Friday, September 25, 2026
27 C
Dhaka
Friday, September 25, 2026

আইএমএফের নতুন শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ পরিস্থিতি স্থিতিশীল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রার শর্ত শিথিল করেছে। আইএমএফ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের ন্যূনতম নিট রিজার্ভ ১ হাজার ৯৪৩ কোটি ডলার রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, যা এখন কমিয়ে ১৭ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া, চলতি ডিসেম্বরের শেষে ১ হাজার ৫৩০ কোটি ডলার রিজার্ভ বজায় রাখার শর্ত ছিল, তবে গত সোমবার পর্যন্ত রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৯০ কোটি ডলার, যা আইএমএফের পরবর্তী ঋণের কিস্তি পরিশোধে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আইএমএফ সম্প্রতি বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সমাপনী সভায়, বাংলাদেশকে বিনিময় হার নির্ধারণে আরও বাজারভিত্তিক পদ্ধতি অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই পদ্ধতি সহজতর করতে শিগগিরই একটি নতুন পদ্ধতি চালু করা হবে।

আইএমএফ দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তার সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া, সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, অর্থ সরবরাহ বাড়ানোর জন্য কোনো নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি করতে পারে, যা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আইএমএফ আরও জানিয়েছে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য একটি পুনর্গঠিত মুদ্রানীতি কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপ ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে বাস্তবায়িত হওয়ার আশা রয়েছে। পাশাপাশি, আইএমএফ আর্থিক তদারকি বাড়ানোর জন্য সময়মতো অর্থনৈতিক সূচক ও নিয়ন্ত্রক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।

ডি-৮ দেশগুলোর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও সহযোগিতা নিয়ে ড. ইউনূসের বার্তা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ২০২১ সালের এপ্রিলে ডি-৮-এর চেয়ারের পদ গ্রহণের পর থেকে বেশ চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ডি-৮ সহযোগিতাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

মিশরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে আজ তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির প্রেক্ষাপটে আমরা প্রথমে সীমাবদ্ধতা ও বাধা-বিপত্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, এরপর ‘বহুবিধ সংকট আমাদের অনেক দেশকে নানাভাবে ভুগিয়েছে’।

বাংলাদেশের বিদায়ী চেয়ার হিসেবে ড. ইউনূস ১১তম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের স্বাগত জানান।

তিনি ঐতিহাসিক কায়রো নগরীতে নিখুঁত আয়োজন ও সদয় আতিথেয়তা প্রদানের জন্য আগামী চেয়ারম্যান ও সম্মেলন আয়োজক দেশ মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, অগ্রগতি ও সহযোগিতার জন্য সংগঠনের নীতির প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের প্রেক্ষিতে আমাকে অবশ্যই মিশর সরকারের প্রশংসা করতে হবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডি-৮-এর চেয়ার থাকাকালে ডি-৮ ইয়ুথ কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা এবং ডি-৮ অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি অনুস্বাক্ষরের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে।

ড. ইউনূস বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অকুণ্ঠ সমর্থন ও সামষ্টিক স্বার্থ অনুধাবন ছাড়া এটি অর্জন করা সম্ভব হতো না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের চেয়ারম্যানশিপে সমর্থন এবং আমাদের সম্মিলিত স্বার্থকে এগিয়ে নিতে যে অঙ্গীকার দেখানো হয়েছে তার জন্য বাংলাদেশ ডি-৮-এর সকল সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, ‘আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে মিশরের কাছে চেয়ারম্যান পদ হস্তান্তর করার এই লগ্নে আমি এই শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘যুবকদের জন্য বিনিয়োগ ও এসএমইকে সহায়তা করা’- নির্ধারণের জন্য প্রেসিডেন্ট এল-সিসি’র প্রশংসা করছি। এটি ডি-৮-এ আমাদের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রধান উপদেষ্টার মতে, ডি-৮ দেশগুলোকে অবশ্যই ভবিষ্যতের অর্থনীতিতে যুব ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তনশীল প্রকৃতির আলোকে শিক্ষাকে পুনরায় আবিষ্কার ও তার অবস্থান পুনঃনির্ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে যায়। ফলে সরকারের পক্ষে তা অনুধাবন এবং কমসূচি বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু সমস্যা মোকাবেলায় আমাদের প্রচেষ্টার সমন্বয় সাধন অব্যাহত রাখতে হবে।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘মিশরের কাছে বাংলাদেশের দায়িত্ব হস্তান্তরের এই মুহূর্তে আমি চেয়ার হিসেবে আমাদের সহযোগিতামূলক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে মিশরের প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি।’

