নির্ধারিত হয়েছে।

সাবেক এমপি আবু রেজা নদভীর ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

রবিবার (২৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে, নদভীকে ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনের আরেক মামলায় পুলিশ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার দেখায় আদালত।

এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সাবেক এমপি আবু রেজা নদভীকে আদালতে হাজির করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রসিকিউশন শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) এ. এ. এম হুমায়ুন কবীর জানান, চান্দগাঁও থানার দুটি হত্যা মামলায় নদভীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটিতে ৭ দিন এবং আরেকটিতে ৫ দিন রিমান্ড আবেদন করা হয়। এছাড়া, ডবলমুরিং থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক মামলায় দুদিন করে মোট ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

পুলিশ গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে আবু রেজা নদভীকে গ্রেপ্তার করে। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর তাকে চট্টগ্রাম জেলা ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তাদের সতর্ক করলেন এনবিআর চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন দুর্নীতি ও কাজে অবহেলার বিরুদ্ধে। তিনি বলেছেন, অতীতের মতো কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা বা অবহেলা চলতে থাকলে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রবিবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে এনবিআর মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা খুব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি যে, আমাদের কর্মকর্তারা যদি তাদের আগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন, তবে তাদের গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “অতীতের মতো কোনো ধরনের গড়িমসি বা আপোষের মনোভাব আমরা বরদাশত করব না। এমন কিছু দেখলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিব।”

এনবিআর চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো ধরনের অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণ দেখলে তা নিয়ে এনবিআরের কাছে অভিযোগ জানাতে। তিনি বলেন, “অভিযোগ পেলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারি, তবে কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসে না।”

এছাড়া, ব্যবসা সম্প্রসারণের নামে কর অব্যাহতির প্রবণতা থেকে ব্যবসায়ীদের বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি প্রবণতা রয়েছে যে, ট্যাক্স-ভ্যাট অব্যাহতি ছাড়া ব্যবসা বাড়বে না। তাদের এই মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”

ঋণ খেলাপির সময়সীমা ৩ মাস থেকে ৯ মাসে বাড়ানো হোক: এফবিসিসিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের কাছে ঋণ খেলাপির সময়সীমা ৩ মাস থেকে বাড়িয়ে ৯ মাস করার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। রবিবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিলস্থ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি তুলে ধরে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল।

এ সময় তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার স্থিতিশীল রাখা, ডলারের যোগান স্বাভাবিক রাখা এবং অনিচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের নীতিসহায়তা প্রদান, যাতে অর্থনীতির পুনর্বাসন সম্ভব হয়। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প-কারখানাকে নীতিসহায়তা, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত ক্ষতি মোকাবেলায় উদ্যোক্তাদের সহায়তা, এক্সপোর্ট বিল সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিতকরণ এবং এসএমই ও কৃষি খাতের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণসহ দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এফবিসিসিআই নেতারা আরও দাবি করেন, ঋণ খেলাপির সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বজায় রাখতে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা উচিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সভায় জানান, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোরভাবে কাজ করছে। তিনি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি আবুল কাশেম হায়দার, সাবেক পরিচালক আব্দুল হক, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী (খোকন), প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এসএম ফজলুল হক, এফবিসিসিআইর মহাসচিব মো. আলমগীর, এবং এফবিসিসিআইর সাধারণ পরিষদ সদস্য জাকির হোসেন নয়ন ও জাকির হোসেন প্রমুখ।

 

ভালোবাসা দিবসে ইউটিউবে আসছে তোমায় পাবো কি

অনলাইন ডেস্ক:

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে নাটক নির্মাণের হিড়িক পড়েছে দেশের নানা প্রান্তে। রোমান্টিক থিমে নানা ধরনের গল্প নিয়ে আসছেন তারকারা, এবং এই তালিকায় রয়েছে জনপ্রিয় জুটি ইয়াশ রোহান ও তানজিম সাইয়ারা তটিনী। তারা একসঙ্গে আসছেন একটি নতুন নাটকে, যার নাম ‘তোমায় পাবো কি?’।

নাটকটির পুরো শুটিং হয়েছে চট্টগ্রামে, যেখানে ইয়াশ রোহান অভিনয় করেছেন রুদ্র চরিত্রে। রুদ্র একজন তরুণ গায়ক, যিনি তার সঙ্গীত ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন। তার বিশ্বাস, যদি একটা সঠিক সুযোগ পায়, তবে ভাগ্য বদলাবে। অন্যদিকে, তানজিম সাইয়ারা তটিনী অভিনয় করেছেন চিত্রা চরিত্রে। চিত্রা একটি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবারে বেড়ে উঠেছে এবং রুদ্রর সঙ্গে তার দীর্ঘ কয়েক বছরের সম্পর্ক রয়েছে। রুদ্র যখনই অবসাদে পড়েছে, চিত্রা তার পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সাহস দিয়েছে।

নাটকের কাহিনিতে চিত্রা সিদ্ধান্ত নেয়, পোস্ট-গ্রাজুয়েশন করতে অস্ট্রেলিয়া যাবে, কিন্তু তার পরিবার তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়। চিত্রা যখন রুদ্রর কথা জানায়, তার পরিবার রুদ্রকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়, কারণ সে এখনও বেকার। এদিকে, রুদ্র নিজের ক্যারিয়ারে শক্ত ভিত্তি তৈরি না হওয়ায় বিয়ে করতে অস্বীকার করে। এরপর চিত্রা কষ্ট নিয়ে বিদেশ চলে যায় এবং রুদ্র গানের বড় তারকা হয়ে ওঠে। চিত্রা গ্রাজুয়েশন শেষ করে দেশে ফিরে আসে। তাদের এই পুনর্মিলন কি হবে? সেই উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে নাটকের জন্য।

নাটকটির শুটিং হয়েছে চট্টগ্রামের সিআরবি, বাটালি হিল, পতেঙ্গা, বায়েজিদ লিঙ্ক রোড, পারকি বিচ, নিউ মার্কেট, এবং চারুকলায় ১৩ থেকে ১৭ জানুয়ারি। চিত্রগ্রহণ করেছেন নাজমুল হাসান। নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি। তিনি জানান, “এটি আমার সবচেয়ে আদর ও যত্নে তৈরি করা নাটক। মায়া এবং আবেগ দিয়ে নির্মাণ করেছি, এবং এটি আমার জন্য একটি নতুন এক্সপেরিমেন্ট। রুদ্র ও চিত্রাকে আমি নিজের মনের ভেতরে ধারণ করেছি। দর্শকরা আমাদের কাজ পছন্দ করলে, আমার সমস্ত কষ্ট সার্থক হবে।”

ভালোবাসা দিবসের দিন সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে নাটকটি।

সর্বশেষ খবর

পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬ ড্রোন চালালো চীন

0
অনলাইন ডেস্ক: পানির নিচে একসঙ্গে ছুটল ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন-আর তাতেই বিশ্ব রেকর্ড গড়ল চীন। সুইমিং পুলে চালানো এক পরীক্ষায় কোনো মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই শতাধিক...