অনলাইন ডেস্ক:
দেশের আদিবাসীদের স্বীকৃতি ও তাদের উপর হামলার প্রতিবাদে বোরবার ১৮৩ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক বিবৃতি দিয়েছেন। তারা বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তক থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দটি মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত এবং আদিবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এছাড়া তারা আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার দাবি জানান।
বিবৃতিতে নাগরিকরা বলেন, “আমরা দেশের সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। একটি উগ্র জাতিবাদী সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) পাঠ্যপুস্তক থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দের গ্রাফিতি সরিয়ে ফেলেছে। এর প্রতিবাদে আদিবাসী ছেলেমেয়েদের ওপর হামলা এবং প্রতিবাদী মিছিলে পুলিশ বাহিনীর হামলা আমাদের গভীরভাবে চিন্তিত করেছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ শিক্ষাবছরের পাঠ্যপুস্তকে ‘আদিবাসী’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আদিবাসীদের অপরায়ণ এবং বৈষম্যের দিকে ঠেলে দেয়। ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে আদিবাসীদের জাতিসত্ত্বার কোন স্বীকৃতি না থাকায় তারা আজও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত।
বিবৃতির নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন, পাঠ্যপুস্তক থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দ সম্বলিত গ্রাফিতি সরানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে এবং এর জন্য এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। তারা বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, ‘আদিবাসী’ শব্দটি শুধুমাত্র ‘ভিন্ন’ বা ‘অন্যান্য’ নৃ-গোষ্ঠী দিয়ে প্রতিস্থাপনযোগ্য নয়। এটি একটি সুনির্দিষ্ট জাতিসত্ত্বার পরিচয়, যা ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত।”
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রীয় মদদে আদিবাসীদের ওপর আক্রমণ এবং নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে খাগড়াছড়িতে আদিবাসীদের ওপর হামলার পাশাপাশি, ডিসেম্বর মাসে বান্দরবানের লামা উপজেলায়ও একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। ১৫ জানুয়ারির আদিবাসী হত্যার ঘটনার পর ১৬ জানুয়ারিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদী মিছিলে পুলিশের আক্রমণ একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
নাগরিকরা তাদের বিবৃতিতে দাবি করেন, “আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা, তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং সংবিধানে আদিবাসীদের জন্য ‘উপজাতি’ বা ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে ‘আদিবাসী’ শব্দটি যুক্ত করতে হবে।” তারা আরও বলেন, “আদিবাসীদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং পার্বত্য অঞ্চলে সেনাবাহিনী ও অলিখিত সেনাশাসন অপসারণ করতে হবে।”
বিশিষ্ট নাগরিকদের বিবৃতিতে উপস্থিত হয়েছেন স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালসের মার্কেটিং অফিসার তাইনুর রহমান, কবি ও অধিকার কর্মী ফেরদৌস আরা রুমী, লেখক ও সাংবাদিক আরিফ রহমান, ব্যবসায়ী জামাল আবেদীন ভাস্করসহ ১৮৩ জন নাগরিক।