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট আল-সিসির বিজ্ঞ নেতৃত্বে মিশর বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখতে পারে।

ড. ইউনূস বলেন, ‘মিশরের নেতৃত্বে ডি-৮ বিকশিত হোক এবং সদস্য দেশগুলোকে একটি অনিশ্চিত বিশ্বে বৃহত্তর স্বাধীনতা, স্থিতিশীলতা, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করুক।

—–বাসস

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি’র পদক্ষেপ ঘোষণা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার যুদ্ধে অনবরত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আজকের যুদ্ধ স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার। আর এ যুদ্ধে আমরা সবাই যোদ্ধা। এই যুদ্ধে যদি জয়ী হতে হয়, তাহলে অনবরত আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।’

তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরে ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক এক কর্মশালায় যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে ‘অনলাইনে’ সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব বলেন।

দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপি’র প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটির উদ্যোগে মানিকগঞ্জ, নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জ জেলার নির্ধারিত প্রতিনিধিদের জন্য এ প্রশিক্ষণ কর্মসুচির আয়োজন করা হয়।

বিএনপি’র ভাবপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন,‘পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। আপনারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, হত্যার শিকার হয়েছেন, জেল-জুলুম, গায়েবি মামলার শিকার হয়েছেন। অত্যাচার-নির্যাতনের কারণে দিনের পর দিন আপনাদের পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে, ধানক্ষেতে থাকতে হয়েছে। আপনারা সেই পরীক্ষা দিয়ে এসেছেন, কিন্তু পরীক্ষা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সামনে পরীক্ষা আরো রয়েছে- এটি এমন একটি যুদ্ধ, এটি জনগণের পক্ষের যুদ্ধ, এটি স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার যুদ্ধ। এই যুদ্ধে যদি জয়ী হতে হয়, তাহলে অনবরত আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যদি আগামী সাধারণ নির্বাচনের পুলসিরাত পার হতে হয়, তাহলে জনগণের পেছনে আমাদের থাকতে হবে। সেজন্য জনগণের সঙ্গে থাকতে হবে, এবং জনগণকে আমাদের সঙ্গে রাখতে হবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনি এবং আপনার দলের বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই। দুষ্টু লোকদের দুষ্টামি কিন্তু চলছেই, সেটি আমাদের দলের বাইরেই হোক বা দলের ভেতরেই হোক। সেটি আমাদের দেশে হোক বা দেশের বাইরে হোক। কারণ দেশের অর্থ সম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদের দিকে অনেকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।’

এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, এ দেশের মধ্যে যদি বিশৃঙ্খলা লাগিয়ে রাখা যায়, জনসমর্থনহীন সরকার অর্থাৎ যারা জনগণকে রিপ্রেজেন্ট করে না; এমন সরকারকে যদি ক্ষমতায় রাখা যায় তাহলে এদেশ থেকে অনেকে অনেক কিছু লুটেপুটে নিয়ে যেতে পারবে।

তারেক রহমান বলেন, যারা দেশের কথা বলবে, দেশের কথা চিন্তা করবে এরকম কেউ যদি ক্ষমতায় থাকে, তাহলে দেশের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ নিরাপদ থাকবে। যারা শকুনের দৃষ্টিতে এদেশের অর্থ-সম্পদ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, তারাও তখন লোলুপ দৃষ্টিতে তাকাতে দশবার চিন্তা করবে।

তিনি বলেন, ‘চব্বিশের ৫ আগস্টের পূর্ব পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম ছিল স্বৈরাচারকে সরিয়ে দেওয়া। আলহামদুলিল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে স্বৈরাচারের দলবল নির্বিশেষে সকলকে বিদায় করে দিতে আমরা সক্ষম হয়েছি। দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে।’

কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, বিএনপি’র ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটু, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, বিএনপি’র মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রহিমা শিকদার ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (দপ্তরে সংযুক্ত) মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী।

তারেক রহমান বলেন, এখন সংগ্রাম দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার। একই সাথে দেশ গড়ার সংগ্রাম শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক অধিকার রাজনৈতিকভাবে দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, একই সাথে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করার যে সংগ্রাম, সেই সংগ্রাম শুরু হয়েছে। এই সংগ্রামের নেতৃত্ব দিতে পারবেন শুধু আপনারাই। কারণ আপনারা বিএনপি’র শক্তি, আর বিএনপি এটা দিতে পারবে।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র বলতে যা বুঝায়, সংসদীয় গণতন্ত্র বলতে যা বুঝায়, নারীদের অধিকার বলতে যা বুঝায়, মানুষের অধিকার বলতে যা বুঝায়, অতীত ঘাটলে দেখা যাবে বিএনপি সব সময় এসব করেছে। তিনি নেতৃবৃন্দকে বলেন, দেশ এবং দেশের মানুষ আপনাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

—–বাসস

যানজট নিরসনে সরকারের পদক্ষেপ: শীঘ্রই দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশা

যানজট নিরসন ও বায়ুদূষণ রোধে দেশের মানুষ ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

তিনি আজ সকালে বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদার, ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ’ বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ কথা জানান। সড়ক পরিবহন উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা চৌধুরী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বকশ চৌধুরী ও পরিবহন শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, বিদ্যমান রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংস্কার, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনা এবং অসহনীয় যানজট ও বায়ুদূষণ রোধে বর্তমান অর্ন্তবর্তী সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রী, পথচারী নির্বিশেষে সকলকে এ সংক্রান্ত আইন ও বিধি বিধান মেনে চলতে হবে।

সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে সেবায় উন্নতি করতে না পারলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানসহ সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পাশাপাশি যানজটের স্থানসমূহ সঠিকভাবে চিহ্নিত করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেন এবং ড্রাইভার ও গাড়ির মালিকদের হয়রানি বন্ধে সচেষ্ট থাকতে হবে।

সড়ক উপদেষ্টা আরও বলেন, যত্রতত্র পার্কিং ও যাত্রী উঠানামা বন্ধে সুনির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাজধানীর স্কুলগুলোকে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল বাসের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বিশ বছরের পুরনো ও ফিটনেসবিহীন বাসগুলো মে মাসের মধ্যে রাস্তা থেকে তুলে নিতে হবে এবং এ সংক্রান্ত কোনো ধরনের ব্যাংক ঋণের সহায়তার প্রয়োজন হলে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে কষ্ট দেওয়া নয়, ঢাকা শহরের যানজট সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা। এক সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন না হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যত্রতত্র পার্কিং, সুনির্দিষ্ট স্থানে যাত্রী উঠানামা না করা, পুরনো ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন ঢাকা শহরে যানজট সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ।

তিনি স্বল্পকালীন সমাধান হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ে বা পিক আওয়ারগুলোতে একমুখী যানচলাচলের ব্যবস্থা, পার্কিংয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতার সঙ্গে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে ঢাকা শহরের বাস টার্মিনালগুলো এবং রেলওয়ে স্টেশন স্থানান্তরের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ফিটনেসবিহীন, রাস্তায় চলাচলের অনুপযোগী গাড়ী, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী বাসগুলো মালিকদের নিজ দায়িত্বে অপসারণ করার আহ্বান জানান পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, বায়ু দূষণে ঢাকা শহরের মানুষ ভুগছে এবং এ সমস্যা সমাধানে আমাদের অতি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
আদিলুর রহমান খান বলেন, ঢাকা শহরকে যানজট মুক্ত করতে এবং ঢাকাবাসীকে একটি সুন্দর ও নিরাপদ শহর উপহার দিতে আমাদের সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি সড়কে যানজট নিরসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদারগণকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন।

মো. খোদা বকশ চৌধুরী বলেন, ঢাকা শহরের যানজট মুক্ত করতে গাড়ী চালকদের ট্রাফিক রুলস সম্পর্কে বিশদভাবে অবহিত করতে হবে, প্রয়োজনে বিদেশি প্রশিক্ষক এনে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বর্তমানে পরিচালিত ট্রিপ বেইজড ব্যবস্থার সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

এসময় তিনি মহাসড়কে অটো রিক্সা নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।

জুলাই বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে পরিবহন শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে অর্ন্তবর্তী সরকারকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারকে চালকদের জন্য পর্যাপ্ত কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন পুর্নবিবেচনা করতে হবে।

এসময় তিনি সরকারের নেওয়া সকল জনবান্ধব উদ্যোগকে সমর্থন জানাবেন বলে অঙ্গীকার করেন এবং সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

—–বাসস

সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কবলে নিত্যপণ্য বাজার, সরকারের কঠোর পদক্ষেপেও নিরাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে সরকার বদল হলেও চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের তৎপরতা থেকে মুক্তি পায়নি সাধারণ মানুষ। সরকারের নানা উদ্যোগের পরেও এসব সমস্যা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। বিগত সরকারের পতনের পর মাসখানেক বন্ধ থাকলেও এখন আবার সক্রিয় হয়েছে চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট চক্র। এতে চাল, পেঁয়াজ, আলু, রসুন, মাংসসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যই বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

সরকার বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর জন্য শুল্ক ও কর ছাড়ের মতো কিছু পদক্ষেপ নিলেও ব্যবসায়ীরা তা কাজে লাগিয়ে সুবিধা নিচ্ছে। সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি এখন আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে, এবং শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বদল হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাইকারি বাজারে শিম, কাঁচা মরিচ, বেগুন, কাঁচা টমেটোসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। যেমন, বগুড়ার মহাস্থান হাটে শিম প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও ঢাকার খুচরা বাজারে এর দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। কাঁচা মরিচ, বেগুন, টমেটো এবং অন্যান্য শীতকালীন সবজির দামও ঢাকায় অনেক বেশি, যা পাইকারি দামে বিক্রি হওয়ার চেয়ে প্রায় তিন গুণ।

মহাস্থান হাটের আড়তদাররা জানান, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও চাঁদাবাজি চলছে। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকায় আসা মালবাহী যানবাহনগুলোকেও একাধিক স্থানে চাঁদা দিতে হয়। প্রতিটি স্থানে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা নেয় চাঁদাবাজরা।

বর্তমান অন্তর্র্বতীকালীন সরকার বাজারে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নিলেও কার্যকর ফল পাচ্ছে না। এদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, “চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সমাজ থেকে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে, নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া পুলিশ কিছু করতে পারবে না।”

এছাড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, “চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে পণ্যের দাম ৩০ শতাংশ বাড়ছে। সমবায় পদ্ধতি চালু করলে বাজারে অস্থিরতা থাকতো না।”

যদিও সরকারের তরফ থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি তৎপরতা কমছে না, ফলে বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইজতেমা ময়দানে নিষেধাজ্ঞা শীঘ্রই তুলে নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইজতেমা ময়দানে সমাবেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অচিরেই তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানান, যথাসময়ে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) মুন্সীগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি বলেন, “ইজতেমা নিয়ে সহিংসতা বিষয়ে তদন্ত চলছে। সহিংসতাকারীরা কাউকেই ছাড় দেবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, মাওলানা সাদ ও জুবায়ের দুপক্ষই মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছে। অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে এবং তাদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

এছাড়া, তিনি বলেন, “যেকোনো পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের জন্য পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। ১৮৫ জন পুলিশ সদস্য কাজে যোগ দেয়নি, তবে এটি নগণ্য সংখ্যা। বাকি পুলিশ সদস্যরা কার্যকরী অবস্থায় রয়েছে। র‌্যাব ও বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।”

নির্বাচনসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে কোনো অসুবিধা হবে না বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা তুল জান্নাতের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান পরিবেশ উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কৃষি খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, এ সমস্যা সমাধানে কৃষি, পানিসম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ের একযোগ কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএআরএফ) আয়োজনে ‘কৃষিখাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

খরা, অতিবৃষ্টি, লবণাক্ততা ও বন্যার কারণে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, “সমস্যা সমাধানে গবেষণা ও প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।”

পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন টেকসই রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তিনি নিরাপদ ও অরগানিক খাদ্য উৎপাদনের গুরুত্বও তুলে ধরেন এবং সকলকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার দায়িত্বের প্রতি সতর্ক করেন।

“এজন্য নিরাপদ খাদ্যের মেলা আয়োজন জরুরি। একইসঙ্গে কীটনাশক ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন,” যোগ করেন রিজওয়ানা হাসান।

বৈঠকটি বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সবুজের সভাপতিত্বে পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাওসার আজম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। প্রধান আলোচক ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব কৃষিবিদ ড. আলী আফজাল।

বক্তারা কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন এবং টেকসই কৃষি উৎপাদন, জলবায়ু সহনশীল ফসল এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে কৃষি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ, নীতিনির্ধারক এবং সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।

নতুন বছরের পাঠ্যপুস্তক সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করবে সরকার: শিক্ষা উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, পাঠ্যপুস্তক যথাসময়ে মুদ্রণ, বাঁধাই, বিতরণ এবং সরবরাহ করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক কাজ। তিনি জানান, সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

তিনি বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই, বিতরণ ও সরবরাহ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এই কথা বলেন।

শিক্ষা উপদেষ্টা আরও জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই ছাপানোর কাজ অনেক দূর এগিয়েছে এবং যথাসময়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছে বই পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের কাজ কিছুটা ধীরগতির হওয়ায়, এই কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. এম আমিনুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান এবং বিভিন্ন প্রিন্টিং প্রেসের প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এছাড়া, সভায় প্রেস মালিকরা তাদের সমস্যাগুলি তুলে ধরলে, শিক্ষা উপদেষ্টা তাদের দ্রুত সমাধান দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং জাতীয় স্বার্থে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের কাজ দ্রুত করার আহ্বান জানান।

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করাই ফিল সিমন্সের লক্ষ্য

অনলাইন ডেস্ক:

ওয়ানডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর, টি-২০ সিরিজে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ হাতে রেখেই ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে লিটন দাসরা। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে চান বাংলাদেশ দলের কোচ ফিল সিমন্স।

প্রথম টি-২০ ম্যাচে সাত রানে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ২৭ রানে জয়ের পর বাংলাদেশ সিরিজ নিশ্চিত করেছে। আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোরে তৃতীয় এবং শেষ টি-২০ ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

ম্যাচের আগে সিমন্স বলেন, “কোনো দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি যেভাবে কাজ করি, এখানে একইভাবে করছি। হোয়াইটওয়াশ করতে পারব কিনা জানি না, তবে সিরিজ জেতা বড় বিষয়। শেষ ম্যাচটাও জিততে চাই, জয় দিয়ে সিরিজ শেষ করতে চাই এবং হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে চাই। ছেলেরা জানে তাদের কী করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি প্রতিটি ম্যাচের আগে বিশ্বাস করি, জয় সম্ভব। ওয়ানডে সিরিজে আমরা কোনো ম্যাচ না জিতলেও এখানে এসে আমরা আলোচনা করেছি কীভাবে জেতা সম্ভব।”

ভারতের কাছে হার দিয়ে সুপার ফোর পর্ব শুরু করলো বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দল

অনলাইন ডেস্ক:

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এই হার দিয়ে সুপার ফোর পর্ব শুরু করলো তারা।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ ৩২ বলে ২৭ রানের ভালো সূচনা পায়। তবে ষষ্ঠ ওভারে বাংলাদেশের দুই ওপেনার ফাহমিদা ছোয়া ও মোসাম্মত ইভা সাজঘরে ফিরে যান। ছোয়া করেন ১০ রান এবং ইভা করেন ১৪ রান। ২৮ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর বাংলাদেশ মিডল অর্ডার ব্যাটাররা পুরোপুরি ব্যর্থ হন। পরবর্তী ছয় ব্যাটারের কেউই দুই অংকের রান করতে পারেননি। ফলে বাংলাদেশের সপ্তম উইকেট ৪৬ রানে পতিত হয়। তবে নবম ও দশম ব্যাটার, নিশিতা আকতার নিশি (১০) ও হাবিবা ইসলাম (১১) দুই অংকের রান সংগ্রহ করে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ৮০ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

ভারতের জন্য ৮১ রানের সহজ লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে ২২ রানে ২ উইকেট হারায় তারা। বাংলাদেশের লেগ-স্পিনার আনিসা আকতার সোবা দুটি উইকেট নেন। এরপর তৃতীয় উইকেট জুটিতে গোঁগাদি তৃষা ও অধিনায়ক নিকি প্রসাদ ৬৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ৪৭ বল বাকি থাকতে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন। তৃষা ১০টি চারে ৫৮ রান করেন, এবং প্রসাদ ২২ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দল ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার ফোরে উঠেছিল। আজ শুক্রবার তারা সুপার ফোরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের বিরুদ্ধে খেলবে।

সর্বশেষ খবর

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল ৫ দিনের রিমান্ডে

0
নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের পাঁচ...